নিয়োগ পরীক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ হলে প্রার্থী প্রতি সাশ্রয় হবে ২৮০০০ টাকা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নিয়োগ পরীক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ হলে প্রার্থী প্রতি সাশ্রয় হবে ২৮০০০ টাকা

বিসিএসের পর চাকরি প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চাকরি। এই তালিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাকরিও আছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য প্রতি বছরই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৭ জুন তারিখে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল অগ্রণী ব্যাংক। ওই পোস্টের ২৬২টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ওই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। এর বিপরীতে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার চাকরি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

এর আগে একই বছরের ১০ মার্চ তারিখে অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার- টেলার (এইও-টেলার) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল জনতা ব্যাংক। ওই পোস্টের ৫৩৬টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ওই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। এর বিপরীতেও ২ লাখের বেশি চাকরি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

BCS-Exam

ফাইল ছবি

২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারিতে সিনিয়র অফিসারের ৭০১টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল সোনালী ব্যাংক। একই তারিখে অফিসারের ৮২০টি শূন্য পদ এবং অফিসার ক্যাশের ৭৫৫টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ব্যাংকটি। ওই ৩ পোস্টে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতেও আড়াই লাখের বেশি চাকরি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষা ৩ ধাপে নেওয়া হয়। আবেদনকারীর সবাই এসব পরীক্ষায় অংশ না নিলেও প্রায় ৯০ শতাংশ চাকরি প্রার্থী প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারিতে অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে পাস করা প্রার্থীদের বাছাই করে লিখিত পরীক্ষার জন্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। আর লিখিত পরীক্ষায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের ভাইভাতে ডাকা হয়।

Agrani Bank

২০১৬ সালের অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা- এই ৩ ধাপের পরীক্ষা-ই অনুষ্ঠিত হয় রাজধানী ঢাকায়। আর এসব পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বার বার ঢাকায় আসতে হয় বেকার তরুণ-তরুণীদের। কোনো পরীক্ষার আগের দুই দিনে অন্যান্য বিভাগীয় শহর থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বাড়ে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর এবং বরিশাল থেকে ঢাকায় আসার সব যোগাযোগ মাধ্যমেই চাকরি প্রার্থীদের ভিড় চোখে পড়ে। শুধু তাই নয়; পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে রাজধানীর সাধারণ মানের আবাসিক হোটেলেও ভিড় বাড়ে।

সাধারণত শুক্রবার সকাল ও বিকেলে রাজধানীর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে হল নির্ধারণ করে এসব পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও পরীক্ষার দিনগুলোতে সকাল থেকেই যানজটে ঢেকে যায় ঢাকা শহর। সন্ধ্যার পর নিজ বিভাগে ফেরার জন্য রেল স্টেশন এবং বাস কাউন্টারে ভিড় করেন নিয়োগ পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসা চাকরি প্রার্থীরা। আবার টিকেট না পেয়ে অনেকেই পরের দিনগুলোতে ফেরার জন্য আবারও হোটেলে অবস্থান নেন।

সড়ক পথে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে ঢাকায় আসতে জনপ্রতি গাড়ি ভাড়া ব্যয় হয় ৪৮০ টাকা। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় শহর থেকে ঢাকায় আসতে যথাক্রমে ৪৫০ টাকা; ৫০০ টাকা; ৫০০ টাকা এবং ৫৫০ টাকা গাড়ি ভাড়া খরচ হয়।

এই ব্যয় বহন করেই প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন ঢাকার বাইরের চাকরি প্রার্থীরা। অল্প সময় বিশ্রাম নিতে রাজধানীর বিভিন্ন নিম্ন মানের এবং সাধারণ হোটেলগুলোতে উঠেন তারা; এর জন্য দিনে ভাড়া গুনতে হয় গড়ে ৪০০ টাকা করে। হোটেলে খাওয়ার জন্য প্রতি বেলায় গড়ে ১৫০ টাকা করে খরচ করতে হয় একজন প্রার্থীকে। শুধু শুক্রবারের দিনটাই ঢাকায় থাকলে খাবারের জন্য জন প্রতি ব্যয় হয় কমপক্ষে ৪০০ টাকা। আবার ঢাকা থেকে নিজ বিভাগে ফিরতে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয় চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসা বেকার তরুণদের।

Shonali Bank

২০১৬ সালের সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

এই হিসাবে ব্যাংক এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রিলিমিনারি ধাপের পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা থেকে শুরু করে নিজ বিভাগে ফেরা পর্যন্ত গড়ে ১৮০০ টাকা ব্যয় হয়। লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষাতে অংশ নিতে আসা চাকরি প্রার্থীদেরও একই পরিমাণের অর্থ ব্যয় হয়।

শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নয়; বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া অন্য সব সরকারি পরীক্ষার জন্যই ঢাকায় আসতে হয় চাকরি প্রার্থীদের। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতেও ঢাকায় আসতে হয় দেশের অন্যান্য বিভাগের প্রার্থীদের। শুধু একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সেটাতেই চাকরি পাওয়ার ঘটনা আমাদের দেশে বিরল। শূন্য পদের তুলনায় চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা কয়েকশ গুণ বেশি হওয়ায় অধিকাংশ প্রার্থীকেই চাকরি বঞ্চিত থাকতে হয়।

এমন প্রার্থীও রয়েছেন, যারা গত ৩-৪ বছরে প্রতি মাসে অন্তত দুই বার করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন। বেশ কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভাতে অংশ নিয়েও চাকরি হয়নি এমন প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

একজন বেকার তরুণ বা তরুণী একটি চাকরির প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা পর্যন্ত ৩ বার ঢাকায় আসলে কমপক্ষে ৫৪০০ টাকা ব্যয় হয়। এভাবে কেউ যদি বছরে গড়ে ৫টি পরীক্ষায় অংশ নেন; এর জন্য তাকে ব্যয় করতে হয় কমপক্ষে ২৮ হাজার টাকা। এটি গড় হিসাব; মূলত প্রতি বছর অধিকাংশ শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী এর চেয়েও বেশি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। আর প্রতিবছরই চাকরি পাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষিত বেকার তরুণ বা তরুণীকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিসিএসের মতো অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষাও বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিড়ম্বনা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নিলেই পরীক্ষা গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব। এটি কার্যকরে হয়তো ২-৩ বছর সময় লাগবে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।

একইসঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস রোধে পিএসসির মতো প্রশ্নের পৃথক সেট রাখার প্রস্তাবনাও দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, যে পরিমাণ প্রার্থী আবেদন করে তাদের ৯০ শতাংশও যদি প্রিলিমিনারি অংশ নেন সেই সংখ্যাও গড়ে ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ঢাকার বাসিন্দা হিসাব করলেও গড়ে কমপক্ষে ১ লাখ ৭০ হাজার চাকরি প্রার্থী অন্যান্য বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ