‘জনগণের ক্ষতি করে ভ্যাট আদায় হবে না’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘জনগণের ক্ষতি করে ভ্যাট আদায় হবে না’

ভ্যাট দেবে সাধারণ মানুষ। জনগণের নির্বাচিত সরকার জনগণের ক্ষতি ও চাপ সৃষ্টি করে ভ্যাটের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবে না। সারা জাতিকে ভ্যাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে।

বুধবার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

নতুন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সারা জাতিকে ভ্যাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এ আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। সাময়িক সমস্যা হলেও এ আইন অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। ভ্যাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরাও দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে অবদান রাখছে। ব্যবসায়ীদের বিপাকে পেলে বা চাপ সৃষ্টি করে এ আইন বাস্তবায়ন করা হবে না এবং নতুন আইন সেভাবে করাও হয়নি।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ আইন নিয়ে একটি সুবিধাবাদী মহল নানা অপ্রপ্রচার চালাচ্ছে। সেটি যাতে না করতে পারে সেজন্য কর্মীদের আরও সতর্ক থাকার দরকার। আর সেজন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

“ভ্যাট নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা দরকার, সুনাগরিকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে নতুন ভ্যাট আইন করা হয়েছে।কারো ক্ষতি করার জন্য করা হয়নি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজস্ব আমাদের জন্য খুবই দরকার। রাজস্ব দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয়। দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ খুবই কম। বাংলাদেশের রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত খুবই কম। এ হার ৭ থেকে ৮ ভাগ ছিল, এখন বেড়ে তা ১১ থেকে ১২ ভাগ হয়েছে। এরপরও বলা হয়, এ হার শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয় সারা বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদি রাজস্ব আয় না হয় উন্নয়ন হবে কী দিয়ে। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, দেশের উন্নয়নের জন্য রাজস্ব প্রয়োজন। রাজস্ব হলে বন্দর, রাস্তাঘাট, কল-কারখানা হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে।

তিনি বলেন, আশার কথা হলো আগে উন্নয়নের জন্য বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর ছিল। বিদেশি সহায়তা ও ঋণ যেখানে ৮ থেতে ১০ ভাগ আসতো সেটা কমে ২ ভাগে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে সেটা তারই প্রমাণ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রেফারেন্স কান্ট্রি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য রাজস্বের দরকার হবে।

নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে তিনি বলেন,  ডায়নামিক ওয়ার্ল্ডে সবসময় আমরা আপডেটেড থাকতে চাই। পুরাতন আইনকে আপডেটেড করে সব মানুষকে সম্পৃক্ত করতে এ আইন। এনবিআর এ আইন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টুরিস্ট আসে থাইল্যান্ডে। টুরিস্টদের অ্যাপায়ন করার জন্য থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ যেন সারা জাতিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমরা যদি ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সারা জাতিকে সম্পৃক্ত করতে পারি তাহলে এখন যে অভিযোগ আনা হচ্ছে বা অনুমান করা হচ্ছে- ভ্যাটের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে- তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ভ্যাট আইন নিয়ে আমরা বেশি চ্যালেঞ্জ দেখার পাশাপাশি অনেক সম্ভাবনাও দেখতে পাচ্ছি। এরই আলোকে প্রথম একটি ভ্যাট একাডেমি ও পরবর্তীতে একটি ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। বাংলাদেশে এটা হবে পৃথিবীর প্রথম ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, বিশ্বের উত্তম চর্চার মাধ্যমে নতুন ভ্যাট আইন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করে এমন অনেক পণ্যে অব্যাহতি থাকবে। এ আইনে ব্যবসায়ীদের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাজ ভ্যাট কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। ভ্যাটের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হয়েছে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনবিআর সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল হাসান। নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এনবিআর সদস্য মূসকনীতি)ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন।

অর্থসূচক/রহমত/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ