জ্যৈষ্ঠের গরমে ভোগাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জ্যৈষ্ঠের গরমে ভোগাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও

প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে মানুষ সারাদেশের মানুষ। সাগরের কাছে হওয়ায় চট্টগ্রামে গরম যেন তুলনামূলক বেশি। প্রচণ্ড গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন; আর রাতভর বিদ্যুৎ বিভ্রাট। সেইসঙ্গে পানি সরবরাহে ঘাটতিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বন্দরনগরীর বাসিন্দারা।

চট্টগ্রামের আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়ায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভ্রাম্যমান শরবতের দোকানে গলা ভেজানোর আয়োজন।

গত সোমবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৫ ডিগ্রি এবং ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রোববার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ও ২৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শনিবার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি ও ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আতিকুর রহমান অর্থসূচককে জানান, আজ বুধবারের তুলনায় আগামীকালের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এখন পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। আগামী শুক্রবারের দিকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে কালবৈশাখী ঝড় হলে তাপমাত্রা কমে যাবে।

একদিকে বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা; অন্যদিকে বাড়ন্ত তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। চট্টগ্রাম শহরের বাসিন্দারা বলছেন, নগরীতে সারাদিন বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে; মাঝে মাঝে বেড়াতে আসছে।

আর চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের অবস্থা আরও ভয়াবহ। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

মো. আব্দুল মজিদ রাজু নামের একজন বলেন, বোয়ালখালীকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণার মাধ্যমে এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ৭ ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ নেই। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে- এতো বিদ্যুৎ কোথায় যায়? অর্থের মতো বিদ্যুৎ পাচার হচ্ছে কি না- সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।

মাথায় ফাইলের কাগজ রেখে রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে চাইছেন এক পথচারী।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, গত সোমবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯৪০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৯০৩  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংগ্রহ করেছিল পিডিবি; ঘাটতি ছিল ২৭ মেগাওয়াট। রোববার ৯৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছিলো ৯১৫ মেগাওয়াট; ঘাটতি ছিল ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। গাসের সংকটের কারণেই বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, চট্টগ্রামের অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাস নির্ভর। মূলত গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে।

পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য সময়ের তুলনায় গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। গরম বাড়লে বাসা বা অফিসে এসি-ফ্যানের ব্যবহার বাড়ে; গরমের কারণে রমজানে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডাক্তার চিন্ময় বৈদ্য বলেন, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীর অধিকাংশই শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। গরমের কারণে এমনটি হচ্ছে। এই গরমে ভালো থাকতে প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

রাস্তার পাশে উন্মুক্ত স্থানে বিক্রি করা পানীয় পান থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ