'প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে’

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসন, চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইন উন্নীতকরণসহ নানা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের উত্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দ্য দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড  ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই বাজেট দেশের উন্নয়ন সহায়ক। এই বাজেটে চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে লালখান বাজার থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে; ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইন উন্নীতকরণ এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেললাইন সম্প্রসারণ কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।

Mahbubul Alam_President CCCI

দ্য চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বলেন, বরাদ্দকৃত এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসন, চট্টগ্রাম-ঢাকা যাতায়াত সময় কমবে এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং অবচয়ন বিবেচনাপূর্বক এই সীমা বৃদ্ধি করা উচিৎ। একইভাবে মহিলা এবং ৬৫ ঊর্ধ্ব করদাতাদের ক্ষেত্রেও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা উচিৎ। চেম্বার ও ব্যবসায়ীদের বারবার দাবির পরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আমরা আবারও এই হার পুনর্বিবেচনা করে ১০-১২ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি।

মাহবুবুল আলম বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে টার্নওভার করের সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; সেক্ষেত্রে করের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের টার্নওভারের সুবিধা দিতে ৩ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, চাল, ডাল, চিনি, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, লবণ ইত্যাদিসহ প্রায় ৫৪৯টি পণ্যে ভ্যাট অব্যাহিত বহাল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ৯৩ ধরনের জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, গণপরিবহন সেবা, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর ভ্যাট অব্যাহতি, কৃষি, গবাদি পশু, মৎস্য চাষসহ সংশ্লিষ্ট ৪০৪টি ক্ষেত্রে এবং ধাতব্য, অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতির সিদ্ধান্ত ইতিবাচক।

চেম্বার সভাপতি বলেন, ১ লাখ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এতে জনসাধারণ ব্যাংকে আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। তাই আগের ন্যায় ৫০০ টাকা বহাল রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, পামওয়েল ও সয়াবিন উৎপাদন এবং এলপিজি সিলিন্ডারের ভ্যাট অব্যাহতি ৩০ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে- এটি প্রশংসার দাবিদার। শিল্প কারখানা নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় পণ্যে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত সব শুল্ক কর মওকুফ করা হয়েছে।

মাহবুবুল আলম বলেন, কৃষি খাতের উপকরণ আমদানিতে শুল্কহার ০ রাখা হয়েছে এবং আমদানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পায়। মৎস্য পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতে খাদ্য সামগ্রী ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি বহাল রাখার পাশাপাশি কতিপয় পণ্যে প্রণোদনা প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি খাতে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে তৈরীর লক্ষ্যে উপকরণ আমদানিতে ১ শতাংশ আমদানি শুল্কসহ সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। চামড়া শিল্পে বাসবার ট্রাংকিং সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক প্যানেলকে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সুবিধা সব ধরনের শিল্পের ক্ষেত্রে দেওয়া উচিৎ।

প্রচুর সম্ভাবনাময় ঔষধ শিল্পের রপ্তানি আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে কাঁচামালে শুল্ক রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় সিরামিক শিল্প সুরক্ষায় তৈরি সিরামিক আমদানিতে উচ্চ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশীয় ব্যাটারি চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানি শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তৈরিকৃত সোলার প্যানেল আমদানি শুল্ক ৫-১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়া প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, আইপ্যাড ইত্যাদি উৎপাদন ও সংযোজনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। জুয়েলারি শিল্পের জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে- যা এ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট উন্নয়নমূখী। তবে ভ্যাট হার হ্রাস করা না হলে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ