২৫০০ টাকার মোবাইলে ৮৬৩ টাকা কর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

২৫০০ টাকার মোবাইলে ৮৬৩ টাকা কর

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫০০ টাকার মোবাইল সেটে ৮৬৩ টাকা রাজস্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের (বিএমপিসিএ) সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তোপখানা রোডের নির্মল সেন মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে সহজলভ্য হ্যান্ডসেট ক্রয়ে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে হ্যান্ডসেটের ওপর বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি করারোপ করেছে। ফলে সহজলভ্য হ্যান্ডসেট দিবা স্বপ্ন হয়ে যাবে।

smartphones

বিভিন্ন ব্রান্ডের স্মার্টফোন। ফাইল ছবি।

মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, বর্তমানে ২৫০০ টাকার নিচে কোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোন পাওয়া যায় না। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫০০ টাকা মূল্যমানের মোবাইল ফোনে একজন গ্রাহককে রাজস্ব দিতে হতো প্রায় ৫৯৪ টাকা। এরমধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১ শতাংশ সারচার্জ, ২ শতাংশ অগ্রীম আয়করসহ মোট পরিমাণ ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এখন ফলে ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন কিনলে গ্রাহককে রাজস্ব
দিতে হবে ৪৭৫০ টাকা। যা বিশ্বের কোন দেশে নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশিয় কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে এটা ইতিবাচক। কিন্তু মডেম, মেমোরি কার্ডসহ এক্সেসরিজ আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। দেশে মোবাইল ফোন ও এক্সেসরিজ শিল্প গড়ে উঠা পর্যন্ত মোবাইল ফোনের ওপর রাজস্ব প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন তিনি।

বিএমপিসিএ সভাপতি আরো বলেন, সকলের ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে স্বল্প মূল্যে মোবাইল ফোন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ পথে ভুয়া আইএমইআই নম্বরযুক্ত ফোন আমদানির ফলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হলেও সনাক্ত করা যাচ্ছে না। রাজস্ব প্রত্যাহার না হলে অবৈধ পথে মোবাইল আমদানি উৎসাহিত হবে।

১০০ টাকার কথা বললে ৫৪ টাকা রাজস্ব দিতে হয় উল্লেখ করে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, টেলিকমিউনিকেশন খাত ছাড়া কোন খাতে চক্রবৃদ্ধি হারে রাজস্ব আদায় করা হয় না। মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১ শতাংশ সারচার্জসহ মোট ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ রাজস্ব দিতে হয়। এছাড়া সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগি, অপারেটদের কর্পোরেট ট্যাক্স, আইসিএক্স, আইজিডব্লিও, এনটিটিএন, সামাজিক সুরক্ষা করসহ মোট ৫৪ শতাংশ রাজস্ব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একজন গ্রাহকের কথা বলার ওপর থেকে কেটে নেয়া হয়। রাজস্ব নামের এ ডিজিটাল অত্যাচার থেকে গ্রাহকে মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করেন তিনি। এছাড়া কলড্রপ, নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা, অফারের ফাঁদে ফেলে গ্রাহক থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫০০ টাকার মোবাইল সেটে গ্রাহককে ৮৬৩ টাকা রাজস্ব দিতে হবে।

ইন্টারনেট নিয়ে অভিযোগ করে মহিউদ্দীন বলেন, দেশের ৯৪ শতাংশ অর্থাৎ ৭ কোটি মানুষ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এখন ইন্টারনেটের অফার মানেই প্রতারণার ফাঁদ। মোবাইল অপারেটররা প্রতি গিগাবাইট ২৬ পয়সা কিনে ২৭৪ টাকায় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। গ্রাহকরা গড়ে ৩৭১ মেগাবাইট ইন্টারনেটও ব্যবহার করতে পারে না। প্যাকেজে প্রলুদ্ধ করে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও এখানে সরকারের কোন মনিটরিং নেই।

বাজেটে মোবাইল ব্যাংকিং এর চার্জ কমানোর বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট প্রস্তাব না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং এ বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় হলেও সার্ভিস চার্জ সবচাইতে বেশি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বেশি পায়। প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যা আগেও ছিল। দেশে প্রায় ৬ লাখ মোবাইল ব্যাংকিং রিটেইলার থাকলে মনিটরিং অভাবে তারা ই-টিআইএন ছাড়াই ব্যবসা করছে।

ই-বর্জ্য সম্পর্কে তিনি বলেন,মোবাইল ও মোবাইল এক্সেসরিজের ই-বর্জ্য পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। প্রস্তাবিত বাজেটে ই-বর্জ্য পরিশোধনাগার তৈরির বিষয়ে কোন দিকনির্দেশনা নেই। দেশে প্রতিবছর ৩ কোটি মোবাইল ফোন বিক্রি হয়। এসব ফোন নষ্ট হয়ে ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা  বাজেট থেকে ই-বর্জ্য খাতে বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

দেশের ৭ কোটি মানুষ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

মহিউদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, সরকার থ্রি-জি চালু করেছে। মোবাইল ফোনে এত বেশি রাজস্ব থাকায় মানুষ এতভালো ফোন কিনতে পারেনি। ফলে বেশিরভাগ মানুষই থ্রি-জি সুফল মানুষ পায়নি। এখন ফোর-জি চালুর পদক্ষেপ নিচ্ছে, আবার মোবাইল ফোনের ওপর রাজস্ব বৃদ্ধি করছে।

রাজস্ব বৃদ্বির ফলে উচ্চমূল্যের কারণে ফোর-জি সম্বলিত মোবাইল সেট মানুষ কিনতে পারবে না। সেজন্য তিনি মোবাইল ফোনের ওপর সব ধরণের রাজস্ব প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অর্থসূচক/রহমত/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ