ইসলামিক ফাইন্যান্সকে নতুন উচ্চতায় নিতে চাই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ইসলামিক ফাইন্যান্সকে নতুন উচ্চতায় নিতে চাই

এ কে এম শহীদুল হক ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এর আগে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড ও মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শহীদুল হক ১৯৭৭ সালে রূপালী ব্যাংকে অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ভারত ও যুক্তরাজ্য থেকে ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের উপর প্রশিক্ষণ নেন। শহীদুল হক একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালে নিজ এলাকায় ৫ নম্বর সেক্টরের অধীনে ৬ নম্বর সাব সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

সম্প্রতি অর্থসূচকের সঙ্গে তিনি দেশের আর্থিক খাতের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার গিয়াস উদ্দিন।

অর্থসূচকঃ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে কীভাবে দেখছেন?

একেএম শহীদুল হকঃ অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময়। অর্থনৈতিক সফলতা অনেকটা নির্ভর করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। বিশেষ করে, রপ্তানীনির্ভর অর্থনীতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই জরুরী। গত কয়েক বছর ধরে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। শহরকেন্দ্রীক উন্নয়ন থেকে আমরা অনেকাংশে বের হয়ে আসতে পেরেছি। গ্রামীণ অর্থনীতির পৃষ্ঠপোষকতার কারণে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন প্রথম কাতারে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার নির্দেশিত পথে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সম্প্রতি ডলারের মূল্যে হঠাৎ অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সেটি কোনো সংকট তৈরি করতে পারেনি। তার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করেছে। দেশে মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে ১৪৬৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বেড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহে বেশ কিছুদিন কিছুটা নিম্নমুখী ধারা থাকলেও সেটি কাটিয়ে উঠা গেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়াবে। যা একটি দেশকে প্রতিযোগিতার মুখেও ফেলে দিবে। আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক সাহায্যের শর্ত কঠিন হতে থাকে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যে বাজার সুবিধা আমরা পাচ্ছি এক সময় তা আর থাকবে না। সেক্ষেত্রে শুধু পণ্যবৈচিত্রতা ও গুণগতমান আমাদেরকে শক্ত অবস্থানে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম। এই সফলতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে হলে কিছু নিয়ামকের উপর সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে।

(১) ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা নিয়ে ব্যবসা করে। সুশাসন আমানতকারীদের আস্থা অটুট রাখে।

(২) সরকারী ব্যাংকগুলোতে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে হবে। কর্পোরেট সুশাসন এর নীতিমালা সস্পূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যাংকারদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে এ পদ্ধতি ব্যাংকিং খাতে সুফল বয়ে আনবে।

(৩) ব্যাংকিং পেশায় পেশাদারীত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অর্থসূচকঃ আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থাকে আপনি কিভাবে মূল্যয়ন করছেন?

একেএম শহীদুল হকঃ বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক খাত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ছাড়া এদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বার্তাটি সরকার সবাইকে পৌঁছে দিয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) এর মতো সার্ভিসগুলো দেশের অর্থনৈতিক খাতকে গতিশীল করে তুলেছে। ব্যাংক ফর ইন্টারন্যশনাল সেটেলমেন্ট, ব্যাসেল কমিটি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রবর্তিত নীতিমালা পরিপালনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে একটি মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময় বিবেচনা করলে দেখা যাবে, অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে। আমানতের সুদের হার কমায় এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রণোদনা চালুর মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

অর্থসূচকঃ আর্থিক খাতের উন্নয়নে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন দিকে নজর দেওয়া উচিত?

একেএম শহীদুল হকঃ প্রথমত: খেলাপী ঋণ সংস্কৃতি থেকে এ খাতকে মুক্ত হতে হবে। দ্বিতীয়ত: টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে জোর দিতে হবে। এই দুটির  দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলেই শুধুমাত্র আর্থিক খাতের উন্নয়ন সম্ভব। ঋণ একটি ব্যবস্থা যা ব্যবসাকে তরান্বিত করে। অন্যদিকে, খেলাপী সংস্কৃতি এই ব্যবস্থাকে ব্যহত করে। ব্যাংকিং খাতের সুনাম রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়। এই চ্যালেঞ্জটি সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে নিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি ক্ষেত্রে।

আশার কথা হল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন করেছে। এতে উৎপাদনশীল খাতে অধিকতর ঋণের প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপসমূহ প্রশংসার দাবি রাখে।

আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত নীতিমালার আলোকে উৎপাদনমুখী খাতে বিশেষ করে এসএমই খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি তথা ঋণের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে; যা উত্তরোত্তর দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। সর্বোপরি, সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অর্থসূচকঃ আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণ ক্যানসারের মতো বাড়ছে। এ সমস্যার মূল কোথায়?

একেএম শহীদুল হকঃ সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতার কিছু ভূমিকা আছে, তবে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতাও কম দায়ী নয়।

মূলতঃ দুটি কারণে খেলাপি ঋণ হয়। একটি হলো- Directed Credit, আর অন্যটি হলো Insiders’ Lending।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ব্যাংকের জন্য প্রথমটি আর বেসরকারি ব্যাংকের জন্য দ্বিতীয়টি প্রযোজ্য। সর্বোপরি মানুষের মধ্যে সত্যিকার দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতে না পারলে খলোপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসা কষ্টসাধ্য হবে। একজন দেশপ্রেমিক মানুষ কখনো ঋণ খেলাপী হতে পারে না। অন্যদিকে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে দক্ষ জনশক্তির ব্যপক অভাব রয়েছে। আমি মনে করি দক্ষতার ঘাটতি এই সেক্টরে অন্যান্য ঝুঁকির মতোই আরেকটি ঝুঁকি। কারণ একজন কর্মকর্তা দক্ষতা এবং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের অভাবে এমন কাজ করে ফেলতে পারেন বা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন, যা পুরো প্রতিষ্ঠানকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। এছাড়া নৈতিকতা ও সততা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে একটি আবশ্যিক গুণাবলী। নৈতিকতা ও সততার ক্ষেত্রে আপোষহীন মনোভাব নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাতে হবে। গত কয়েক বছরে শিল্পায়ন ও ব্যবসার তেমন প্রসার না হওয়ায় ঋণের চাহিদাও সেভাবে বাড়েনি। এমন অবস্থায় অনেক ঋণ বিতরণ তথা টাকা খাটানোর জন্য অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া হয়ে উঠে। ক্ষেত্রবিশেষে তা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। এই অতি প্রতিযোগিতা এবং ঋণ বিতরণে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় ঋণের গুণগত মান নিশ্চিত হয়নি।

একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অপেশাদারি আচরণ ছিল, অন্যদিকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া ছিল কিছু অসাধু ঋণগ্রহীতা। অনেকে আবার উৎপাদনশীল খাতের জন্য ঋণ নিয়ে তা অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করেছে। এতে বিপুল পরিমাণ ঋণ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়, যা পরবর্তীতে মন্দ ঋণে পরিণত হয়। ঢালাও পুনঃতফসিল, ঋণ পুনর্গঠনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে অনেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে উৎসাহিত হয়েছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্যে চলমান স্থবিরতার জন্যও অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা ঠিকমত ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারেননি,তারা নতুন করে খেলাপি হয়েছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে চালু করতে না পারা কারখানার মালিকরাও খেলাপি হচ্ছেন।

আমি মনে করি, খেলাপি হবার পথ রুদ্ধ করা গেলেই এ অবস্থার উত্তরণ সম্ভব। ঋণ বিতরণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অতি প্রতিযোগিতার মনোভাব পরিহার করা উচিত। পাশাপাশি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, এর বাহিরে  ঋণ আবেদনকারী ট্র্যাক রেকর্ড দেখা, জামানতের গুণগত মান যাচাই ইত্যাদির প্রতি আরও  মনোযোগী হওয়া দরকার।

অর্থসূচকঃ ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে নানা অভিযোগ, বিশেষ করে সুদ নিয়ে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

একেএম শহীদুল হকঃ প্রচলিত ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের লেনদেনের কিছু ক্ষেত্রে বেশ সামঞ্জস্য আছে। এ কারণে জনমনে ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু লেনদেনে কিছু সামঞ্জস্য থাকলেও আদর্শিকভাবে প্রচলিত ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকিং সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুদমুক্ত ব্যাংকিংয়ের দর্শন মেনে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ইসলামী ব্যাংকিং মূলত ইসলামী অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করে থাকে। দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম শরীয়াহ নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কি না- তা যাচাইয়ের জন্য সবগুলো ইসলামী ব্যাংকেরই পৃথক শরীয়াহ সুপারভাইজরী কমিটি আছে।

অর্থসূচকঃ ব্যাংকে সুদের হার কমার কারণে এনবিএফআইগুলোর ব্যবসায় কী এর কোনো প্রভাব পড়ছে বলে আপনি মনে করেন?

একেএম শহীদুল হকঃ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেহেতু একই ধরনের আমানত ও বিনিয়োগকারীদের নিয়ে কাজ করে, ব্যাংকগুলোতে সুদের হার কমায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের নেতিবাচক চাপ বোধ করছে। এছাড়া যেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে ক্রেডিটলাইন নিয়ে ব্যবসা করে এবং ব্যাংকগুলো শুধু নিজেদের চাহিদা পূরণের পরই ক্রেডিটলাইন দিয়ে থাকে, সেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।

ইসলামিক ব্যাংকিং যেহেতু সুদ নির্ভর নয় এবং ইসলামিক ব্যাংকিং-এর আলাদা আমানত-বিনিয়োগকারী আছেন। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব অন্যদের তুলনায় কিছুটা কম। তবে মার্কেট যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে সবার উপরই এর কম-বেশী প্রভাব পড়ে।

অর্থসূচকঃ ব্যাংকের সুদহার কমলেও আপনাদের ব্যবসা তো গতবছরের চেয়ে বেড়েছে। এটার পিছনে কারণ কি?

একেএম শহীদুল হকঃ  ইসলামি ফাইন্যান্সের আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে মন্দ ঋণ  বা নন-পারফরর্মিং লোনের পরিমাণ হ্রাস। এক বছরের ব্যবধানে আমরা আমাদের নন পারফরমিং লোন ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। অন্যদিকে কোম্পানির ঋণ এবং আগামও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। আমি ব্যাংকিং ইন্ড্রাস্ট্রিতে দীর্ঘ দিন যাবত কাজ করছি। আমার অভিজ্ঞতা, মেধা ও মননশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আমি এই কোম্পানিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

অর্থসূচকঃ  ইসলামিক ফাইন্যান্স নিয়ে আগামী দিনে কী পরিকল্পনা রয়েছে। আপনাদের নতুন কোনো পণ্য বাজারে আসছে কী?

একেএম শহীদুল হকঃ আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এদেশের প্রথম শরীয়াভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের শরীয়াভিত্তিক বিনিয়োগ পণ্য ও আমানত পণ্য রয়েছে। কিছু নতুন আমানতপণ্য প্রবর্তন করেছি। ভবিষ্যতে একটা বাজার গবেষণা বিভাগ চালু করার প্রস্তুতি চলছে। এ বছরের শেষের দিকে কিছু নতুন বিনিয়োগ পণ্য প্রবর্তনের চেষ্টা চলছে। উৎকৃষ্ট মানের সেবা ক্রেতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ব্যাংকিং সংস্কৃতির যে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে তার সুফল যেন ক্রেতারা পায় সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।

অর্থসূচকঃ আইডিএলসি, লংকাবাংলাসহ বেশ কিছু এনবিএফআইয়ের পরিশোধিত মূলধন অনেক বড়। সেই তুলনায় আপনাদের মূরধন অনেক কম। এটা বাড়ানোর জন্য কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

একেএম শহীদুল হকঃ বিধিমালা অনুসারে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ মূলধন থাকার কথা, আমাদের মূলধন তারচেয়ে অনেক বেশি। মূলধনের দিক থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠান অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে। শরীয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে মূলধন ও ব্যবসা সম্প্রসারণের অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা সে বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছি।

 

অর্থসূচকঃ এনবিএফআই মার্কেটে আপনাদের শেয়ার কতটুকু?

একেএম শহীদুল হকঃ এনবিএফআইগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানি শরিয়াভিক্তিক। এ দুটি হচ্ছে ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং হজ্জ ফাইন্যান্স। শরীয়াহভীত্তিক হওয়ায় আমরা সব ধরণের ব্যবসা করতে পারি না। ফলে আমাদের মার্কেট শেয়ার খুবেই ছোট। তবে বহুজাতিক পণ্যের মাধ্যমে আমরা এটি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

২০১৫ এর তুলনায় ২০১৬ সালে আমাদের সময়ে লভ্যাংশ, শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ও শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) সবই বেড়েছে। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ শতাংশ বোনাস আর  ৩ শতাংশ নগদ। গত বছর ১৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিলাম। অন্যদিকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয়  হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা। গত বছর এটি ছিল ১ টাকা ৬৪ পয়সা। এ হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ৬৬ পয়সা বা ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় এবার ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্যও (এনএভি) বেড়েছে। গত বছর কোম্পানিটির এনএভি ছিল ১৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আর এ বছর সেটি ১৪ টাকা ১৪ পয়সা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ