রাজস্ব আয়ের ২১ নতুন খাতের হদিস
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রাজস্ব আয়ের ২১ নতুন খাতের হদিস

আসন্ন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন তার আকার দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৯ লাখ কোটি টাকার উপরে করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। বৃহৎ এ বাজেটের অর্থায়নে সংগঠনটি সম্ভাব্য ২১টি নতুন খাতের হদিস দিয়েছে। খাতগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ কর সংশ্লিষ্ট খাত।

আজ রোববার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি অডিটোরিয়ামে ২০১৭-১৮ প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব খাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বক্তারা

সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দ্বিগুণ। বাজেটে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ২১টি খাত অতীতে কোনো বাজেটে সরকার অন্তর্ভুক্ত করেনি।

২১টি খাতের মধ্যে ১৯টি খাত থেকে (ঘাটতি অর্থায়ন বাদে) ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতে পারে; যা মোট রাজস্ব আয়ের ১৪.০৩ শতাংশ।

ঘাটতি অর্থায়নের দুইটি খাতের মধ্যে বিদেশে বসবাসকারী দেশিয় নাগরকিদের বন্ড থেকে ৪৯ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা ও সরকারি বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে।

রাজস্ব আয়ের নতুন এসব উৎসের মধ্যে ২৫ হাজার কোটি টাকা আসবে সম্পদ কর থেকে।

অর্থপাচার রোধের মাধ্যমে আসবে ২৫ হাজার কোটি টাকা ও কালো টাকা উদ্ধারের মাধ্যমে আসবে ২০ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা, সেবা খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা, বিমান পরিবহন ও ভ্রমণ কর থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা, ভ্রমণ কর থেকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, তার ও টেলিফোন বোর্ড থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আসতে পাবে।

টেলিফোন রেগুলেটরি কমিশন থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন থেকে ১ হাজার কোটি টাকা, ইন্সুরেন্স রেগুলেটরি থেকে ৫০০ কোটি টাকা, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সজেঞ্জ কমিশন থেকে ৫০০ কোটি টাকা, বিআইডব্লিউটিএ থেকে ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌর হোল্ডিং কর থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আসতে পারে।

১ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে। ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির লাইন্সেস নবায়ন থেকে ২ হাজার কোটি, বিউটি পার্লার সেবা থেকে ২ হাজার কোটি, আবাসিক হোটেল/গেস্ট হাউজ সেবা থেকে ২ হাজার কোটি, রেমিট্যান্স কর থেকে ২ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে।

করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করে আবুল বারাকাত বলেন, দেশে মাত্র ৪৬ জন ব্যক্তি বছরে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি আয়কর প্রদান করেন। আমাদের হিসেবে বছরে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি আয়কর দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তির সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার। এ শ্রেণি থেকে ১ কোটি টাকা করে আয়কর হিসেবে বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা আয়কর আহরণ সম্ভব। আর এ অর্থ ব্যয় হবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য নিরসনে। এ উৎসটি হতে পারে পদ্মাসেতুর মতো বড় মাপের কোন অবকাঠামো বিনির্মাণে অন্যতম সুদবিহীন উৎস।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/রহমত

এই বিভাগের আরো সংবাদ