৪৭৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করবেন না ব্যবসায়ীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৪৭৫ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করবেন না ব্যবসায়ীরা

বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রমজান মাসের আগে এবং রমজান মাসে সব ধরনের পণ্যে বিভিন্ন ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি বছরই তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়। ৫-৭ বছর আগে এই পবিত্র মাসের কয়েকদিন আগে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বর্তমানে নতুন ধারা চালু করেছেন তারা। রোজার দেড়-দুই মাস আগে থেকেই পণ্যের দাম বাড়াতে থাকেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

চলতি বছরও রমজানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ মাস আগে থেকে কয়েক দফায় সব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য পণ্যের মতো গরু-ছাগল-মহিষের মাংসের দামও বাড়ানো হয়েছে। মাংসের দাম বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন অযুহাতে আন্দোলনও ডেকেছিলেন রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। টানা আন্দোলনের পর গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাংস।

রমজান মাসকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার এক সভায় রাজধানীতে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ টাকা এবং খাসির মাংস ৭২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ওই দামে মাংস বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন খুচরা মাংস ব্যবসায়ীরা। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, পলাশী বাজারসহ কয়েকটি বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরা বলেন, ৪৭৫ টাকা দরে গরু এবং ৭২৫ টাকায় খাসির মাংস বিক্রি করলে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে।

meat

মাংসের দোকান।

আজ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, থরে থরে মাংস সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। পাল্লা দিয়ে ক্রেতা ডাকতে ব্যস্ত তারা। কিন্তু প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম হাঁকানো হচ্ছে ৫০০ টাকা। দরদামের কোনো সুযোগ নেই সেখানে।

রমজানে নির্ধারিত ৪৭৫ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি করবেন কি না- জানতে চাইলে শাহ আলী নামে মাংস ব্যবসায়ী বলেন, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হয় না। ব্যবসায়ীদের এবং বাজারের অবস্থা সম্পর্কে জানতে হয়। সরকার তো শুধু নির্ধারণ করে দেয়; আর কিছু্ই বুঝতে চায় না।

তিনি বলেন, বেশি টাকা দিয়ে গরু কিনে কম টাকা দিয়ে বিক্রি করলে আমাদের ব্যবসা গুটাতে হবে। সরকারের সাহায্য পেলে সরকার নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রিতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে খাসির মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ৭২৫ টাকা দরে বিক্রির কথা জানতে চাইলে জালাল উদ্দিন নামের ব্যবসায়ী বলন, এখনও রমজান শুরু হয়নি। রমজান শুরু হলে নির্ধারিত ওই দামে খাসির মাংস বিক্রি হবে।

‘মাংস পট্টি’তে ক্রেতার সংখ্যা মোটেও কম নয়। তবে খুচরা ক্রেতার চেয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্টের অর্ডারে মাংস বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাব্বির হোসাইন রিয়াদ খান নামের একজন বলেন, সরকার নির্ধারিত ওই দামে কোনোভাবেই মাংস বিক্রি করতে পারবো না। তবে উপর থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যদি তারা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করার অনুমতি দেয় তাহলে আমরা বিক্রি করবো।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, অনুমতি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং মাংস ব্যবসায়ী সমিতির আলোচনার মাধ্যমে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রমজান শুরু হলে নির্ধারিত দামেই মাংস বিক্রি করতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রতিটি মাংস বাজারে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেবো। মূল্য তালিকার চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বাজার পর্যবেক্ষণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে সিটি কর্পোরেশন।

ঈদের পর নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি হবে কি না- জানতে চাইলে রবিউল আলম বলেন, ২৬ রমজান পর্যন্ত ৪৭৫ টাকা দরে মাংস বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। এরপর এই দাম কার্যকর থাকবে না। তবে ঈদের পর স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বসার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সর্বসম্মতভাবে সারাদেশে নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গাবতলি গরুর হাটের ইজাদারদের অত্যাচার, সরকারের আদেশ অমান্য করে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং ইজারাদারের বাহিনী দিয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে গত ফেব্রুয়ারিতে ধর্মঘট করেন রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। এরপর দাবি না মেনে নেওয়ায় দাম বাড়িয়ে দেন তারা।

গত বছর রমজান মাসে গরুর মাংসের কেজি প্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২০ টাকা। বছরের ব্যবধানে এবার গরুর মাংসের নির্ধারিত দাম কেজি প্রতি ৫৫ টাকা বেড়েছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ