২০১৭ সালে তামিমের ব্যাটিং গড় ৭৯
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

২০১৭ সালে তামিমের ব্যাটিং গড় ৭৯

২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপের পর থেকে বদলে যাওয়া এক তামিম ইকবালকে দেখছে ক্রিকেটে বিশ্ব। এই সময়ের মধ্যে ২৬টি ওডিআই (একদিনের আন্তর্জাতিক) ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৫ শতকসহ তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৪১৩ রান; ব্যাটিং গড় ৬১.৪৩। বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের এই ড্যাশিং ওপেনার।

অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালে মানুষের অর্জন সমৃদ্ধ হয়- এই বাক্যের প্রমাণ পাওয়া যায় তামিম ইকবালের ব্যাটিংয়ে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশে এখন তার বিকল্প পাওয়াই দুষ্কর।

Tamim Iqbal

শতকের পর তামিমকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে যান মুশফিক।

একটা সময় তামিমকে ‘রগচটা তরুণ’ হিসেবে চিনতো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নেমে দ্রুত কিছু রান তুলে সাজঘরের দিকে হাঁটতেন তিনি। ফলে শুরুর দিকে স্কোরবোর্ডে কিছু রান যোগ হলেও ব্যক্তিগত অর্জন বলতে তেমন কিছুই ছিল না তামিমের।

সেই ‘রগচটা’ তামিম বদলে গেলেন ২০১৫ সালে। শুরুতে মার মার ভঙ্গির পরিবর্তে সময় নিয়ে রান তোলার দিকে নজর দিলেন তিনি। তামিম এবং দলের জন্য ফলটা আশ্চর্যজনকভাবেই ইতিবাচক হলো। দীর্ঘ সময় টিকে থাকায় ব্যক্তিগত বড় স্কোর করার পাশাপাশি দলের জন্য বড় সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে শুরু করেন তিনি।

২০১৫ সালের শুরু থেকে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত ১০ ওডিআই ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ছিল ২৮৯ রান। বিশ্বকাপের পর ২০১৫ সালের শেষার্ধ্বের ৮ ওডিআইতে তামিমের ব্যাট থেকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছিল ৪৫৩ রান; যা ওই বছরের প্রথম ১০ ম্যাচে করা রানের দেড়গুণ। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পরবর্তী ৮ ম্যাচের মধ্যে ২টি শতক করেছেন এই ড্যাশিং ওপেনার।

Tamims Runs Chart

২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তামিম ইকবালের করা রানের চার্ট।

২০১৬ সালে মোট ৯টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। এই সময়ে ১টি শতকসহ মোট ৪০৭ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে; গড় ৪৫.২২। ২০১৬ সালে একটি শতক এবং দুইটি অর্ধশত রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম। দুই বছরে ব্যাটিংয়ে উন্নতির পুরস্কার হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সনদ পেয়েছেন তিনি। ওই পুরস্কার যেন তাকে আরও ক্ষুধার্থ করে তুললো।

চলতি ২০১৭ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। এর মধ্যে ২টি শতক এবং ৩টি অর্ধশতকসহ মোট ৫৫৩ রান করেছেন তিনি; গড় ৭৯.০০। স্ট্রাইক রেট ৮২.৭৮।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে বাংলাদেশের দুইটি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যথাক্রমে ১২৮ রান এবং ৯৫ রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে স্লেজিংয়ের পরও ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করতে দেখা গেছে তাকে। এমন পরিণত তামিমই বর্তমানে দেশসেরা ব্যাটসম্যান।

শুধু দেশসেরা বললে ভুল হবে; ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত আইসিসির সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকায়ও রয়েছেন তামিম ইকবাল। এই তালিকায় ৩ নম্বরে আছেন তিনি।

Tamim Iqbal

বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের একটি শট।

বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর তালিকার শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। এই সময়ের মধ্যে ৩৩টি ওডিআইতে ব্যাট হাতে ১৯৫৭ রান করেছেন তিনি। আর ১৬৭৬ রান নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। এই সময়ের মধ্যে ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান সত্যিই আশ্চর্যজনক। এই সময়ের ২৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টি জয়; একটি ড্র এবং ৯টিতে পরাজিত হয়েছে টিম টাইগার। এতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন তামিম ইকবাল। ওই ২৪টি ম্যাচের মধ্যে ২৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন তিনি। এর মধ্যে ৪টি শতক করেছেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান। এখন পর্যন্ত ১৬৯ ম্যাচের ১৬৭ ইনিংসে ব্যাট হাতে ৮ শতকসহ ৫৪৫০ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে বিশ্বকাপ পরবর্তী ২৩ ইনিংসেই তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৪টি শতক। বিশ্বকাপের পর খেলা ম্যাচগুলোতে ৪টি ওডিআই শতক এসেছে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটারদের ব্যাট থেকে।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ