মানহীন ফল-সবজি রপ্তানির অভিযোগে দুই মামলা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মানহীন ফল-সবজি রপ্তানির অভিযোগে দুই মামলা

মিথ্যা ঘোষণায় মানহীন ও ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট না নিয়ে সবজি ও ফল রপ্তানির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজ। গত ১৬ ও ১৯ মে দুইটি চালান আটকের পর যথাক্রমে ১৮ ও ২১ মে মামলাগুলো করা হয়।

আজ মঙ্গলবার মানহীন ও সার্টিফিকেট ছাড়া পণ্য আটক এবং মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার মো. আল-আমিন।

তিনি জানান, গত ১৬ এবং ১৯ মে যথাক্রমে ডলফিন ইন্টারন্যাশনাল ও ভাই ভাই ট্রেডার্স নামে দুই প্রতিষ্ঠানের দুইটি চালান আটক করা হয়। উভয় চালানের ক্ষেত্রে কয়েকটি পণ্যের নাম উল্লেখ করে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর থেকে প্রদত্ত ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট থাকলেও কাস্টমসে কায়িক পরীক্ষার সময় ভিন্নতর পণ্য পাওয়া গেছে।

Customs (1)

বিমানবন্দরে আটক মানহীন ফল ও সবজির প্যাকেট।

মো. আল-আমিন জানান, ১৬ মে বিমানবন্দরে ১ হাজার কেজি সবজির (বিল অব এক্সপোর্ট নম্বর সি-৪৩৭৬০০) একটি চালান আটক করা হয়। রাফি ফ্রেইট সিস্টেম নামে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান ও এক্সেলসিয়র কার্গো এজেন্সির মাধ্যমে এসব পণ্য বাহরাইনে রপ্তানি করছিল ডলফিন ইন্টারন্যাশনাল।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে তা আটক করা হয়। পরে কায়িক পরীক্ষা চালানের মধ্যে ১০০ কেজি মানহীন আলু পাওয়া যায়। গত ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের এই সহকারী কমিশনার জানান, গত ১৯ মে সৌদি আরবে রপ্তানির সময় ৩ হাজার ১০০ কেজি সবজি-ফলের একটি চালান আটক করা হয়। চালানটির কায়িক পরীক্ষায় মানহীন ৭০ কেজি লিচু জব্দ করা হয়। নিশো ইন্টারন্যাশনাল নামে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে পণ্যগুলো রপ্তানি করছিল ভাই ভাই ট্রেডার্স। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২১ মে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মো. আল-আমিন।

তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত শাক-সবজি ও ফল-মূল পণ্যের গুণগত মান এবং ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট ছাড়া পণ্য রপ্তানির অভিযোগ তুলেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। কয়েকজন অসাধু রপ্তানিকারকদের প্রতারণা ও অতি মুনাফা লোভী মনোভাবের কারণে বাংলাদেশি শাক-সবজি ও ফল রপ্তানি বাজার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুততর রপ্তানির স্বার্থে সাধারণত কাস্টমসে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি পণ্য কায়িক পরীক্ষার বিধান রয়েছে। ফলে সব সময় মানহীন পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয় না।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার মো. আল-আমিন জানান, রপ্তানি বাজার এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় শাক-সবজি ও ফল রপ্তানি চালান সর্বোচ্চ কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে গত ১৬ ও ১৯ মে তারিখে মানহীন পণ্যের দুইটি চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে। কাস্টমসের এ ধরনের নজরদারি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

অর্থসূচক/রহমত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ