মোরা দুর্গত রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা চায় ইউএনএইচসিআর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মোরা দুর্গত রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা চায় ইউএনএইচসিআর

সম্প্রতি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহত হয়েছে ৭ জন। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার একর জমির ফসল। ধ্বংস হয়েছে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কাঁচা বাড়ি।

বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মোরা’য় দুই লাখ ৮৬ হাজার ২৪৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫৯ হাজার ৫২৮টি  ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে ১৯ হাজার ৯২৯টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিজের আশ্রয় ঠিক করছেন কক্সবাজারের এক মোরা দুর্গত ব্যক্তি

সরকারের হিসাব মতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার জেলায় ।

জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বলছে, মোরা’র পরবর্তি সময়ে কক্সবাজারের লাখো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের না আছে খাবার, না আছে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়।

সংস্থাটির মতে, কক্সবাজারের এই অসহায় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবেতর অবস্থায় আছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।

ইউএনএইচসিআর বলছে, জেলার  কুটুপালং ও নওয়াপাড়ার শরনার্থী শিবিরেই সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বাস করছে। সেখানে তারা বাঁশ, মাটি ও পলিথিনের তৈরি ঘরে অবস্থান করে। মোরার আঘাতে ওই এলাকা ঘরবাড়ির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এছাড়া রোহিঙ্গাদের আদি নিবাস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেও রোহিঙ্গাদের বসত-বাড়ির বিস্তর ক্ষতি হয়েছে।

এই অবস্থায় উপকূলীয় এলাকার লাখো অধিবাসী ও হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের এই অঙ্গ সংস্থাটি।

আজ শুক্রবার ইউএনএইচসিআর এর ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর বলছে, দুই দেশেই ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তার তারা কাজ করছে। তবে তারা যতটুকু সহায়তা দিতে পারছে তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম।

এছাড়া চলমান বৃষ্টি, নদীর পাড় ভাঙ্গন, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন হয়ে যাওয়ার কারণে ত্রাণ সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর, বলছে কক্সবাজারে যদিও কিছু রোহিঙ্গা নিজেদের উদ্যোগেই ঘর মেরামতের কাজ করছে তারপরও বেশিরভাগ শরনার্থী এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।

জেলার ওই দুই ক্যাম্পে জরুরি সহায়তার জন্য জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি সহায়তা তহবিল থেকে অর্থও চেয়েছে এই অঙ্গ সংস্থাটি।

উল্লেখ, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে সেনা অভিযানের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসে ৩০,০০০ বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ইউএনএইচসিআর এর তথ্য মতে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গা প্রবেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজারে।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ