পাইকারদের ভিড় এখন কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পাইকারদের ভিড় এখন কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে

কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীর বিকিকিনি দেখে যে কারো হয়তো মনে হতে পারে কাল বা পরশু ঈদ। তৈরি পোশাকের (বিশেষ করে জিন্স প্যান্ট) বড় এই পাইকারি বাজারে ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে শবে বরাতের পর থেকেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে ভিড় জমাচ্ছেন এই গার্মেন্টস পল্লীতে।

কেরাণীগঞ্জের পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশীয় চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাকের যোগান দেয় কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী। ঈদ এবং শীত ঋতুকে কেন্দ্র করেই ব্যবসা করেন তারা। তাই তো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শবে বরাতের পর থেকেই বিকিকিনিতে ব্যস্ত এই গার্মেন্টস পল্লী। ছুটির দিনেও ব্যস্ততার শেষ নেই।

কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে চলছে ঈদ মৌসুমের কেনাকাটা। ছবি মহুবার রহমান

ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছে কেরাণীগঞ্জের আলম মার্কেট, আলম মল, নুরু মার্কেট, তানাকা মার্কেট, টোকিও মার্কেট, মসজিদ মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, স্টার মার্কেট, তাছনুর প্লাজা, এন.ই.এন. নুর সুপার মার্কেট, রফিক টাওয়ার, বিক্রমপুর প্লাজা, মাকসুদা গার্ডেন সিটি, আলীমুল্লা মার্কেট এবং এস.আর. শপিংমল। নানা ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি এবং থ্রি-পিসের জমজমাট আয়োজন এসব মার্কেটে।

কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তাদের তৈরি পোশাক বিক্রি হয় স্থানীয় পাইকারী মার্কেট ও শপিং মলে। এই গার্মেন্টস পল্লীতে তৈরি পোশাকের বিক্রি চলে আশপাশের ফুটপাতেও। পাইকারি মার্কেট থেকে পছন্দের পোশাক কিনে পিকআপ ভ্যান বা নৌকায় করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যান বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীরা।

বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেষেই জেলা পরিষদ মার্কেটে অবস্থিত গোলেনুর গার্মেন্টস। ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের জিন্স প্যান্টের সমাহার রয়েছে  এখানে। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন দর কষাকষিতে। সর্বনিম্ন ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকার জিন্স প্যান্ট রয়েছে এই গার্মেন্টসে।

কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে চলছে ঈদ মৌসুমের কেনাকাটা। ছবি মহুবার রহমান

জানতে চাইলে গোলেনুর গার্মেন্টের মালিক মুক্তার দেওয়ান অর্থসূচককে বলেন, এখনই তো বেচাবিক্রির মৌসুম চলছে। তাই একটু ব্যস্ততা। শবে বরাতের পর থেকেই কমবেশি বেচাবিক্রি হলেও আস্তে আস্তে বেচাবিক্রি বাড়ছে। এবার ঈদকে কেন্দ্র করে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার বেচাবিক্রির আশা করছেন মুক্তার দেওয়ান।

কেরাণীগঞ্জের ইসলাম প্লাজায় অবস্থিত আদিবা ফ্যাশনে ক্রেতাদের ভিড় যেন কমছেই না। মেয়েদের থ্রি পিচ, সেলোয়ার, কাতানসহ নানা ধরণের পোশাকের পাইকারী বিক্রি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। আদিবা ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী আলতাব আলী বলেন, আগের তুলনায় এবার এখনও বিক্রি তেমন একটা বাড়েনি। তবে আরও দু একদিন পর বিক্রি বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এন.ই.এন. নুর সুপার মার্কেটের নাসির গার্মেন্টসে ছোটদের নানা রং এবং ডিজাইনের পোশাক পাইকারি বিক্রি হয়। বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ব্যবস্থাপক খাইরুল ইসলাম বলেন, পাইকারি মূল্যে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে সর্বাচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে ছোটদের শার্ট এবং প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। আগামী ১০ রমজানের মধ্যে বিক্রি অনেক বাড়বে।

ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে জিন্স প্যান্ট কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন। তিনি অর্থসূচককে বলেন, প্রতিবছর ঈদের আগে কেরাণীগঞ্জের পাইকারি মার্কেট থেকে  জিন্স প্যান্ট কিনে থাকি। এবারও আসলাম। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকার কাপড় কিনেছি। আরও কিছু কিনবো।

কেরাণীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীতে চলছে ঈদ মৌসুমের কেনাকাটা। ছবি মহুবার রহমান

কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির তথ্যমতে, কেরানীগঞ্জে পোশাক তৈরির জন্য প্রায় আট হাজার কারখানা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০০টি মার্কেট এবং ১০ হাজার দোকান আছে। কারখানাগুলোতে প্রায় ৫০ হাজার নারীসহ অন্তত ২ লাখ  শ্রমিক কাজ করেন।

কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ শেখ  বলেন, এখানকার জিন্স প্যান্টের সুনাম রয়েছে দেশব্যাপী। এছাড়া এখানকার শার্ট এবং পাঞ্জাবির ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন।

তিনি জানান, বিদেশী ব্র্যান্ডের প্যান্ট- শার্টও এখানে তৈরি হয়। জিন্স প্যান্ট ছাড়াও পাঞ্জাবি, ফতুয়া, স্যুট-ব্লেজারসহ নানা ধরণের শীতবস্ত্র এখানে তৈরি হয়। মূলত দুটি ঈদ এবং শীতকে কেন্দ্র করেই আমাদের ব্যবসা হয়ে থাকে।

অর্থসূচক/মেহেদী/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ