১০০০০ টাকায় ঘুরে আসুন পেলিং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

১০০০০ টাকায় ঘুরে আসুন পেলিং

এবার ঈদের ছুটিটা পড়ছে তীব্র গরমের মধ্যেই। তাই এই ছুটিতে কোথায় বেড়াতে গেলে একটু শান্তির পরশ পাওয়া যাবে তা ভেবে নিন এখন থেকেই। দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে গন্তব্যের তালিকায় রাখতে পারেন ভারতের কয়েকটি জায়গা। যেমন এই মে কিংবা জুন মাসে যখন ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি তখন কাশ্মির, দার্জিলং, সিকিম কিংবা গ্যাংটকে মাঘের তাপমাত্রা।

তবে কাশ্মির, দার্জিলিং বা সিকিমের সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবারে ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন পশ্চিম সিকিমের ছোট্ট জনপদ পেলিং।

৬৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই জনপদটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শিখর। কাঞ্চনজঙ্ঘার সবচেয়ে কাছের দৃশ্য দেখার চমৎকার জায়গা হিসাবে পরিচিত।

কী কী দেখবেন

পেলিংয়েই রয়েছে সাইট সিয়িংয়ের ব্যবস্থা। হোটেল থেকেই গাড়ির ব্যবস্থা করে নেওয়া যায়। এশিয়ার অন্যতম উঁচু সিনশোর ব্রিজ আছে এখানে।

পেমিয়াংশি মোনাস্ট্রি থেকে কাঞ্চজঙ্ঘার চূড়া দেখায় স্বর্ণ ফলকের মতো। পুরনো রাজবাড়ি রাবডান্টসের ধ্বংসাবশেষ থেকে সন্ধে নামতে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পুরনো রাজবাড়ি ধ্বংসাবশেষ থেকে দেখা সন্ধের আলো-জ্বলা শহর আপনার মন ভরিয়ে দেবে।

আপার পেলিং এর একটি বাড়ি

অজস্র গাছ থাকলেও, খেচোপেরি লেকের জলে কোনও পাতা পড়ে না– এটা এক আশ্চর্য বিস্ময়। ফুলের ঝাড়, সুদৃশ্য ল্যাম্পপোস্টের আলো, সাজানো দোকানপাট, সুবেশ, গৌরবর্ণ সুন্দর স্থানীয় তরুণ-তরুণীর এবং পর্যটকদের ভিড়ে স্থানটি যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে। দোকানগুলোর ফাঁকে ফাঁকে পাহাড়ের দিক থেকে হু হু করে বয়ে আসছে ঠান্ডা হাওয়া। মাঝে মাঝে ভিড় করে আসছে মেঘকুয়াশার দল। ঝিরিঝিরি নরম বৃষ্টি হয়ে তারা ঝরে পড়ছে পর্যটকদের চোখে মুখে। পাহাড়ের ঢালে রাতের পেলিং সেজে ওঠে আলোর মালায়।

সাংঘা চোয়েলিং মোনাস্ট্রি

রাজবাড়ি রাবডান্টসের ধ্বংসাবশেষ

পেলিংয়ে এসে এখানে অনেকেই যান না। ট্রেকিং পছন্দ করলে এবং পেলিং ভ্রমণ পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলে চলে যান সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীন এই গুম্ফায়। সকাল-সকাল বেরিয়ে পড়ুন। আপার পেলিংয়ে হেলিপ্যাডকে ডানহাতে রেখে ধরুন পাহাড়ি রাস্তা। অনতিদূরেই দেখতে পাবেন পাহাড়ের মাথায় গুম্ফার পতাকা। জঙ্গল ভেঙে উঠতে থাকুন চড়াই বেয়ে। খাড়া যেটি ধরে গুম্ফায় উঠবেন, তাতে রাস্তা বলা চলে না। পাথর ফেলে একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র। পৌঁছতে কষ্ট হলেও, উপর থেকে যে দৃশ্য দেখবেন, তাতে সব ক্লান্তি ভুলে যাবেন।

সূর্যোদয়

পেলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সোনা চূড়া

পেলিংয়ে হোটেল ভাড়া কমবেশি হয় সূর্যোদয়ের জন্য। কাঞ্চনজঙ্ঘার উপরে এত সুন্দর রঙের খেলা অন্য কোথাও চট করে পাবেন না। প্রধান চুড়োর একেবারে মাথায় একটু আলো পড়ে প্রথমে। তার পরে সেই আলো মাখামাখি হয় কাঞ্চনজঙ্ঘার গায়ে। পাল্টাতে থাকে রং। প্রকৃতির এক অনবদ্য কারসাজি।

কীভাবে যাবেন

পেলিং যাওয়ার পথ

বাংলাদেশ থেকে সড়ক বা রেলপথে পশ্চিমবঙ্গ। এরপর কলকাতার শিয়ালদহ থেকে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চেপে পরদিন সকাল ৮টায় এনজেপি স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে সরাসরি পেলিং যাওয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। এনজেপি স্টেশনে প্রিপেড ট্যাক্সি-গোত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আর যাওয়া যায় গ্যাংটক থেকে। তবে পেলিং ঘুরে গ্যাংটক আসাই ভালো। কেননা, তাতে সময় বাঁচবে।

কোথায় থাকবেন

আপার পেলিংয়ে হোটেলের ভাড়া কিঞ্চিৎ বেশি। মিড্ল এবং লোয়ার পেলিংয়ে কম। মোটামুটি দুই হাজার টাকায় ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘামুখী ঘরের ভা়ড়া স্বাভাবিকভাবেই বেশি গুণতে হবে।

জনপ্রতি আনুমানিক খরচ

বেড়াতে সাধারণত একসঙ্গে একাধিকজন যাওয়া হয়। আর একারণে হোটেলভাড়াও গড়ে কমে।  হোটেল ভাড়া মোটামুটি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা যাবে প্রতি দিন। সারা দিনের খাবার বাবদ ৩০০ টাকা বাজেট রাখতে পারেন। আর সাইট সিয়িং এর জন্য গড়ে ১০০০ টাকা।

এর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কলকাতার ভাড়া,  কলকাতা-এনজেপি যাতায়াত খরচ, এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে পেলিং যাওয়ার খরচ।  এখানে সব মিলিয়ে যাওয়া আসার ভাড়া গড়ে ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা লাগতে পারে।

ভ্রমণ বিষয়ক সাইটগুলোর তথ্যমতে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০০০০ থেকে ১২০০০ টাকায় তিন চার দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন খুব কাছের এই উচ্তম শীতল শহরটি থেকে।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ