‘তামাক পণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব জনস্বাস্থ্যবিরোধী’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘তামাক পণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব জনস্বাস্থ্যবিরোধী’

২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট এবং ধোয়াবিহীন (গুল, জর্দ্দা) তামাকপণ্যে কর না বাড়ানোর প্রস্তাব চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী বলে অভিহিত করেছে তামাক বিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা ও আত্মা।

আজ বৃহস্পতিবার  গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে তামাকপণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার অর্থ ভোক্তার কাছে এগুলো আরও সহজলভ্য হয়ে যাবে।  এতে লাভবান হবে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি। অন্যদিকে, সিগারেটের সর্বনিম্ন স্তর ভেঙ্গে দেশি এবং আন্তর্জাতিক দুটি স্তরে বিভক্ত করে তামাক কর-কাঠামোর জটিলতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তামাকবিরোধীদের সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাব গ্রহণ না করে করারোপের পুরানো ও জটিল এডভ্যালোরেম পদ্ধতিই বহাল রাখা হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় উৎপাদনকারী কোম্পানি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নিম্ন  মূল্যস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ২৩ টাকার স্থলে ২৭ টাকা এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত সিগারেটের মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং  আন্তর্জাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রায় ৫২ দশমিক ২ শতাংশ। তবে অ্যাডভ্যালোরেম পদ্ধতি বহাল থাকায় এই দুইটি পণ্যের মূল্য যতটুকু বাড়বে তার সিংহভাগই যাবে তামাক কোম্পানিগুলোর পকেটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) একমাত্র আন্তর্জাতিক তামাকপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যারা বাংলাদেশে সব স্তরের সিগারেট উৎপাদন করে। বর্তমানে বাজারে বিএটিবির প্রচলিত সিগারেটের ব্রান্ড রয়েছে ১৪টি।  যারমধ্যে নিম্নস্তরের সিগারেট মাত্র ৪টি। সুতরাং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরে সিগারেটের করহার না বাড়ানোর মাধ্যমে প্রকারান্তরে বহুজাতিক তামাক কোম্পনিকে সুবিধা প্রদানের প্রয়াস চোখে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশে অর্ধেকেরও বেশি তামাক ব্যবহারকারী ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা ও গুল) সেবন করেন। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে এগুলোর উপর কর বাড়ানো হয়নি। আমাদের দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষতঃ নারীদের মাঝে এই পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জর্দা-গুল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করার কোনো উদ্যোগ বাজেটে নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক সিগারেটের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে, প্রস্তাবিত বাজেটে ইলেকট্রনিক সিগারেট এবং এর রিফিল প্যাকের উপর ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একইসাথে পণ্যদুটির আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

বিজ্ঞপ্তি/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ