আজ শিল্পাচার্যর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আজ শিল্পাচার্যর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

যার ছবি কথা বলে তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ। শিল্পকলায় অবদানের জন্য তার জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন শিল্পাচার্য খেতাব। মানবতাবাদী এই শিল্পীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

zainul abedin

দুর্ভিক্ষ সিরিজের একটি ছবি। সংগৃহীত।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিনী। ৯ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড় জয়নুলের পড়াশোনার হাতেখড়ি পরিবারের কাছ থেকেই। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকা পছন্দ করতেন। ছেলেবেলা থেকেই শিল্পকলার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখার বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস এ ভর্তি হন।

জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো হল  ১৯৫৭ এ নৌকা, ১৯৫৯ এ সংগ্রাম, ১৯৭১ এ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ম্যাডোনা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার ১৯৬৯ এ অঙ্কিত ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭৪ এ অংকিত ‘মনপুরা ৭০’ জননন্দিত দুটি শিল্পকর্ম। তিনি চিত্রাংকনের চেয়ে চিত্রশিক্ষা প্রসারের ওপর অনেক বেশী সময় ব্যয় করেছেন।

ছবি আঁকায় মগ্ন শিল্পাচার্য।

১৯৪২-৪৩ সালে দুর্ভিক্ষের করুণ ছবিগুলোর মাধ্যমে আজো আমরা সেই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা ও বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করতে পারি । শুধু দুর্ভিক্ষের ছবি নয়, তার আঁকা প্রতিটি ছবিই একেকটি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাস্তব অবস্থাকে আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে।

জয়নুল আবেদীন ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমীর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি কাজ করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন। একই বছর জয়নুল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তারই প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালে শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়।

তার অন্যতম একটি স্ক্রল ছবি।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত চারুকলা অনুষদের পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। ময়মনসিংহের সার্কিট হাউসে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে তার সংগ্রহশালা ও জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে।

মৃত্যুদিনে এই মানবতাবাদী শিল্পীর প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

তথ্য, উপাত্ত সংগৃহীত।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ