এক লিচুর অনেক কিছু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এক লিচুর অনেক কিছু

লিচু একটি মৌসুমী ফল। অন্যান্য ফলের মতো খুব বেশিদিন গাছে থাকে না, অল্প দিনেই এর মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তবে এখন বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ করার কারণে বাজারে বেশ লম্বা সময় ধরেই এর উপস্থিতি দেখা যায়। বাংলাদেশের সব স্থানেই লিচু হয়, তবে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে এর ভাল ফলন হয়।

বিশ্বের নিরক্ষীয় ও উপ-নিরক্ষীয় অঞ্চলে বেশ ভালো জন্মে থাকে। এর আদি নিবাস চীনে হলেও বর্তমানে বিশ্বের বহু স্থানে লিচু চাষ করা হয়।

লিচু। ফাইল ছবি।

লিচু মৌসুমী ফল হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হলেও ভারত ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসাবে লিচু থেকে বিষক্রিয়ার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের বিহার রাজ্য এবং বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনেক শিশুর মৃত্যুর কারণ ছিল লিচু। আন্তর্জাতিক চিকিত্সা বিজ্ঞান পত্রিকা ‘ল্যানচেট’ এর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে- খালি পেটে অনেকগুলো লিচু খেলে শরীরে যে বিষ তৈরি হয়, তার ফলেই শিশুদের হঠাৎ খিঁচুনি আর বমি শুরু হয়। তারপরেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে তারা। আর এভাবে আক্রান্ত হওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিশু মারা গেছে।

২০১৫ সালের ২৯ মে থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে ১১ শিশু। ওদের বয়স ছিল দেড় থেকে ছয় বছর। এই ঘটনার আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী ফল খেয়ে আরো অনেক শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতেও ১৯৯৫ সাল থেকে এভাবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভরা পেটে শিশুরা লিচু খেলে কোনো সমস্যা নেই।

লিচুর থোকা। সংগৃহীত ছবি।

মে থেকে জুলাই মাসেই লিচুর ফলন হয়ে থাকে। আর ওই সময়েই শিশুরা ওই উপসর্গ নিয়ে মারাও যায় সব থেকে বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অপরিপক্ব লিচু বা লিচু জাতীয় ফল খেয়েই যে বিষক্রিয়ায় বহু শিশু মারা যাওয়ার বিষয়টি অনেক দিন আগেই ক্যারিবিয়ান দ্বীপে গবেষণায় জানা গিয়েছিল। এরপর ‘জামাইকান ভমিটিং সিকনেস’ নামের ওই রোগটির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য ভারত ও বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে।

লিচুর উপকারিতা

– ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে বলে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিতভাবে লিচু খাওয়া উচিত।
– বোলতা, বিছা কামড়ালে লিচুপাতার রস ব্যবহারে উপশম হয়।

– দেহে শক্তি বাড়ায়। কারণ এটা শরীরে ফ্লুইডের পরিমাণ বাড়ায়।

– এর ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ কমলালেবুর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।

– লিচুতে গাজরের তুলনায় বেশি বিটা ক্যারোটিন রয়েছে।

– লিচুতে রয়েছে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড।

– বিটা ক্যারোটিনসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে।

– লিচুর কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার হজমে সহায়তা করে।

– এর ক্যালসিয়াম হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

– মেনোপজ হয়ে গেছে এমন নারীদের জন্য লিচু যথেষ্ট উপকারী। কারণ এসব নারীদের অতিমাত্রায় ক্যালসিয়াম ঘাটতি থাকে।

– এটি মৌসুমী অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে।

– ত্বক ও চুলের পুষ্টি জোগায়।

লিচুর ফেসিয়াল মাস্ক।

– ক্ষতিকর আলট্র্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
– নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন নামক ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স থাকায় শরীরের জ্বালাপোড়া, দুর্বলতা দূর করে।
– লিচুর ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা কর্নিয়ার অসুখ, চোখ ওঠা, চোখের কোনা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া দূর করে।

– জ্বরঠোসা, জিহ্বার ঘা, জিহ্বার চামড়া ছিলে যাওয়া এসব রোগ প্রতিরোধ করে।

– লিচু একটি গরম ফল। এটি বেশি খেলে পেট গরম হয়ে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বেশি খাওয়া উচিত নয়।

– বেশি মিষ্টি লিচু অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের পরিহার করা উচিত।

– কাশি, পেটব্যথা, টিউমার দমনে লিচু কার্যকর।

– চর্মরোগের ব্যথায় লিচুর বীজ ব্যবহৃত হয়।

– কচি লিচু শিশুদের বসন্ত রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
– বাকল ও শিকড়ের ক্বাথ গরম পানিসহ কুলি করলে গলার স্বর ভালো হয়।

– এতে অবস্থিত পটাসিয়াম এবং খনিজের মতো উপাদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

রূপচর্চা

লিচু দিয়ে তৈরি করা যায় ফেসিয়াল মাস্ক তৈরি করা যায়। ৩টি মাঝারি আকৃতির লিচু ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে ২ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ আটা মিশিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করুন। এই ফেস মাস্ক মুখে মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মাস্ক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। সপ্তাহে তিন থেকে চারবার এই মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

lychee

লিচুর জুস। ছবি: সংগৃহিত

লিচুর শরবত

আস্ত লিচু (বিচি ছাড়া) ১০টি, চিনি এক টেবিল চামচ, এক চা চামচ লবণ, ৩/৪ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, এক চা চামচ লেবুর রস, এক কাপ পানি।

প্রক্রিয়া প্রণালী

আস্ত লিচু ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। গ্লাসে ঢেলে ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে আস্ত লিচুগুলো গ্লাসে দিয়ে পরিবেশন করুন।

লিচুর পায়েস

উপকরণ

দুই লিটার দুধ, দুই কাপ চাল, ৩/৪ কাপ মাওয়া, আধা কাপ চিনি, এলাচ দুই-তিন টুকরা, দারুচিনি এক-দুই টুকরা,৩/৪ কাপ হেভি ক্রিম, সাত-আটটি লিচু কুচি।

প্রক্রিয়া প্রণালী

দুধ জ্বাল দিন। দুই-তিন মিনিট পর চাল ধুয়ে দুধে দিন। চিনি, এলাচ, দারুচিনি দিন। চাল সিদ্ধ হলে এবং দুধ কমে ঘন হয়ে এলে মাওয়া, হেভি ক্রিম দিয়ে চুলার জ্বাল কমিয়ে দিয়ে লিচু দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ