হীরার চাইতে দামী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

হীরার চাইতে দামী

অলংকার সভ্যতার প্রাথমিক নিদর্শন হিসেবে পাওয়া যায় ঝিনুক, শামুক বা হাড়ের টুকরা। পরবর্তীতে অলংকার হিসেবে ব্যবহার হয় নানা রকম উজ্জ্বল পাথর এবং আধুনিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের জেমস্টোন (gemstones) বা রত্নপাথর যা স্বর্ণ, রূপা বা তামার উপর বসানো হয়ে থাকে।

তবে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের ধারণাই এই যে, ডায়মন্ড বা হীরকই পৃথিবীতে দাম এবং সৌন্দর্যের দিক থেকে একমাত্র মূল্যবান রত্ন। এর থেকেও অনেক দামী রত্নের অস্তিত্ব আছে পৃথিবীতে। এসব রত্নেরা কিছুটা দুর্লভও বটে। চলুন জানা যাক সেসব দামী ও দুর্লভ রত্ন সম্পর্কে।

বেনিটোইট (Benitoite)

১) বেনিটোইট (Benitoite)

নীল বর্ণের অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই রত্নপাথরের নামের সাথেই মিশে আছে এর একমাত্র বাসস্থানের নাম। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান বেনিটো বিভাগের স্যান বেনিটো নদীর প্রধান শাখার কাছাকাছিই এই পাথরের সন্ধান পাওয়া যায়। যদিও কিছু কিছু উৎস থেকে জানা যায় যে জাপান ও আরকান্সাসে সীমিত পরিমাণ বেনিটোইট পাওয়া যায়।

বেনিটোইটের একটি আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আল্ট্রাভায়োলেট আলোর নিচে যদি একে রাখা হয় তবে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল নীল বর্ণের আলোক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। বেনিটোইটের মূল গাঠনিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে বেরিয়াম, টাইটেনিয়াম, সিলিকন ও অক্সিজেন

পাউড্রেটেইট (Poudretteite)

২) পাউড্রেটেইট (Poudretteite)
যদিও পাউড্রেটেইট প্রথম পাওয়া যায় ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি, কিন্তু নতুন প্রজাতির রত্ন পাথরের স্বীকৃতি পেতে সময়টা গড়িয়ে গিয়েছিলো ১৯৮৭ পর্যন্ত। মূলত কুইবেক প্রদেশের মন্ট সেইন্ট হিলাইর (Mont Saint Hilaire) অঞ্চলেই এই পাথরের প্রাপ্তিস্থান। এর মূল গাঠনিক উপাদানের মধ্যে আছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, বোরন, সিলিকন ও অক্সিজেন।

গ্রান্ডিডায়ারাইট (Grandidierite)

৩) গ্রান্ডিডায়ারাইট (Grandidierite)
নীলাভ সবুজ বর্ণবিশিষ্ট এই খনিজের সন্ধান পাওয়া যায় একমাত্র মাদাগাস্কার অঞ্চলে। যদিও এই খনিজের প্রথম এবং সম্ভবত একমাত্র যে ক্রিস্টালটি, সেটা শ্রীলংকা থেকে আবিষ্কার করা হয়েছিলো। আলেক্সাড্রাইট ও তাঞ্জানাইটের মতো গ্রান্ডিডায়ারাইটও প্লেওক্রোয়িক ধরনের হয়ে থাকে। এই ক্রিস্টালটি নীল, সবুজ ও সাদা রঙের আলোই প্রতিসরিত করতে পারে। এর মূল গাঠনিক উপাদানের মধ্যে আছে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, এলুমিনিয়াম, বোরন ও অক্সিজেন।

মাসগ্রাভাইট (Musgravite)

৪) মাসগ্রাভাইট (Musgravite)

১৯৬৭ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মাসগ্রেভ এলাকায় এই পাথরের খনিজ পাওয়া যায় সর্বপ্রথম। কিন্তু এর বিস্তৃতি কেবল অস্ট্রেলিয়াতেই সীমাবদ্ধ না। কিছু পরিমাণ মাসগ্রাভাইট মাদাগাস্কার, গ্রীনল্যান্ড ও এন্টার্টিকা অঞ্চলেও পাওয়া যায়। এই পাথরের সর্বপ্রথম পাওয়া নমুনাটি ছিলো তুলনামূলকভাবে বেশ বড় যা জেমস্টোন তৈরীর জন্য উপযুক্ত। তবে ধারণা করা হয় যে সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোটামুটি আটখানা মাসগ্রাভাইট খণ্ড বর্তমান। এর মূল গাঠনিক উপাদান হিসেবে আছে ম্যাগনেসিয়াম, বেরিলিয়াম, এলুমিনিয়াম, জিংক, আয়রন ও অক্সিজেন।

জেরেমেজেভাইট (Jeremejevite)

৫) জেরেমেজেভাইট (Jeremejevite)
ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে সাইবেরিয়ার আডুন-চিলন পর্বতে (Adun-Chilon Mountains) এই ধরণের খনিজের সন্ধান পাওয়া যায়। মূলত সাইবেরিয়া অঞ্চলে পাওয়া গেলেও সীমিত পরিমাণে জেরেমেজেভাইট নামিবিয়া অঞ্চলেও পাওয়া যায়। মূল গাঠনিক উপাদান হিসেবে আছে এলুমিনিয়াম, বোরন, অক্সিজেন, ফ্লোরিন ইত্যাদি। এই জেমস্টোনের দৃঢ়তা প্রায় কোয়ার্টজের সমান।

রেড বেরিল (Red Beryl)

৬) রেড বেরিল (Red Beryl)
পান্না বর্গের অন্তর্গত রেড বেরিল (বা স্কারলেট বেরিল) সম্পর্কে প্রথম বিবৃত করা হয় ১৯০৪ সালে। যদিও এর রাসায়নিক গঠন পান্না বা আরো সঠিকভাবে একুয়ামেরিন-এর (Aquamarine; নীলাভ সবুজ বর্ণের পান্না) সদৃশ, তারপরেও রেড বেরিল পান্না হতে অত্যাধিক দুর্লভ। এর বিশেষ লাল বর্ণের জন্য অনেক খনিজবিদের ধারণামতে এটি রুবির গোত্রের অন্তর্গত। রেড বেরিল সাধারণত স্বর্ণের থেকে প্রায় ১০০০ গুন বেশি মূল্যবান। এর মূল গাঠনিক উপাদান হিসেবে আছে বেরিলিয়াম, এলুমিনিয়াম, সিলিকন ও অক্সিজেন।

রত্নপাথর যে কেবল মাত্র মানুষের অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে, এমনটা নয়। তবে পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রায় ৪,০০০ রকমের খনিজ পদার্থ সঞ্চিত আছে, যাদের হয়তো বাস্তবে দেখা সম্ভব হবে না। এই বিপুল সংখ্যক খনিজের মধ্যে রত্নপাথরও যে থাকবে না, সেটাও অসম্ভব।

সূত্র : ইন্টারনেট

অর্থসূচক/ টি এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ