রমজানের আগে গ্রিক মূর্তি না সরালে রাস্তায় নামার হুমকি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রমজানের আগে গ্রিক মূর্তি না সরালে রাস্তায় নামার হুমকি

পবিত্র রমজানের আগেই হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি না সরালে রাস্তায় নামবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের ওলামায়ে কেরামের কাছে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই রমজান মাস শুরুর আগেই সেটি অপসারণের জোর দাবি জানাই। প্রধান বিচারপতির কাছেও আমাদের দাবি, বৃহত্তর তৌহিদি জনতার চাওয়াকে গুরুত্ব দিন এবং দেশে এই ইস্যুতে যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়- সেজন্য মূর্তি অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। অন্যথায় যথাসময়ে মূর্তি না সরালে আমরা আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।

হেফাজতে ইসলামের লোগো

এতে আরও বলা হয়েছে, গোঁড়া সেকুলার মৌলবাদী প্রগতিশীলরা অজ্ঞতাপ্রসূত বলছেন যে, মূর্তি আর ভাস্কর্য নাকি এক নয়! অথচ বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের ৯২৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘প্রস্তরাদি খোদাই করে বা তা দিয়ে মূর্তি বানানোর কাজ’কে ভাস্কর্য বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘ভাস্কর’ থেকে ‘ভাস্কর্য’ শব্দটি এসেছে। ভাস্কর-এর অর্থ সূর্য বা অগ্নি। অন্যদিকে, ‘প্রস্তরাদি থেকে যিনি মূর্তি নির্মাণ করেন’ তাকেও ভাস্কর বলা হয়েছে উক্ত অভিধানে। এছাড়া বাংলা একাডেমির ইংরেজি-টু-বাংলা অভিধানে ভাস্কর্যের ইংরেজি শব্দ ‘স্কাপচার’-এর বাংলা অর্থে বলা হয়েছে, ‘মূর্তি/প্রতিমা গড়া বা খোদাই করা’। সুতরাং যারা এতোদিন ধরে বলছেন যে, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক জিনিস নয়- তারা প্রকৃতপক্ষে স্যুডো-ইন্টেলেক্ট তথা মিথ্যা বুদ্ধিবৃত্তির বেসাতি করেছেন মাত্র।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমরা আগেও বলেছি, শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যকলার বিরুদ্ধে আমরা নই; বরং মানুষের শিল্পবোধ ও মননশীলতার উন্নয়নে এগুলোর গুরুত্ব রয়েছে। আপনারা ইসলামী শিল্পকর্মের ইতিহাসের দিকে দেখুন: আগ্রার তাজমহল, জেরুজালেমের ডোম অফ দ্য রক, স্পেনের কর্ডোভায় খোদাইকৃত মুঘীরা কৌটা, কায়রোতে সেন্ট লুইয়ের ব্যাপ্টিস্টেয়ার ইত্যাদি এগুলো মুসলমানদের দ্বারা বিশ্বনন্দিত ইসলামী শিল্পকর্মের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

এছাড়া বিগত ২০১৫ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মুসলিমদের শিল্পকর্ম ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেজন্য দুইটি গ্যালারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে সেখানে।

তারা আরও বলেন, মূর্তি বা প্রতিমা নির্মাণ ব্যতীত এবং ইসলামের বিশ্বাসব্যবস্থা তথা তাওহিদ ও ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যকলায় ইসলামের আপত্তি নেই। আমাদেরও কোনো আপত্তি থাকতে পারে না। কিন্তু পাশ্চাত্যের আধুনিকতাবাদ এবং ইউরোপীয় খ্রিস্টীয় সভ্যতার আলোকে ইসলাম তার শিল্পবোধ, নান্দনিকতাবোধ ও কলাজ্ঞান পরিমাপ করে না। সুতরাং ইসলাম প্রাচীন মূর্তিকেন্দ্রিক পৌত্তলিক জাহেলিয়াতকে শিল্পের নামে উপস্থাপন করারও বিরোধী; যেমন: হাইকোর্টের সামনে রোমানদের প্রাচীন বিশ্বাসের অংশ, ন্যায়ের দেবী থেমিসের মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন।

বিবৃতিতে  বলা হয়েছে, বিগত শতকের শুরুতে উদ্ভাসিত আধুনিকতাবাদ প্রসূত কলাকৈবল্যবাদ অর্থাৎ ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ স্লোগান তুলে মানব সভ্যতায় এক ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। জন্ম থেকেই আধুনিকতাবাদ মানুষের সহজাত ঈমান, সমাজব্যবস্থা ও ধর্মসহ মানব সভ্যতার সব প্রতিষ্ঠানকে অস্বীকার করে এসেছে এবং অবাধ ভোগবাদ ও পুঁজিবাদের সহায়কে পরিণত হয়েছে। এই আধুনিকতাবাদই মানব সভ্যতার সমকালীন বিপর্যয়ের মূল কারণ। আমাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐহিত্য ও ইসলামী ভাবসম্পদ রক্ষার্থে এই মহামারী আধুনিকতাবাদ এবং এর বঙ্গীয় সেকুলার ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে গণলড়াইয়ে অংশ নিতে দেশের সব স্তরের ঈমানদার নাগরিকদের আহ্বান জানাই।

গ্রিক দেবী মূর্তির পক্ষে যারা আজ ওকালতি করছেন, হাদিস অনুযায়ী পরকালে তাদের হাশর হবে মূর্তি প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে। এই মূর্তির সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তাই এটির অপসারণ শতভাগ যৌক্তিক এবং এটি ধর্মপ্রাণ গণমানুষের ঈমানের দাবিও বটে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ