‘জনগণ নয়, ভ্যাট ফাঁকি দেয় ব্যবসায়ীরা’  
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘জনগণ নয়, ভ্যাট ফাঁকি দেয় ব্যবসায়ীরা’  

জনগণ নয়, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট ফাঁকি দেয়। যদি ব্যবসায়ীদের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ক্যাশ রেজিস্ট্রার বা ইসিআর দেয়া যায় তাহলে ভ্যাট ফাঁকি কম বা বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যে আমরা স্বস্তি চাই, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে চাই; সমৃদ্ধি চাই না। সমৃদ্ধির জন্য যদি আমাদের ঘুম নষ্ট হয় তাহলে সেই সমৃদ্ধি আমরা চাই না।

বক্তব্য রাখছেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। ছবি মহুবার রহমান

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কার্যালয়ে ‘নতুন ভ্যাট আইনে ভোক্তাদের লাভ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোলাম রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তেমন কোনো আর্থিক সংস্কার করেনি। আমরা সংস্কার ও উন্নয়ন চাই। সাথে সাথে আমরা চাই জীবন ধারণের ব্যয় যাতে না বাড়ে, দ্রব্যমূল্যের দাম যাতে না বাড়ে।

তিনি বলেন, বাজেট প্রস্তাবনার পর ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।ধারণা করা হচ্ছে- এ বাজেট পাস হলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হবে, জীবন ধারণ ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।

অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনসাধারণ ও তাদের স্বার্থে বাজেট নিয়ে আলোচনা করবেন। বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে একটি জনবান্ধব করনীতি জাতিকে উপহার দেবেন।

নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে বলেন, এনবিআর বলছে নতুন ভ্যাট আইনে জীবন ধারণের ব্যয় বাড়বে না। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা নানা কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়বে। এ আইনে সকল পণ্যে ১৫% কথা বলা হয়েছে। ভ্যাট দেয় ভোক্তা, আদায় করে ব্যবসায়ী। দেখা যাচ্ছে ভ্যাট ব্যবসায়ী সংগ্রহ করলেও তা সঠিকভাবে সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে না। এসব অসাধু ব্যবসায়ী তো একদিনে সৎ হয়ে যাবে না। যেহেতু বলা হচ্ছে সকল পণ্যে ১৫% ভ্যাট আরোপ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ১৫% হারে ভ্যাট আদায় করবে। সে ভ্যাট কতটুকু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে তাও সন্দেহ আছে। ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের আশঙ্কা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কার্যালয়ে ‘নতুন ভ্যাট আইনে ভোক্তাদের লাভ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট থাকবে না বলা হচ্ছে। এনবিআর ভ্যাট অব্যাহতির যে তালিকা করেছে তাতে শুকরের মাংস, খচ্চরের মাংস, গাঁধাসহ অনেকগুলো অপ্রাসঙ্গিক পণ্য অন্তভূর্ক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সংখ্যা বেড়েছে তবে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে গেছে। তালিকার যে গ্রহণযোগ্যতা তা হারিয়েছে।

ভ্যাট ১৫% সম্পর্কে গোলাম রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে ভ্যাট মাল্টিপল রেট ছিল। এর সুবিধা ছিল কিছু কিছু পণ্যে দাম বেশি ও কম ছিল। ১৫% ভ্যাট নতুন কিছু নয়। এটা আগেও ছিল এখন এটা সার্বজনীন করা রয়েছে। যেসব পণ্যে ১৫% এর নিচে ভ্যাট ছিল সেসব পণ্য অব্যাহতির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে তিনি চায়ের উদাহরণ দেন। চায়ে আগে ৪% ভ্যাট থাকলেও এখন ১৫%। কিন্তু চা তো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এতে কি দ্রব্যমূল্যের ওপর প্রভাব ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না?

তিনি বলেন, কিছু কিছু পণ্যে ভ্যাট নেই কিন্তু সম্পূরক শুল্ক আছে। সাবান, টুথপেস্ট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হলেও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। সম্পূরক শুল্কের কারণে দাম বাড়বে না- এটা কিভাবে হয়, বোধগম্য নয়। দ্রব্যমূল্যে আমরা স্বস্তি চাই, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে চাই; সমৃদ্ধি চাই না। সমৃদ্ধির জন্য যদি আমাদের ঘুম নষ্ট হয় তাহলে সেই সমৃদ্ধি আমরা চাই না। যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় বাদ গেছে তাতে ভ্যাট সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি বা কমানো হোক।

দ্রব্যমূল্যে আমরা স্বস্তি চাই, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে চাই; সমৃদ্ধি চাই না। সমৃদ্ধির জন্য যদি আমাদের ঘুম নষ্ট হয় তাহলে সেই সমৃদ্ধি আমরা চাই না।

বাসস্থান আমাদের সকলের মৌলিক অধিকার। দেশের মানুষের অবস্থার উন্নতি হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সবাই একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই চায়। কিন্তু বাসস্থানের মূল্য অনেক বেশি। রডের ওপর ভ্যাটের কারণে দাম বাড়ছে। এতে তো বাসস্থান যে মৌলিক অধিকার তা রক্ষা করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।

আয়কর বিষয়ে গোলাম রহমান বলেন, দেশে ১২-১৩ লাখ মানুষ আয়কর দেয়। ১৬ কোটির মধ্যে কমপক্ষে ২৫-৩০ লাখ লোকের কর দেয়ার ক্ষমতা আছে। এনবিআর করনেট বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তা আরও বাড়ানো দরকার। আয়কর থেকে ১ লাখ কোটি টাকা আদায় করা হলে অবশ্যই সেটা ভালো।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিষয়ে গোলাম রহমান বলেন, পানির দাম গতবছর ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পানির জন্য হাহাকার চলছে। যদি ভ্যাটের কারণে দাম আরও বাড়ে তাহলে তা দূর্ভাগ্যজনক ছাড়া আর কিছুই না। আগে বিদ্যুতের তীব্র সংকট থাকলেও এখন তেমন নেই। সরকার দ্রুত বিদ্যুৎ পেতে কুইক রেন্টাল চালু ও বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেখা যাচ্ছে কুইক রেন্টালের গতি দ্রুত চলছে আর বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র শামুকের গতিতে চলছে। কুইক রেন্টালে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম বেশি, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। আর বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। অর্থমন্ত্রী যে ২০১৮ সালের পর কুইক রেন্টাল নবায়ন না করার ঘোষণা দিয়েছেন তা যেন রক্ষা করেন।

গ্যাসের দাম বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যখন এলএনজি আমদানি করা হবে তখন গ্যাসের দাম বাড়বে। কিন্তু তার আগেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া ঠিক না। আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি, আশা করি সুবিচার পাবো। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পেট্রোল, পানির মূল্য ভ্যাটের কারণে যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য এনবিআর থেকে নিশ্চয়তা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংকের সুদ যদি হয় ৪% আর মূল্যস্ফীতি ৫-৬% হয়, তাহলে গ্রাহক যে ব্যাংকে অর্থ রাখছে তা কি বাড়ছে? তারপর যদি আবগারি শুল্ক বেশি দিতে হয়, তাহলে গ্রাহক আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যাংকে লুটপাট হচ্ছে। যারা ব্যাংকে লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর হচ্ছি না, আমরা অর্থ আদায় করছি ব্যাংক যারা বাঁচিয়ে রাখতে অর্থের যোগান দিচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য কি?

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এনবিআর সদস্য ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক রেজাউল হাসান, এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহরিয়ার মোল্লা, সিরাজুল ইসলামসহ ক্যাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/রহমত/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ