জব্দ হচ্ছে আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জব্দ হচ্ছে আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ

আপন জুয়েলার্সের আটককৃত স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের অলঙ্কার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যে প্রমাণাদি দিয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই। তাই নিয়মানুযায়ী এসব স্বর্ণ ও ডায়মন্ড জব্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত কার্যালয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এসব স্বর্ণ জব্দ করে সরকারি কোষাগারে নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ সফিউর রহমান বলেন, নিয়মানুযায়ী আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণালঙ্কার আটক করে ঢাকা কাস্টমস হাউজে জমা দেয়া হবে এবং এ বিষয়ে মামলা হবে। তারপরেও যদি কেউ মালিকানা দাবি করে তবে যথাপোযুক্ত প্রমাণ দিয়ে ওই স্বর্ণ ফেরত নিতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ আটকের পর দ্বিতীয় দফায় আপনের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম, তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ এবং ৩ জন আইনজীবী আমাদের কার্যালয়ে আসেন। তারা আটককৃত সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের মধ্যে প্রায় ১২৫ কেজি স্বর্ণের ব্যাপারে তথ্য দলিলাদি দাখিল করেছেন। ওই তথ্য ও দলিলাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যাগেজ রুলে আনা বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছ থেকে তারা ওই স্বর্ণ কিনেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বলেন, আপন জুয়েলার্স যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণের বার কিনেছিলেন তার কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এছাড়াও যারা ওই স্বর্ণ বিদেশ থেকে কিনে আপন জুয়েলার্সের কাছে বিক্রি করেছিলেন তারা ওই স্বর্ণ বিদেশ থেকে আনার সময় সরকারকে নিয়মানুযায়ী ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন কি না সে ব্যাপারেও কোনো তথ্য সরবরাহ করেননি।

ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশ থেকে ২ গ্রাম স্বর্ণ আনতে পারেন, তবে প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য সরকারকে ৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। কিন্তু তিনি ওই স্বর্ণ নিজের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারবেন না বলে জানান সফিউর রহমান।

তিনি বলেন, আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ সময় আবেদন করেছেন। আমরা ১৪ মে তাদের স্বর্ণ আটক করেছিলাম। আটক আইনে আটককৃত পণ্যের ব্যাপারে ২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হয়। যেহেতু আপন জুয়েলার্স দুই থেকে তিন বার সময় নিয়ে কোনো যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে পারেনি অথবা ওই স্বর্ণের ব্যাপারে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি, তাই তাদেরকে আর সময় দেয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। তবুও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

Apon Jewellers (2)

আপন জুয়েলার্সের একটি বিক্রয় কেন্দ্রে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান। ফাইল ছবি

আপন জুয়েলার্সের আইনজীবী তাইফুল সিরাজ দাবি করেন, আমরা কিছু স্বর্ণালঙ্কারের কাগজপত্র জমা দিয়েছি। বাকিগুলোর জন্য আমরা সময় চেয়েছি, সব কাগজপত্র দেয়া হবে।

আইনজীবী বলেন, শুল্ক গোয়েন্দার চিঠির প্রেক্ষিতে আজকের শুনানীর দিন ধার্য ছিল। আপন জুয়েলার্সের ৫টি শাখা থেকে মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন উৎস থেকে মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি উৎসের কাগজপত্র আমরা জমা দিয়েছি। যেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি স্বর্ণের কাগজপত্র হবে। কর্তৃপক্ষ এসব কাগজপত্র গ্রহণ করেছে কিনা তা আমাদের বলেননি।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য উৎসের কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য আমরা সময় চেয়েছি। তারা সময় দিবেন পরবর্তীতে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো সময় চেয়ে আবেদন করিনি, কর্তৃপক্ষ যতটুকু সময় বিবেচনা করে দিবেন এর মধ্যে আমরা কাগজপত্র জমা দেব।

অর্থসূচক/রহমত/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ