‘মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না’

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে গাড়ি ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করা হয়। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হলে হাসপাতাল ভাংচুর হয়; অন্যদিকে ভাংচুরের প্রতিবাদে চিকিৎসকরা সেবা বন্ধ করে ধর্মঘট ডাকেন। এই ধরনের কাজে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।

আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁও বিআরটিএ এর সদর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দুই জনের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে প্রতিবাদ হতে পারে না। ঢাকা আরিচা মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে ওই রাস্তায় হাজার হাজার গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। এর মধ্যে বৃদ্ধ, মুমূর্ষু রোগী ছিল। লাখো মানুষ যানজটের কবলে পড়েছিল; তাদেরকেও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সব কিছু সরকারকে দায়ী করলে হবে না। ড্রাইভারের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য যদি ওই সড়ক দুর্ঘটনা হয়- তবে তার বিচার হতেই হবে। তাই বলে আপনি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে লাখো মানুষকে কষ্ট দেবেন- এটা ঠিক না। এটা কোনো প্রতিবাদের ভাষা নয়।

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার প্রতিবাদে হাসপাতাল ভাংচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ডাক্তারের ভুলে কোনো রোগীর হলে প্রতিবাদের নামে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং হাসপাতাল ভাংচুর করা হয়। আর ভাংচুরের প্রতিবাদে সারা দেশে ডাক্তাররা ধর্মঘট করে। মারা গেল একজন; একটি হাসপাতালের কিছু জিনিস ভাঙ্গা হলো। এর প্রতিবাদ জানাতে সারা দেশের সব হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছিল ডাক্তাররা। একজনের মৃত্যুর জন্য হাজারো মুমূর্ষু রোগীকে মৃত্যুর মুখে ফেলা হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, এভাবে আন্দোলনের নামে অন্যদের ভোগান্তিতে ফেলা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। এই ধরনের অযোক্তিক ও নির্মম প্রতিবাদের ভাষা প্রতিষ্ঠিত করা উচিৎ নয়। রোজার মাসে এমন সব ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? যাত্রী সাধারণ যাবে কোথায়? কার কাছে বিচার চাইবে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ