ক্রেতা সংকটে পাইকারিতে কমছে ছোলার দাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ক্রেতা সংকটে পাইকারিতে কমছে ছোলার দাম

প্রতি বছর রমজানে ছোলার চাহিদা প্রচুর থাকে। কারসাজির মাধ্যমে ছোলার দাম বাড়ানোর অভিযোগও পাওয়া যায়। কিন্তু এবার রোজার শুরুতেই পাইকারি বাজারে কমেছে ছোলার দাম; চলতি মাসের মধ্যে এর দাম আরও কমতে পারে। ক্রেতা সংকটের কারণে রোজায় প্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যের দাম কমছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, রমজানে ছোলার দাম বাড়ার আশঙ্কায় রমজান মাস শুরুর আগেই অতিরিক্ত পরিমাণে ছোলা মজুদ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ফলে পাইকারি বাজারে ক্রেতা সংকটে ছোলার দাম কমেছে। তবে রমজানের আগে বেড়ে যাওয়া দামেই খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এই খাদ্যপণ্য। আর দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মজুদ ছোলা বিক্রির জন্য দাম কমালেও ক্রেতা নেই।

gram

ছোলা

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে পাইকারিতে প্রতি মণ ভালো মানের ছোলা সর্বোচ্চ ২৬৫০ টাকা দরে (প্রতি কেজি ৭১ টাকা) বিক্রি হয়েছিল। মে মাসে দাম বেড়ে ৩০০০ টাকা দরে (প্রতি কেজি ৮০.৪০ টাকা) বিক্রি হয়েছিল। রোজা শুরুর পর সেই ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকা দরে (প্রতি কেজি ৭২.৩৫ টাকা)। আর নিম্নমানের প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২৪৫০ টাকায় (প্রতি কেজি ৬৫.৬৫ টাকা)।

রমজানের আগে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ছোলার সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। রোজার শুরুতে পাইকারিতে ৮ টাকা করে কমলেও খুচরা বাজারে এখনও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ছোলা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে ইফতারিতে ছোলা খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন রোজদাররা। একইসঙ্গে প্রচুর মৌসুমী ফলও এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অন্যান্য রমজান মাসের তুলনায় এবার এই খাদ্যপণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ট্যারিফ কমিশন ও সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদা ১ লাখ ৪৪ হাজার টন। গত ২০১৬ সালে ২ লাখ ৫৩ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে; যা প্রায় ২১ মাসের চাহিদা পূরণে সক্ষম। গত বছরের আমদানিকৃত ছোলা মজুদ থাকলেও আমদানি কমাননি ব্যবসায়ীরা। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৫৬ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে। এপ্রিল-মে মাসেও এই পণ্য আমদানি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি ছোলা মজুদ রয়েছে।

ব্যাংকে খোলা ঋণপত্র ও কাস্টমসের তথ্য মতে, ফেব্রুয়ারি-মার্চে বুকিং দেওয়া ছোলা বাজারে আসছে এখন। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন ছোলার বুকিং দর ছিল সর্বোচ্চ ৮০০ ডলার বা প্রায় ৬৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি ছোলার আমদানিতে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ৬৪ টাকা।

খাতুনগঞ্জের ছোলার পাইকারি ব্যবসায়ী ও কিং ট্রের্ডাসের মালিক পরিতোষ দে অর্থসূচককে জানান, রমজানে ছোলার দাম বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় রমজানের আগেই অতিরিক্ত ছোলা মজুদ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ফলে পাইকারিতে ছোলার দাম কমলেও খুচরায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আগ্রাবাদের জাফর স্টোরের স্বত্বাধিকারী এনামুল বাবলা বলেন, প্রতি বছর রমজানে ছোলার দাম বাড়ে। তাই রমজানের আগেই ছোলার মজুদ করতে বাধ্য হই। এবার চাহিদা কম থাকায় মজুদ করা ছোলাও বিক্রি হচ্ছে না।

ছোলার দাম কমার প্রসঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, রমজান মাসের আগে মণ প্রতি ৩০০০ টাকা দরে ছোলা বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তখন অতিরিক্ত লাভ করেছেন তারা। যোগানের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় মজুদকৃত ছোলা বিক্রির জন্য দাম কিছুটা কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন দাম কমালেও ক্ষতিতে ছোলা বিক্রি করছেন না তারা।

তারা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের রমজানে ছোলার চাহিদা অনেক কম। তবে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পণ্য বিক্রি করছে- তা কিন্তু নয়। বাজারে ক্রেতা কম; তাই নষ্ট করার চেয়ে কিছুটা কম লাভে পণ্য বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক। আর তারা সেটাই করছেন।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ