ব্যানারে ৪৭৫, বিক্রি ৫০০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ব্যানারে ৪৭৫, বিক্রি ৫০০

ক্রেতা: ভাই এক কেজি মাংস দেন তো।

বিক্রেতা: দাম কিন্তু ৫০০ টাকা। এক টাকাও কম হবে না।

ক্রেতা: কেন সরকার ৪৭৫ টাকা ঠিক করে দিছে না।

বিক্রেতা: ভাই, এটা তো সরকারি মাংস না। ওই দামে কিনতে চাইলে সরকারের কাছে যান। আমরা পারবো না। নিলে নেন না নিলে কেটে পড়েন।  কল্যাণপুর বাজারে মাংস কিনতে গিয়ে এমন চিত্র উঠে আসে।

ছবি সংগৃহীত

শুধু কল্যাণপুর নয়, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে এখন এমনই বাহাস রাজধানীর মাংসের দোকানগুলোতে। আবার অনেক ক্রেতা মুখ বুঝেই ৫০০ টাকায় মাংস নিয়ে ঘরে ফিরছেন।গত কয়েকদিনে  কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, পলাশী বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত ৪৭৫ টাকা দরে কোনও বাজারে গরুর মাংস হচ্ছে না। বরং তার চেয়ে বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ দরে বিক্রি হচ্ছে। হাড়সহ ৫০০ টাকা থেকে ৫৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

মাংস ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ওই দামে মাংস বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ওই দামে মাংস বিক্রি করতে হলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে।

এমনকি দোকানের সামনে ও দেওয়ালে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ টাকা লেখা ব্যানার বা কাগজের স্লিপ লাগানো থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। রমজানের ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোশেন নির্ধারিত ৪৭৫ টাকা কেজি দরে কোথাও গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়নি।

কারওয়ান বাজারে গরুর মাংসের ব্যবসায়ী সাব্বির হোসাইন রিয়াদ খান অর্থসূচককে বলেন, নির্ধারিত ওই দামে কোনোভাবেই মাংস বিক্রি করতে পারবো না। ওই দামে বিক্রি করতে হলে মাংসের পাশাপাশি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করতে হবে। নিজের মাংস নিজের রেস্টুরেন্ট। তাহলে আর সমস্যা হবে না।

হাতিরপুল বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া বলেন, সরকার নির্ধারণ করে দিলেও ওই দামে আমরা বিক্রি করতে পারবো না। কারণ গরু কিনতে গিয়ে আমাদের খরচ হচ্ছে বেশি। বেশি টাকায় গুরু কিনে কম টাকায় মাংস বিক্রি করলে তো ব্যবসা এমনিকেই গুটিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গরু কিনতে গিয়ে ইজারা বেশি গুণতে হচ্ছে। ফলে ওই টাকার ঘাটতি মেটাতে মাংসের দামও বাড়াতে হচ্ছে। ইজারা সমস্যার সমাধান হলে মাংসের দাম কমবে।

এসব ব্যাপারে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, গাবতলী হাটের ইজারাদার, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করছে। দেশের সাধারণ মানুষকে এর মাসুল দিতে হচ্ছে। এখন ভোক্তাদের থেকে অতিরিক্ত দাম নিয়ে সেই অর্থ ইজারাদার, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, আদালতের আদেশ, সিটি কর্পোরেশনের শর্ত কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না গাবতলী গরুর হাটের ইজারাদাররা। মাংস ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিচারের নামে চাঁদাবাজি করছে ইজারাদারদের নিযুক্ত বাহিনী। রাত ১২টার আগে হাট থেকে গরু বের হতে দিচ্ছে না তারা।

রবিউল আলম বলেন, এসব সমস্যার সমাধান করলে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৩০০ টাকা এবং খাসির মাংসের দাম ৫০০ টাকা করা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ