ত্বকের চর্চায় মৌসুমী ফল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ত্বকের চর্চায় মৌসুমী ফল

ত্বকের যত্নে মৌসুমি ফলের অসাধারণ গুণের কথা আমরা সকলেই কম-বেশি জানি। ষড়ঋতুর এ দেশের জন্য নানা বর্ণের ও রকমারী স্বাদের মৌসুমি ফল যেন আশীর্বাদ স্বরূপ। সুলভে ও স্বল্পমূল্যে এই মৌসুমি ফলগুলো। ছোটবেলা থেকেই নানি-দাদির কাছে ত্বক ও চুলের যত্নে তাজা ফলের অবদানের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। শুধু এই ঈদের আয়োজনেই নয়, সারাবছর খাদ্য তালিকায় তাজা ও রঙিন ফল ব্যবহার করে খুব সহজেই আমরা পেতে পারি তারুণ্যদীপ্ত ত্বক। ত্বকের যত্নে সহজলভ্য দেশী ফলগুলোর জানা ও অজানা নানা তথ্য জানাচ্ছে অর্থসূচক-

আমের ছবি- সংগৃহীত

ত্বকের রং উজ্জ্বল করে আম

স্বাদে গন্ধে ও মাধুরীতে পরিপূর্ণ আম ছোট-বড় সকলের কাছেই জনপ্রিয়। আমের পুষ্টিগুণ বলে শেষ করা যাবে না। এককাপ পাকা আমে ১০০ ক্যালরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, দৈনন্দিন প্রয়োজনের ভিটামিন এ ৩৫শতাংশ, ভিটামিন বি ৬শতাংশ। ফাইবার সমৃদ্ধ ফল বলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পথ্য স্বরূপ। আমে বিদ্যমান ভিটামিন এ ত্বক ও চুলের টিস্যু বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। বিটা ক্যারোটিনয়েড ও এ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস আম। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটাক্যারটিনয়েড সমৃদ্ধ ফল খেলে স্বাভাবিকভাবে ত্বকের রং উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়। নিয়মিত আম খেলে শরীরের আয়রন ঘাটতি পূরণ হবে এবং হিমোগ্লোবিন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

banana

কলা। ফাইল ছবি।

ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ কলা

সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কলা সারা বছরই সহজেই পাওয়া যায়। এই জনপ্রিয় ফলটি সুষম খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কলার হরেক রকম শ্রেণীভেদ থাকলেও সাগর, শবরী, চিনিচাম্পা বেশি সমাদৃত। এ্যানিমিয়া রোগীর জন্য আদর্শ খাদ্য কলা। যারা অনিদ্রা ও বিষন্নতায় ভুগছেন রাতের খাবারের শেষে অবশ্যই ১টি কলা খাবেন। কারণ, এর ট্রিপটোফ্যান ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ। পর্যাপ্ত ঘুম দূর করবে ডার্ক সার্কেল ও চেহারার অবসন্নতা। কলার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর অভাবে চুল পড়া, আগা ফাটাসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়।

লিচু, ছবি সংগৃহীত।

ত্বকের বলিরেখা সারাতে লিচু

সুস্বাদু ও সরস লিচু কার না পছন্দ। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ডেজার্ট হিসেবে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বকের কোলাজেন কমে যায়। ত্বকে দেখা দেয় বলিরেখা। এর প্রধান কারণ শরীরে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট কমে যাওয়া। লিচুতে অলিগোনোল নামক এক ধরনের এ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যা কোলাজেন তৈরি ছাড়াও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রাখে সুরক্ষিত। সে কারণে লিচুকে ত্বকের ক্যান্সার ও বলিরেখার অস্ত্র বলা হয়। কম ক্যালরি ও লো-ফ্লাটযুক্ত ফল লিচু। লিচুতে ভিটামিন ডি ও খনিজ পদার্থে (কপার জিংক, ম্যাঙ্গানিজ) ভরপুর বলে চুলের সুস্থতার জন্য ভাল টনিক।

পেঁপে। ফাইল ছবি।

মহৌষধ পেঁপে

মাখনের মতো তুলতুলে নরম পাকা পেঁপেকে রোগের পথ্য বলা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, পর্তুগাল, স্পেন, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডে সারা বছরই পেঁপের চাষ হয়। পেঁপেতে প্রচুর জলীয় অংশ থাকায় এটি ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ও খণিজ পদার্থের উৎস পেঁপে। বিটাক্যারোটিন ও এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের মৃত কোষ সারিয়ে তুলে ত্বককে রাখে দাগ ও বলিরেখা মুক্ত। ফাইবারযুক্ত পেঁপে সহজেই শরীরের ওজন কমিয়ে ওজনকে রাখে নিয়ন্ত্রণে।  নিজেকে রোগ মুক্ত ও সুন্দর রাখার জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় চাই মহৌষধ পেঁপে।

lemon

লেবু। ফাইল ছবি।

প্রাকৃতিক এ্যান্টিবায়োটিক লেবু

শুধু রুচিবর্ধকই নয়, লেবু, জাম্বুরাকে প্রাকৃতিক এ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়। ভিটামিন সি ও এ্যান্টি অক্সিডেন্টের মহান উৎস এই ফলগুলো ত্বক, নখ ও চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ কার্যকর। নিয়মিত ফলগুলো খেলে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়ে ত্বক হয়ে উঠে মসৃণ। লেবুর শরবত শুধু রিফ্রেশিং পানীয়ই নয়, উষ্ণ পানি ও লেবুর মিশ্রণ ওজন কমানোর জন্য আদর্শ টনিক। খাবারের পর ১ টুকরো লেবু চুষে খেলে মুখগহ্বরে জীবাণুর সংক্রমণ রোধ হয় ।

coconutgreen

ডাব। ফাইল ছবি।

ত্বককে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখে ডাবের পানি

ক্লান্ত শরীরে ১ গ্লাস ডাবের পানি দেহ ও মনে এনে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া। ১ কাপ পানিতে ৩ গ্রাম ফাইবার, ২ গ্রাম প্রোটিন থাকে বলে ডায়েটেশিয়ান ও জিম ইন্সট্রাক্টর স্পোর্টস ড্রিংক হিসেবে ডাবের পানিকে প্রাধান্য দেন। এর ফাইবার শরীর থেকে টক্সিন দূর করে ত্বককে রাখে সুস্থ ও রোগমুক্ত।  যা নিয়মিত পানে মুছে যাবে ত্বকের বিবর্ণতা ও মলিনতা। সুবিধা হল সকল ঋতুতেই কচি ডাব বাজারে পাওয়া যায়।

dalim

ডালিম-ফাইল ছবি

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমিয়ে আনে ডালিম

চার হাজার বছর পূর্বে ইরানে ডালিমের প্রথম চাষ হলেও আমাদের দেশে এর কদর অনেক বেশি। প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় ডালিম রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নেয়। ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে ত্বকে অকাল ভাঁজ ও দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে। অতিরিক্ত সেরাম সিক্রেশনের কারণে ত্বকে সহজেই ব্রণ দেখা দেয়। এ ছাড়াও ব্রণের পর যে ক্ষত বা দাগ থাকে, কোলাজেন তৈরির মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্ষত সারায়। ডালিম জিংকের উৎস। ত্বকের সুস্থতার জন্য জিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ডালিমের অসাধারণ আর একটি গুণ হল এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে সূর্যের ইউভিবি ও ইউভিএ থেকে সুরক্ষা করে।

কামরাঙা। ছবি সংগৃহীত।

এ সকল দেশী ফল ছাড়াও রয়েছে চালতা, বেল, কামরাঙা, করমচা প্রভৃতি। ত্বকের রঙ কালো বা ফর্সা যেমনই হোক না কেন ত্বকের মূল সৌন্দর্য হল লাবণ্য। পর্যাপ্ত যত্নের অভাব, পরিবেশ দূষণ, রোদ, মানসিক দুশ্চিন্তা; এ সকল কারণে ত্বকের এই লাবণ্য ধরে রাখা কঠিন। আর এর সমাধান এনে দেবে প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় দেশীয় ফলের সংযোজন।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ