প্রস্তাবিত বাজেট সর্বশ্রেষ্ঠ গরীব মারার বাজেট: সিপিবি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

প্রস্তাবিত বাজেট সর্বশ্রেষ্ঠ গরীব মারার বাজেট: সিপিবি

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাবকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গরীব মারার বাজেট বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে দলটি।

 

cpb

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা।

বাজেট সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিপিবি নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই বাজেটে সমাজতন্ত্রসহ রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির কোনো প্রতিফলন নেই। শুধু তাই নয়, এই বাজেট মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী আদর্শে প্রণীত হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবের ভিত্তি হলো পুঁজিবাদের নয়া উদারবাদী প্রতিক্রিয়াশীল দর্শন। গত বছরের মূল বাজেটের ১৭.৫ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৬ শতাংশ বড় এই বাজেটের জন্য অর্থসংস্থান করতে ৩৪ শতাংশের বেশি রাজস্ব সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢালাও ১৫% শতাংশ ভ্যাটসহ পরোক্ষ কর থেকে এই বর্ধিত রাজস্ব আদায়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা সব পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে মূল্যস্ফীতির হারকে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবে। আর এই দুঃসহ ভারের সবটাই বহন করতে হবে গরীব-মধ্যবিত্তসহ সাধারণ নাগরিকদেরকে। অথচ বিত্তবানদের উপর ধার্য্য প্রত্যক্ষ কর একই পর্যায়ে রাখা হয়েছে, কর রেয়ার অব্যাহত রাখা হয়েছে, অপ্রদর্শিত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে-ইত্যাদি। এই বাজেটে এভাবে গরিব জনগণের সম্পদ মুষ্ঠিমেয় লুটেরা ধনিকের হাতে প্রবাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ স্মরণকালে সর্বোচ্চ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়,  প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাজেটের পরিমাণকে চার লাখ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে উন্নীত করা হয়েছে। এই অর্থের বেশিরভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋণ পরিশোধ, শ্বেতহস্তির মতো বিশাল সিভিল-মিলিটারি প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিলাস দ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস, কর-রেয়াতের নামে ধনিক শ্রেণিকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে।

উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাব প্রত্যাহার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় সমাজতন্ত্র, দরিদ্র জনগণের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা, প্রগতিবাদিতা ও আত্মনির্ভরশীলতার ধারায় প্রগতিশীল বাজেট প্রণয়নের জন্য দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ