ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল পুলিশি বাধার মুখে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং রঙিন পানি ছুড়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে মাজার গেটের কাছে পুলিশ বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

Tear Gas

সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে রঙিন পানি ছুড়েছে পুলিশ।

এই বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, উদীচী, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ছাত্র ঐক্য ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের আদলে তৈরি ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভাস্কর্য সরানোর খবর পেয়ে বিক্ষুদ্ধ তরুণরা মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই বিক্ষোভের মধ্যেই ভাস্কর্যটিকে সরিয়ে ক্রেনের সাহায্যে একটি ছোট ট্রাকে তুলে অ্যানেক্স ভবনের ভেতরে পানির পাম্পের পাশে নিয়ে রাখা হয়।

ভাস্কর্য সরানোর খবর পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে হাজির হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। সুপ্রিম কোর্টের মূল গেটের বাইরে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এই সময় কিছুক্ষণের জন্য ভাস্কর্য সরানোর কাজ বন্ধ ছিল।

গেটের বাইরে হট্টগোল দেখে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সুপ্রিম কোর্টের গেটে উপস্থিত হন। এরপর সুপ্রিম কোর্টের সামনে রাস্তায় অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

রাত ১২টার দিকে ভাস্কর্য অপসারণের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয় ভোর ৪টার দিকে। বিক্ষোভকারীরা এরপর আরও ঘণ্টাখানেক সুপ্রিম কোর্টের সামনে অবস্থান করেন। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে দুইটি কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে বসানো ভাস্কর্য প্রসঙ্গে ভাস্কর মৃণাল হক বলেন, এই ভাস্কর্য কোনো গ্রিক দেবীর নয়। বরং এটি বাঙালি মেয়ের ভাস্কর্য। যার হাতে ন্যায় বিচারের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, আমার কিছু বলার নেই। আমাকে চাপ দিয়ে ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে। এখন এটি সরানো হচ্ছে, এরপর নির্দেশ আসবে অপরাজেয় বাংলা ভাঙার। দেশের শান্তি রক্ষার স্বার্থে যত্ন সহকারে ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ