গরম কমবে যেসব খাবারে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গরম কমবে যেসব খাবারে

গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীসহ সারা তীব্র তাপদাহ চলছে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। রাস্তায় বেরুলেই ছাতিফাঁটা রোদের কবলে কাহিল হতে হচ্ছে সকলকেই। আবার কাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখা যায় বিদ্যুৎ নেই। এই অবস্থায় ওষ্ঠাগত প্রাণে একটু শান্তির পরশ দিতে পারে কিছু খাবার। এসব খাবার যেমন পুষ্টিকর, তেমনি গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতেও সহায়তা করে।

আম

টকজাতীয় খাবার শরীরের গরম কাটায়। কাঁচা বা পাকা আমে টক জাতীয় উপাদন থাকায় এই খাবারটি গরমের কারণে শরীরের অস্বস্থি কমিয়ে শান্তি দিতে পারে। কাঁচা আম কুচিকুচি করে কেটে ঝাল ও লবন দিয়ে মেখে খেলে একদিকে যেমন পুষ্টি পায় শরীর তেমনি আমের টক শরীরে গরমের তীব্রতা কমাতে সহায্য করে।

এছাড়া কাঁচা বা পাকা আম জুস বা শরবত করেও খেতে পারেন। কাঁচা আমের সঙ্গে সামান্য পুদিনা পাতা, চিনি আর বরফকুচি যোগ করে পেতে পারেন এই সময়ের সেরা ক্লান্তিনাশক পানীয়।

তরমুজ

গরমে যখন প্রাণ যাই যাই তখন এক ফালি তরমুজ খেয়ে নিন। বরফ দেওয়া শরবতও খেতে পারেন তরমুজের। গরমে হাঁপিয়ে যাওয়া প্রাণটা জুড়িয়ে যাবে। মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে আসলেও এখনও বাজারে পাওয়াচ্ছে তরমুজ।

তরমুজে রয়েছ শতকরা ৯১.৫ ভাগ পানি। এতে রয়েছে ক্যানসারপ্রতিরোধী উপাদান লাইকোপেন।

লাল মরিচ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লুক লাবোর্ড বলেন, ঝালযুক্ত খাবার রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে বেশি ঘাম সৃষ্টি করে। ঘাম শুকালে তখন শরীর ঠান্ডা হয়। লাল মরিচে যে ক্যাপসিসিন থাকে, তা শরীরের তাপমাত্রা না বাড়িয়ে বেশি ঘাম সৃষ্টি করে। হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার হারও ১৩ শতাংশ কমে যায়। যারা নিয়মিত লাল মরিচ খান তাদের কোলেস্টেরল কম থাকে। একারণে শরীরে ফ্যাটও জমে কম। গরমও কম লাগে।

পুদিনাপাতা

ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার ক্ষমতা আছে পুদিনাপাতার। ইংরেজিতে যার নাম মিন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘এ’ দ্বারা পরিপূর্ণ পুদিনাপাতা। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এমন একটি উপকরণ, যা অতিরিক্ত গরমে ত্বকের ক্ষতি দূর করে। গরমের ঘাম জমে যে ঠাণ্ডা লেগে যায়, তা প্রতিরোধ করে। এই পাতা পেটের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে। পিষে, ধনেপাতার মতো তরকারিতে ছিটিয়ে বা কাঁচা সালাদের সঙ্গে খাওয়া যায়।

কলা

দিনের খাদ্যতালিকায় কলা কমবেশি সবারই থাকে, তা কাঁচা আর পাকা হোক। উপাদেয়, সস্তা, সারা বছর মেলে, এমন সবজি বা ফলের মধ্যে কলায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম। ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’র গুরুত্বপূর্ণ উৎসও কলা।

অতিরিক্ত ঘামের শরীর থেকে যে তরল বের হয়ে যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে পটাশিয়াম। তাই গরমের ক্লানি কমাতে কলা খেতে পারেন।

টমেটো

টমেটোতে রয়েছ শতকরা ৯৪.৫ ভাগ পানি। এছাড়া এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, লাইকোপেন, ক্যারোটিন, রিবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম ও লোহা থাকে। টমেটোর জুস কিংবা সালাদ দুই সুস্বাদু। এছাড়া রান্নার পরও টমেটোর পুষ্টিগুণ কমে না। তাই গরমের সময় টমেটোর স্যুপ কিংবা ঝোল খেতে পারেন।

শসা বা ক্ষীরা

শসায় রয়েছে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ পানি। এই গরমে শসার সালাদ রাখুন প্রতিবেলায়। শসার সঙ্গে ধনেপাতা মেশালে স্বাদ বাড়বে। পাশাপাশি ননিবিহীন দুধের তৈরি দই, পুদিনাপাতা আর বরফ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করতে পারেন। এই জুস আপনার শরীর সতেজ রাখবে এবং তৃষ্ণাও মেটাবে।

ডাব

ডাবের পানিতে আছে শরীরের জন্য উপকারী পাঁচটি উপাদান: ক্যালসিয়া, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম। প্রতিদিন ডাবের পানি খান, তাহলে নিজের মধ্যে অসীম প্রাণশক্তি খুঁজে পাবেন, যা আগে অনুভব করেননি।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ