৫০ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছে সাড়ে ২০ হাজার জন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৫০ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছে সাড়ে ২০ হাজার জন

১৯৬৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সারাদেশে যাত্রী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে ২ হাজার ৫৭২টি নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর অভ্যন্তরীণ এইসব নৌ দুর্ঘটনায় ২০ হাজার ৫০৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আলোচ্য সময়ে সম্পদ নষ্ট হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার।

আজ শুক্রবার রাজধানীর পুরান পল্টনের মুক্তি ভবনে এক আলোচনা সভায় নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

জাতীয় নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০১৭ ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫০ বছরের নৌ দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এনসিপিএসআরআর এর সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬৭-২০০৪ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছরে ১ হাজার ৪৫টি এবং ২০০৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে ১ হাজার ৫২৭টি নৌ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

এর মধ্যে প্রথম ৩৮ বছরে ১৫ হাজার ৬৮ জনের ও শেষ ১২ বছরে ৫ হাজার ৪৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ১৯৬৭-২০০৪ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ কোটি ২০ লাখ এবং ২০০৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত ২ হাজা ৭৩ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।

আর সব মিলিয়ে ৫০ বছরে দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে ২ হাজার ৬৭২টি নৌযান। এর মধ্যে ৯০১টি উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। বিপুলসংখ্যক নৌযান নিমজ্জ্বিত থাকায় সেসব স্থানে অতিমাত্রায় পলি পড়ছে। ফলে অনেক নৌপথে নিয়মিত নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, যা নৌ দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আলোচনায় উপস্থিত প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খান বলেন, পরিবহন খাত মাফিয়াচক্রের কবলে পড়ে গেছে। নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা। এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার হার গত দুই বছরে কমলেও নিরাপদ আধুনিক নৌ পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। পণ্যবাহী নৌযান দুর্ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে, সেগুলোর অনেক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় না। এ ক্ষেত্রে বহুমুখী সমস্যা রয়ে গেছে।

সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হাজী মো. শহীদের সভাপতিত্বে পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মো. ইনামুল হক, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব চৌধুরী আশিকুল আলম, সিটিজেন্স রাইটস মুভমেন্টের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. এনায়েতুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লিডার্সের কর্মকর্তা মোহন কুমার মন্ডল, জাতীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সঞ্জিব বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যাত্রী অধিকার পরিষদের সভাপতি তুসার রেহমান, নদী রক্ষা শপথের (নরশ) আহ্বায়ক জসি সিকদার, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, বিআইডবিউটিএর সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা পরিবেশবাদী সংগঠন পিসের নির্বাহী পরিচালক ইফমা হুসেইন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ