সাকিব-রিয়াদ নৈপুণ্যে অবিশ্বাস্য নান্দনিক জয়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সাকিব-রিয়াদ নৈপুণ্যে অবিশ্বাস্য নান্দনিক জয়

ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না। ২৬৬ রানের বেশ বড়সড় লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গিয়ে দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে যান সাম্প্রতিক সময়ে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান তামিম। তারপর মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে আরও ৩ উইকেটের পতন। এমন একটি নাজুক জায়গা থেকে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরে আসতে পারবে অতি আশাবাদিরাও হয়তো তেমনটি ভাবতে পারেননি। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টাইগাররা শুধু ম্যাচেই ফিরে আসেনি; ছিনিয়ে নিয়েছে এক অবিশ্বাস্য জয়। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ৫ উইকেটের ব্যবধানে।

দুর্দান্ত এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে খেলতে পারার সম্ভাবনাটাকেও জাগিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে টিম বাংলাদেশ। আগামীকালের ম্যাচে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। এমনকি ম্যাচটি টাই বা পরিত্যাক্ত হলেও সেমিফাইনালে যাবে বাংলাদেশ।

প্রথম চার ব্যাটসম্যানের দ্রুত বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরই মধ্যে  বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের এক জুটি গড়েন তারা।

Sakib-Riad

সাকিব ও রিয়া-যাদের হাত ধরে অবিশ্বাস্য জয়

তীব্র চাপের মধ্যে দলের হাল ধরলেও এক মুহুর্তের জন্য সাকিব ও রিয়াদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রানের চাকা সচল রাখেন। ৪১ ওভারের আগে পর্যন্ত রিকোয়ার্ড রানরেট ৭ এর উপড়ে উঠেনি। ৪১ তম ওভারে তা সাতের উপরে উঠলে ছিল মাত্র পরবর্তী ২ বল পর্যন্ত। এর পর রিকোয়ার্ড রানরেট ফের ৭ এর নিচে নেমে আসে।

মাত্র ১৫৭ বলে দুজনে দেড়শ রান সংগ্রহ করেন।

আজকের ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি বড় প্রাপ্তি সাবিক ও রিয়াদের সেঞ্চুরি। এক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দু’জন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরী খুব বিরল ঘটনা।

এ জুটির সংগ্রহ করা ২২৪ রান বাংলাদেশের পক্ষে কোনো জুটির সর্বোচ্চ রান। এর আগের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে এই জুটি ১৭৮ রান সংগ্রহ করেন।

Sakib

সাকিবের ড্যাশিং শট

বিদায় নেওয়ার আগে দলকে উপহার দেন ১১৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস, যাতে ছিল ১১টি চার ও একটি ছক্কার মার। মাঠ ছাড়ার আগে নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি বোলার ট্রেন্ট বোল্টকে পরপর দুটি চার মেরে দলকে জয়ের একদম কাছে পৌঁছে দেন তিনি। তবে পরে এই পেসারের বলেই বোল্ড হয়ে সাজ ঘরে ফিরে যান।

দলকে তরী একেবারে কিনারে এনে দিনের সেরা ব্যাটসম্যান সাকিব বোল্ড হয়ে গেলেও রিয়াদ ছিলেন ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। দলের জয় নিশ্চিত করেই তিনি থামেন। তার হাঁকানো দুর্দান্ত এক চারেই দল ২৬৬ রানের টার্গেট পেরিয়ে যায়। ১৬ বল বাকী থাকতেই রান হয়ে যায় ২৬৮।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আজকের ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের জন্য ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পুরো ৫০ ওভার খেলে তারা ৮ উইকেটের বিনিময়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কিউই ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেইলর সর্বোচ্চ ৬৩ এবং অধিনায়ক উইলিয়ামস দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়া গাপটিল ৩৩, ব্রুম ৩৬ ও নিশাম ৩৩ রান সংগ্রহ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে মোসাদ্দেক হোসেন বোলিংয়ে সেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে ১৩ রানে ৩ উইকেট সংগ্রহ করেন। এছাড়া তাসকিন ২ টি এবং মুস্তাফিজ ও রুবেল ১টি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।

Mahmudullah-Celebration

মাটিতে সেজদা দিয়ে সেঞ্চুরীর জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ

২৬৬ রানের টার্গেট তেমন বড় না হলেও বাংলাদেশের মতো ধারাবাহিকতাহীন দলের জন্যে তেমন সহজও নয়। তবু ভরসা ছিল আগের ম্যাচ দুটিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের ধারাবাহিক নৈপুণ্য। প্রথম ম্যাচে শতক, পরের ম্যাচে ৯৫ রান করা তামিম ইকবাল আজও দলকে একটি নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেবেন এমন স্বপ্ন ছিল সবার। কিন্তু শুরুতেই আশার গুড়ে বালি পড়ে। ম্যাচের প্রথম ওভারে দ্বিতীয় বলে টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান। তিনি অবশ্য রিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

তামিমের পর ক্রিজে নামা সাব্বির রহমান পরপর দুই বলে চার হাঁকিয়ে দারুণ সম্ভাবনার আভাস দিয়েছিলেন কিন্তু ওই আভাস পর্যন্তই। সেই ৮ রান সম্ইবল করেই তিনি ফিরে যান টিম সাউদির বলে।

উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে ক্যাচ দিয়ে সাব্বির ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০/২।

টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ১৩ বলে ৩ রান করতে সক্ষম হন। পাঁচ ওভার শেষ বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৪/৩।

Mahmudullah-1

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের একটি দুর্দান্ত শট

ম্যাচের এমন পরিস্থিতিতে মুশফিকুর রহীম আর সাকিব আল হাসান তখন ক্রিজে। এ দুজনের দায়িত্বশীলতা আর পারফরম্যান্সের উপরই অনেকটা নির্ভর করছিল ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু হতাশার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে মিলানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান মুশফিক। এর আগে তিনি রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন ৪টি।

১২ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৫/৪। সাকিবের রান তখন ৩। এ সময়ে তার সঙ্গে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর এর পর থেকে ভোজবাজির মতো বদলে যেতে থাকে ম্যাচের চিত্র। দুই কাণ্ডারি প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন।

আর এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে রচিত হয় এক মহাকাব্য। বাংলাদেশের জন্য পয়া এই মাঠে ১১ বছর আগে অস্ট্রলিয়াকে বধ করে ক্রিকেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছিল টাইগাররা।

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (গাপটিল ৩৩, রনকি ১৬, উইলিয়ামসন ৫৭, টেইলর ৬৩, ব্রুম ৩৬, নিশাম ২৩, অ্যান্ডারসন ০, স্যান্টনার, মিল্ন ৭, সাউদি; মাশরাফি ০/৪৫, মুস্তাফিজ ১/৫২, তাসকিন ২/৪৩, রুবেল ১/৬০, সাকিব ০/৫২, মোসাদ্দেক ৩/১৩)।

বাংলাদেশ: ৪৭.২ ওভারে ২৬৮/৫ (তামিম ০, সৌম্য ৩, সাব্বির ৮, মুশফিক ১৪, সাকিব ১১৪, মাহমুদউল্লাহ ১০২*, মোসাদ্দেক ৭*; সাউদি ৩/৪৫, বোল্ট ১/৪৮, মিল্ন ১/৫৮, নিশাম ০/৩০, স্যান্টনার ০/৪৭, অ্যান্ডারসন ০/১৯, উইলিয়ামসন ০/১৯)।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ