'ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে পরিশ্রম করছে এনবিআর'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে পরিশ্রম করছে এনবিআর’

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করছে এনবিআর। অন্যদিকে ভ্যাট আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এসব আলোচনা-সমালোচনার বেশিরভাগই পৌরানিক কল্প কাহিনী। এতে ভ্যাট আইন নিয়ে সত্যটা উঠে আসছে না।

আজ শনিবার প্রস্তাবিত বাজেট ও নতুন ভ্যাট আইন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। আইডিইবি ভবনের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যাক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (বিটিটিআই)।

NBR

প্রস্তাবিত বাজেট ও নতুন ভ্যাট আইন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ছবি: মহুবার রহমান

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজেট ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও মসৃণ, জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব করতে আমরা অনেক উপাদান পাচ্ছি। এসব উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতের পথ নকশা তৈরি করছি।

তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে অর্থবিল পাস হলে বাজেটের চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যাবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রণোদনার আমাদের অব্যাহত প্রয়াস আরও হবে।

নজিবুর রহমান বলেন, নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে সত্য তুলে ধরতে; এই আইনের সুবিধার বিষয়ে জনগণকে জানাতে হবে। বাজেট ও ভ্যাট আইন নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে- আলোচনায় তা তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে রাজস্ব আহরণ, বাজেট ও ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন ও পার্টনারশিপ নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। সবার সাথে হাতে হাত ধরে কাজ করতে চাই আমরা; এনবিআর বহুদূর যাবে। সবাই মিলে একসঙ্গে আগাতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভারতের জিএসটি আইনে যে সব পণ্যে ৫-১২ শতাংশ ভ্যাট বসানো হয়েছে- আমাদের দেশে সে সব পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের সর্বোচ্চ ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ হলেও ভারতের ভ্যাট হার ১৮-২৮ শতাংশ। দেশের মানুষের কাছে এই বিষয় স্পষ্ট করা উচিৎ।

প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, মতবিনিময়, সংলাপ এনবিআরের বৈশিষ্ট। এর মাধ্যমে অস্পষ্ট বিষয়গুলো দূর হয়। ভ্যাট আইন নিয়ে শুরুতে অনেক অস্পষ্টতা থাকলেও বর্তমানে সেটা কমেছে। জনগণ ভ্যাট সম্পর্কে জানতে পারছে।

চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭২-৭৩ সালে আমাদের রাজস্ব আয় ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে রাজস্বের পরিমাণ ছিল নজিরবিহীন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৭ শতাংশ। দেশকে এগিয়ে নিতে জনসাধারণের প্রচেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে স্বাধীনতার পরপরই। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছর আমাদের ২৫ লাখ ই-টিআইএন নিবন্ধনের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছিল। ইতোমধ্যে ২৯ লাখ নিবন্ধণ হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে আরও ৫০ হাজার ই-টিআইএন নিবন্ধন করা যাবে। কর দিয়ে বাহাদুরি দেখাচ্ছে জনগণ। যে পরিবারের সবাই রাজস্ব দেবে সে পরিবারকে কর বাহাদুর পরিবার ঘোষণা করা হবে।

বিটিটিআইয়ের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে কর্মশালা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনবিআর সাবেক সদস্য এসএম আমিনুল করিম, বর্তমান সদস্য পারভেজ ইকবাল, লুৎফর রহমান, রঞ্জন কুমার ভৌমিক, ঢাকা দক্ষিণ কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, এলটিইউ কমিশনার মতিউর রহমান প্রমুখ।

অর্থসূচক/রহমত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ