এইচআরে ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সুযোগ আছে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এইচআরে ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সুযোগ আছে

আলেয়া পারভীন লীনা। একজন তুখোড় এইচআর প্রফেশনালস। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তার রয়েছে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা। বর্তমানে আইটি প্রতিষ্ঠান সিস্টেম সল্যুশন এন্ড ডেভেলপম্যান্ট টেকনোলজি লিমিটেডে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ব্র্যাক, সেইভ দা চিল্ড্রেন, জি আই জেড ও রহিম আফরোজসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে এইচআর বিভাগে কাজ করেছেন। মানবসম্পদ বিভাগের কাজ দিয়েই তার ক্যারিয়ার শুরু। তিনি ঢাকা বিশ্ববদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে অনার্স ও মাস্টার্স এবং পরবর্তীতে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজম্যান্টের উপর করেছেন এমবিএ। অর্থসূচকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে মানবসম্পদ বিভাগের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার গিয়াস উদ্দিন ও সাদিয়া খান

leena-1অর্থসূচকঃ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ একটি প্রতিষ্ঠানের কোন জায়গায় কাজ করে?

লীনা পারভীনঃ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বা এইচআরডি (Human Resource Department-HRD) একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদলকে প্রকৃত মানবসম্পদে রূপান্তর করা এইচআরডির প্রধান দায়িত্ব।

মানবসম্পদ বিভাগ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন জনবল নিয়োগে উপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীটিকে খুঁজে বের করা, তাদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

দক্ষ ও নিবেদিত জনবল যে কোনো প্রতিষ্ঠানের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য জরুরী। কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিজ নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ ব্যবহারে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা এইচআরের দায়িত্ব। এইচআর প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। প্রতিষ্ঠানে মধ্যে এমন একটি সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা করে, যেটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যকে ধারণ করতে সহায়তা করে, কর্মীদের মধ্যে ওনারশিপ (Ownership) তৈরি হয়।

কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার চেষ্টা করে এইচআর। কোনো সমস্যার সমাধান করা না গেলেও তার কারণে যাতে কর্মীর মনে কাজের প্রতি অনীহা তৈরি না হয়, প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম না দেখা দেয় মোটিভেশনের মাধ্যমে সেটি নিশ্চিতের চেষ্টা করে এইচআর। দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা (Employee retention) এইচআরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এইচআর সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বিজনেস বা রেভিনিউ নিয়ে কাজ করে না। কিন্তু কর্মীদেরকে রেভিনিউর লক্ষ্য অর্জন, ব্যবসা সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের উপযোগী করে তুলে। তাদেরকে শানিত করে। উদ্বুদ্ধ করে।

অর্থসূচকঃ তাহলে তো যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই এইচআর খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কী বলেন?

লীনা পারভীনঃ নিঃসন্দেহে এইচআর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে কোনো প্রতিষ্ঠানের টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকে বেশ গ্রোথ থাকে। নানাভাবে একটি প্রতিষ্ঠান বেশ বড় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু উপযুক্ত মানবসম্পদ না থাকলে যে কোনো সময় সে প্রতিষ্ঠান হোঁচট খেতে পারে।

অর্থসূচকঃ একটি অভিযোগ আছে আমাদের দেশে অসংখ্য বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তার অনেকগুলোতেই এইচআরকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এতে আমাদের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে?

leena 4

 

লীনা পারভীনঃ  এটি শতভাগ সত্য না হলেও আংশিক সত্য। বিদেশে এইচআরকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, আমরা ততটা দেই না। আমাদের অনেক উদ্যোক্তা সব সবময় সংখ্যার দিকে নজর দেন। গুণগত দিক উপলব্ধির চেষ্টা করেন না।

বাস্তবে এইচআরের কাজকে সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না। আমরা গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশন দিতে পারি না। কারণ আমরা কোয়ালিটি নিয়ে কাজ করি, কোয়ানটিটি না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এইচআরের মতামত নেওয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানগুলো এইচআরকে সহযোগীর মতই মনে করে। তাদের ব্যবসার সিদ্ধান্ত বা বার্ষিক কোনো প্ল্যান চুড়ান্ত করার সময় এইচআরের সাথে আলোচনা করা হয় না। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষতি হয় তা অনেকে বুঝতে পারেন না। কারণ যাদেরকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে, তাদের নিয়ে কাজ করে এইচআর। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি তাদের রাখা না হয় তাহলে তারা কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পালস বুঝবে না। পালস না বুঝলে তার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সঠিক হবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের রাখা হলে প্রতিষ্ঠান কী চাচ্ছে, তা বুঝা খুব সহজ হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানে অনেক বেশি উন্নতি হবে। এটি না হলে ব্যবসার ক্ষতি হবে। বিজনেস লাইন বুঝার জন্য এইচআরকে পার্ট মনে করতে হবে। এই স্বীকৃতি অনেক জায়গায় নেই। অনেক জায়গায় বাজেটও থাকে না। বাজেট না থাকলে প্রশিক্ষণও দেওয়া যায় না।

অর্থসূচকঃ আমরা যেটা দেখি যে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে। তাদের  প্রবৃদ্ধিও বেশ টেকসই। দেশীয় কোম্পানিগুলোতে দেখি মাঝ পথে থেমে যাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মানবসম্পদকে যতটা গুরুত্ব দেয়, আমরা ততটা দেইনা বলেই প্রবৃদ্ধি তেমন টেকসই হচ্ছে না?

লীনা পারভীনঃ  বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি নীতিমালা থাকে। ওদের সেন্ট্রাল অবজেক্টিভের মধ্যেই থাকে, তারা এইচআরের জন্য কত টাকা বিনিয়োগ করবে। আর যাদেরকে আমরা দেশীয় বহুজাতিক বলি তারা লিখিতভাবে অনেক কিছু রাখলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। আমাদের উদ্যোক্তারা এখনো চিন্তা করেন মাস শেষে কি পরিমাণ লাভ এবং লোকসান হলো। এখানে কিন্তু এইচআরের সরাসরি কোনো অবদান থাকে না। সরাসরি যখন অবদান দেখেন না, তখন তারা চিন্তা করেন এইচআর কী আমার অলংকার না অন্য কিছু। এই বিভাগের খরচটিকে তারা অপচয় হিসাবে ধরে নেয়, বিনিয়োগ হিসাবে নিতে পারেন না। তারা মনে করেন, একজনের প্রশিক্ষণের জন্য বছরে এতো টাকা খরচ করলে বছরে কত টাকা এনে দিবে। আর বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হিসাব করে একজন লোকের পেছনে ১০ টাকা খরচ করলে, সে ৩০ টাকা এনে দিবে। এখানেই গ্যাপ। মানুষ শুধু টাকার জনই কাজ করে না, ক্যারিয়ার নিয়েও তারা চিন্তা করে। বেতন বাড়লো কিন্তু ক্যারিয়ারের উন্নতি হলো না, এমন পরিবেশ যদি থাকে কোনো প্রতিষ্ঠানে তাহলে একদিন সে এখান থেকে সরে পড়বে।

অর্থসূচকঃ যদি কেউ এইচআরে ক্যারিয়ার গড়তে চায়,তাহলে তাকে কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে?

লীনা পারভীনঃ এই মুহুর্তে বাজার পরিস্থিতি (Market Scenario), বিজনেস নিড (Business Need) খোঁজখবর নিতে হবে। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আরেকটু বলি, প্রত্যেকের নিজের সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ থাকতে হবে। কী পারি, কী পারি না এবং কতটুকু করতে পারবো। এই জায়গায় একটি বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে। তারপর দেখতে হবে আমার শক্তিশালী ও দূর্বল জায়গা কোনটা। এর পর ক্যারিয়ারের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। এটি হতে পারে শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করে অথবা নিজের যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে।

কেউ যদি এইচআরে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাহলে এই বিষয়ে বিশেষ কোর্স ও অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো। তবে না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে কাজের প্রতি আগ্রহ ও শিক্ষার নেশা থাকতে হবে। তার যে জায়গায় গ্যাপ  আছে সে জায়গা পূরণ করার মত আগ্রহ থাকতে হবে। কোনো লোক নেওয়ার সময় প্রথমেই আমরা দেখি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে কী না? তার ভিশন কী। তারপর দেখি আমরা তাকে যে জন্য নিচ্ছি সে বিষয়ে সে কতটকু জানে। এ খাতে আসতে হলে বাজার সম্পর্কে, নিজের সম্পর্কে, নিজের দক্ষতা সম্পর্কে এবং এ বিভাগের কাজ সম্পর্কে একটি ধারণা থাকতে হবে। ডিগ্রী না থাকলে কোনো সমস্যা নেই। এমন অনেক আছেন যারা কাজ করতে করতে নিজেদের তৈরি করে নিয়েছেন।

অর্থসূচকঃ আপনি বলেছেন এ খাতে আসতে হলে তার শেখার আগ্রহ বা ইচ্ছা থাকলেই হবে। বাংলাদেশে কী এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে চাইলে একজন শিখতে পারবে?

লীনা পারভীনঃ শুধু এইচআর নিয়েই পড়াশোনা করাবে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নেই। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স এবং মাস্টার্সে সহযোগী বিষয় হিসেবে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পড়ানো হয়। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ এবং এমবিএ- এগুলোর কোনো কোনো কোর্সও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা মানবসম্পদ বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি দিয়ে থাকে।

অর্থসূচকঃ দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। সেইসঙ্গে গড়ে উঠছে বড় বড় অনেক ব্যবসায়-শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোতে করপোরেট কালচার আসছে। তো এমন পরিস্থিতিতে বর্ধিত চাহিদা পূরণে এইচআরের জন্য আলাদা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন কী?

লীনা পারভীনঃ আমি মনে করি এই বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুবই জরুরি। সরকারেরও মানব সম্পদ উন্নয়নের একটি লক্ষ্য আছে। কারণ আমরা দেশের বাইরে মানবসম্পদ রপ্তানি করি। যাদের বেশিরভাগই অদক্ষ। সেই মানুষগুলোকে দক্ষ করার জন্য টুকটাক কিছু কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু যদি আমরা বড় আকারে চিন্তা করি, তাহলে অবশ্যই স্বতন্ত্র একটি মন্ত্রণালয় প্রয়োজন। তার অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থাকবে, যারা বিদেশে যাবে সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যাবে। এছাড়া প্রত্যকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক বিভাগ  চালু করতে হবে। মানবসম্পদকে গুরুত্ব না দিলে আমরা পিছিয়ে যাবো।

leena-2

অর্থসূচকঃ নারীদের জন্য এই প্রফেশনটি কতটা নিরাপদ?

লীনা পারভীনঃ  প্রথম কথা হলো আমি ব্যক্তিগতভাবে লিঙ্গ বৈষম্যে বিশ্বাস করি না। কারণ হলো চাকুরির যে যোগ্যতা তা সবার জন্যই সমান। সেখানে কোথাও নেই ছেলেদের জন্য এই যোগ্যতা-মেয়েদের জন্য এই যোগ্যতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো নারী এবং পুরুষের এই বিষয়টি আলাদা না করে পারছি না। আমাদের দেশে প্রথম দিকে এইচআর শুরু হয়েছিল নারীদের চাকুরি জন্য। কারণ এই চাকুরিটি টেবিলে বসে করা যায়। মাঠে যেতে হয় না। এই ধরণের নমনীয়তা (কমফোর্ট জোন) থেকে প্রথম দিকে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আসতো। তারা মনে করতেন, এখানে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। কিন্ত এখন অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমি মেয়েদেরকে বলবো, সব সময় প্রফেশনাল চিন্তা করার জন্য। Don’t think about male or female. Just think as a competitor  in market. You r competing with Your counterpart. এই জায়গাটা মাথায় নিয়ে নিজেদের তৈরি করতে হবে। কোনটা নারী হিসাবে আমার জন্য ভালো এই চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এই চিন্তা থেকে বের হয়ে না আসলে অন্যরা নারী হিসাবেই তাদেরকে গণ্য করবে।

অর্থসূচকঃ বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট (BSHRM) নামে আপনাদের একটি প্ল্যাটফরম আছে। তারা এ বিভাগের জন্য কী ধরণের কাজ করছে?

লীনা পারভীনঃ আমি নিজেও ওই প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য। এইচআর পিপলদের জন্য তারা বেশ কিছু কাজ করছে। তবে এখনো কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। বিএসএইচআরএম কিন্তু অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন যেমন আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবির মতো সুসংগঠিতভাবে কাজ করতে পারছে না। পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে শক্তভাবে দরকষাকষির অবস্থানে যেতে পারছে না। কোনো সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনাও নেই আমাদের। আশা করি, আগামি দিনে বিএসএইচআরএম দেশে এইচআর পেশার মান উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

অর্থসূচকঃ আইসিএবি,আইসিএমএবির মত বিএইচএসআরএমের কোন বাইরের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা আছে? এখানকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাহিরে গিয়ে কাজ করা যাবে?

লীনা পারভীনঃ এটা অবশ্যই করা যেতে পারে। বিএইচএসআরএমের কিছু সমঝোতা আছে যেমন স্ট্র্যাটেজিক হিউম্যান রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট (এসএইচএসআরএম) নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন আছে। এশিয়া জোনেও বিএইচএসআরএমের মত একটি প্রতিষ্ঠান আছে। কিছু সমঝোতা আছে,সেটি হলো এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে। এখনো পর্যন্ত চাকুরির কোনো সমঝোতা নেই। আন্তর্জাকিভাবেও তেমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যারা এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থসূচকঃ এই পেশায় আসতে চাইলে আপনার পরামর্শ কী?

লীনা পারভীনঃ  এইচআর খুবই উপভোগ্য একটি ক্ষেত্র। আমি যদি আমার ব্যক্তিগত কথা বলি, কেন আমি এই বিভাগকে বেছে নিলাম। আমি মানুষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া পছন্দ করি। এখানে মানুষের মধ্য এতো বেশি ভিন্নতা, এখান থেকে যে পরিমাণ অভিজ্ঞতা অর্জন হবে, তা ব্যক্তি জীবনে অনেক কাজে লাগতে পারে। বিজনেসে কাজ করলে একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে কাজ করা যায়। আর এইচআরে কাজ করলে বিভিন্ন পেশার এবং দক্ষতার মানুষদের সাথে কাজ করার সুযোগ থাকে। একটি প্রতিষ্ঠানে ১০০ কর্মী ১০০ রকম চিন্তা করে। এইচআরকে সব চিন্তার সমন্বয় করতে হয়। এখানেই এর মজা। আমি বলবো মানুষের সঙ্গে ডিল করতে পছন্দ করে, যারা মানুষের উন্নতি করতে সহযোগিতা করে তাদের জন্য এইচআর অনেক ভালো জায়গা। আরেকটি বিষয়, এইচআরকে প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য কর্মীর ভাল-মন্দ সব কিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। এটি কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন বা পারিবারিক জীবনসহ সর্বক্ষেত্রে প্রয়োজন।

leena 3

অর্থসূচকঃ সবশেষে আপনি ক্যারিয়ার হিসেবে এইচআর প্রফেশনের সম্ভাবনা সম্পর্কে যদি একটু বলতেন।

লীনা পারভীনঃ বাংলাদেশে এইচআর বিভাগে চাকরির সুযোগ, এই প্রফেশনে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বলা যায়, এখানে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত বিশ্বায়নের ফলে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্পর্শে আসছে। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক অনেক সেমিনার সিম্পোজিয়াম হচ্ছে। এর ফলে হিউম্যান রিসোর্স ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বেস্ট প্রাকটিসগুলো সম্পর্কে জানতে পারছেন আমাদের উদ্যোক্তারা।

অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা এসে হাল ধরছেন, যাদের বেশীরভাগই উন্নত দেশগুলো থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন। ফলে এরা এইচআরের গুরুত্ব সম্পর্কে অনেক বেশী সচেতন। ফলে যেসব বড় প্রতিষ্ঠানে এতদিন এইচআরকে তেমন গুরুত্ব দিত না অথবা একেবারেই এইচআরডি নামে কোনো বিভাগ ছিল না, সেখানেও দিন দিন এইচআরডির জায়গা তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া দেশে নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, যেগুলো অনেক বড় ও আন্তর্জাতিক মানের। সেসব প্রতিষ্ঠানেও এইচআর প্রফেশনালদের যথেষ্ট চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এইচআর প্রফেশনালদের সামনে এখন অনেক সম্ভাবনা।

অর্থসূচক/সাদিয়া/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ