'তামাকপণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব জনস্বাস্থ্যবিরোধী'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘তামাকপণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব জনস্বাস্থ্যবিরোধী’

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে গুল-জর্দ্দার মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকের করহারও বাড়ানো হয়নি। ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি সাপেক্ষে সস্তা থেকে যাচ্ছে তামাকদ্রব্য।

প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী বলে উল্লেখ করে তামাকবিরোধী কয়েকটি সংগঠন।

Progya

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর সংবাদ সম্মেলন।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সের (আত্মা) উদ্যোগে এই বাজেট প্রতিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান।

এতে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী। গত এক বছরে জনগণের মাথাপিছু আয় ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতিও হয়েছে। মাথাপিছু আয় এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে তামাকপণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা মানে ভোক্তার কাছে এগুলো আরও সহজলভ্য হওয়া। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে; আর বিএটিবির মতো বহুজাতিক তামাক কোম্পানি লাভবান হবে।

অন্যদিকে সিগারেটের নিম্নস্তরকে ভেঙ্গে দেশি এবং আন্তর্জাতিক দুইটি স্তরে বিভক্ত করে তামাক কর-কাঠামোর জটিলতা বাড়ানো হলো। এমনকি কার্যকর তামাক কর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন- তার প্রতিফলন নেই এবারের বাজেট প্রস্তাবনায়।

তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকারী কোম্পানির নিম্ন মূল্যস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ২৩ টাকার স্থলে ২৭ এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা করা হয়েছে। দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রায় ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। তবে এডভ্যালোরেম পদ্ধতি বহাল থাকায় এই দুইটি পণ্যের মূল্য যতটুকু বাড়বে- তার সিংহভাগই তামাক কোম্পানিগুলোর পকেটে যাবে।

প্রজ্ঞা ও আত্মা জানিয়েছে, বাংলাদেশে অর্ধেকেরও বেশি তামাক ব্যবহারকারী ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা ও গুল) সেবন করে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে সেগুলোর উপর কর বাড়ানো হয়নি। এতে বিশাল জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকছে। ফলে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

বাজেট বক্তৃতায় আগামী ৩ বছরের মধ্যে বিড়ি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বিড়ির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিড়ির মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হলেও এবার ৪১ দশমিক ৩৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

নিম্নস্তরের সিগারেট (১০ শলাকার প্যাকেট) কমপক্ষে ৪০ টাকা; উচ্চস্তরের সিগারেট ৭০ টাকা; প্রিমিয়াম স্তরে ১২০ টাকা নির্ধারণ; বিড়ি (২৫ শলাকা) ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টার বিহীন এই বিভাজন বাতিল করে  বিড়ির উপর ১০.১৩ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা করেছে প্রজ্ঞা ও আত্মা। একইসঙ্গে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের প্রতি ২০ গ্রামে ১৬ টাকা কর আরোপ করে এসআরও এর মাধ্যমে খুচরা মূল্য কমপক্ষে ৩২ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে সংগঠনগুলো।

অর্থসূচক/আজম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ