‘ঢাকা পুরুষতান্ত্রিক শহর’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ঢাকা পুরুষতান্ত্রিক শহর’

ভালো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের বাইরে যেতে চান না রাজধানীর অর্ধেকের বেশি নারী। আর যারা বাইরে যান তাদের প্রায় ২৩ শতাংশই গণপরিবহনে অপমানজনক আচরনের শিকার হন। একই সঙ্গে গণপরিবহনে চলাচলকারী ৮৬ শতাংশ নারী যানজট নিয়ে হতাশ। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা ঢাকাকে পুরুষতান্ত্রিক শহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শনিবার অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ গুলশান কার্যালয়ে ‘বিশ্ব নিরাপদ নগরী দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত ‘নারী সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে এমনসব তথ্য উপস্থাপতি হয়েছে।

রাজধানীর রাস্তা, বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত, মার্কেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের ২০০ জন নারীর উপর জরিপ চালিয়ে ওই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। গবেষণাপত্রের নানা দিক তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আক্তার মাহমুদ।

তিনি বলেন, ঢাকা শহর পুরুষতান্ত্রিক শহর হিসেবেই গড়ে উঠেছে, যা মহিলা ও নারীদের অবাধ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। এর ফলে নারীরা বাড়ির বাইরে যেতে চায় না কিংবা কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে না; যা তাদের অধিকার ও দাবি থেকে বঞ্চিত করে, অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতির স্বীকার হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবহনব্যবস্থা ভালো না থাকায় ৫৬ শতাংশ নারী বাইরে যেতে চান না বলে জানান। প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী বলেছেন, বাসের চালক বা সহকারী তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে,  ঢাকা শহরের প্রায় ২২.৫ শতাংশ নারী বাইরে বের হয়ে বাস সহকারী, চালক বা সহযাত্রীর কাছ থেকে যৌন হয়রানির শিকার হন।

অধ্যাপক আক্তার মাহমুদ বলেন, নারীদের চাহিদা নগর পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হতে দেখা যায় না। একটি নগর পরিকল্পনা যখন নারী বান্ধব হয় না, তখন স্বভাবতই নারীদের জন্য নগর ছোট হয়ে আসে ও অনিরাপদ হয়ে দাঁড়ায়। নিরাপত্তার অভাবে নারীরা তাদের চলাফেরা সীমিত করে ফেলে।

গবেষণাটি বলছে, এই নারীদের ৯৪ শতাংশ নানা কারণে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন না। এমনকি পুরুষ সঙ্গী ছাড়া তারা একা এসব টয়লেট ব্যবহার নিরাপদ মনে করেন না। ৮৭ শতাংশ নারী পার্ক ও উদ্যান সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলেছেন।

গবেষণায় অংশ নারীদের অনেকেই ফুটপাতকে হাঁটার উপযোগীও মনে করেন না। ৭২ শতাংশ নারী বলেন, ফুটপাতগুলো নির্মাণসামগ্রী, হকার ও দোকানদারদের দখলে।

এতে আরও জানানো হয়, বিচ্ছিন্নভাবে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়। এতে গরিব, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ নারী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। এমনকি তাদের কথা বিবেচনাও করা হয় না। অথচ সমাজের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন নগর তৈরি করতে হবে।

আজকের এই অনুষ্ঠানে  অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, স্থপতি ইকবাল হাবিব ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ডা. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ