মদ কীভাবে এসেছে জানেন না রেইনট্রির এমডি!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মদ কীভাবে এসেছে জানেন না রেইনট্রির এমডি!

বনানীর রেইনট্রি হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া মদ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন ওই হোটেলের ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে মদ রাখার ব্যাখ্যা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  হোটেলে কীভাবে মদ এল তা আমার জানা নেই।

RainTree Dhaka

বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেল।

এছাড়া হোটেলের কার্যক্রম শুরুর আগেই ‘জন্মদিনের পার্টি’ আয়োজনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুন বলেন, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের বিপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজ আমরা জমা দিয়েছি। শুল্ক গোয়েন্দারা আমাদের তথ্য পেয়ে সন্তুষ্ট। আমাদের হোটেলটির বারের কোনো লাইসেন্স নেই।  কিন্তু মদ কীভাবে হোটেলে এসেছিল তা আমরা জানি না। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগেই জন্মদিনের পার্টির আয়োজন কীভাবে হয়েছিল- তা আমরা নিজেরাও তদন্ত করছি।

এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগের সদর দপ্তরে হাজির হন শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুন। বেলা ১১টায় তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। অবৈধভাবে মদ রাখা ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে তাকে তলব করে সংস্থাটি।

সোমবার দ্য রেইনট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের দেওয়া নোটিশের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ওই আদেশ ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আদালত।

গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দ্য রেইনট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ মো. আদনান হারুনকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে হাজির হয়ে তার হোটেলে পাওয়া মদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাকে ১৭ মে হাজির হতে বলা হয়। এরপর আদনান হারুনের পক্ষে এক মাসের সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন। আবেদন বিবেচনা করে ২৩ মে তাকে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সদর দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়।

উল্লেখ, গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। গত ৬ মে ৫ জনকে আসামি করে বনানী থানায় ধর্ষণ মামলা হয়।

এ ঘটনার রেশ ধরে হোটেলটিতে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা। সেখান থেকে মদও উদ্ধার করে তারা। তবে আটক মাদককে ‘জুস’ হিসেবে বর্ণনা করে রেইনট্রি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে হোটেল থেকে মদ উদ্ধার হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

সোমবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষায় আটক বোতলে ১৩.৪৯% অ্যালকোহল পাওয়া যায় মর্মে প্রত্যয়ন পাওয়া যায়। এই রিপোর্টে আটক পণ্যকে ‘বিদেশি মদ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থসূচক/রহমত/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ