'বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী অধিবেশনেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী অধিবেশনেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট’

এদেশে বেশি পরিমাণে বিনিয়োগ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট-২০১৭’ সংসদের আগামী অধিবেশনেই উপস্থাপিত হবে।

তিনি বলেন, ‘যারা এদেশ ছেড়ে ওগান্ডা, তানজেনিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে গেছেন, তারা এক সময় এসে এদেশে আর বিনিয়োগের জন্য জায়গা পাবেন না। বিশ্বাস করুন, দেশের উন্নয়নের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই আমরা করবো। যদি ট্যাক্সরেট শূন্য শতাংশ করতে হয়, তাও করবো। তবুও এদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। তাই সকলের প্রতি আহবান এদেশে ইনভেস্ট করুন।’

পদ্মা সেতুতে রেল লাইন

মন্ত্রী আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অবকাঠামো’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম।

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)-এর কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি জো ওয়ার্নার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, পদ্মার ওপারে বিমানবন্দরসহ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতির নানাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে । তবে সময় এসেছে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার।

তিনি বলেন, সরকার মাতারবাড়ীতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে প্রাইভেট সেক্টরের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের দেশের প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য এখন আমাদের হাতে ২৯ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। এগুলো দিয়ে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত ৮ বছরে ১৮ শতাংশ হারে রাজস্ব আহরণ করেছে, যার ফলে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদের মাধ্যমে বাজেটের ৯০ ভাগ অর্থায়ন মেটানো হচ্ছে।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছতে হলে আগামী ২৪ বছরের মধ্যে ১২ গুণ জিডিপি বাড়াতে হবে। এজন্য অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে।

বিডা ‘ওয়ান স্টপ’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উদ্যোক্তারা কম সময়ে ট্রেড লাইসেন্স, আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তিসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক সেবা পাবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কনস্ট্রাকশন এপ্রোভাল সময় কমিয়ে ২৬৭ দিন থেকে ৬০ দিনে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সময় ৪শ’ দিন থেকে ২৮ দিনে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের অবকাঠমো খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম বলেন, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাতে দৃশ্যমান উন্নতি অর্জন করেছে এবং এখন আমাদেরকে অবকাঠামোখাতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম নির্ধারিত আলোচনা সঞ্চালনা করেন। চট্রগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেক ইকবাল, আব্দুল মোনেম লিমিটেড’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মাইনুদ্দিন মোনেম এবং অ্যালাইন্স পোর্ট লিমিটেড’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদ ইয়াসির হায়দার রিজভী নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

রিয়ার এডমিরাল এম খালেক ইকবাল বলেন, বর্তমানে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে কন্টেনারের পাশাপাশি জাহাজের আকারও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বন্দরের সংস্কার কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে। তিনি পণ্য পরিবহনে খরচ ও সময় কমানোর লক্ষ্যে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর কাছাকাছি এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরামর্শ প্রদান দেন।

মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, সরকার ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি অধিগ্রহণ একটি বড় সমস্যা। এজন্য আইনের সংষ্কার আবশ্যক। অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মূল প্রবন্ধে ওয়েন্ডি জো ওয়ার্নার জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর ৪৫তম অর্থনীতির দেশ এবং অবকাঠামোখাতে ১১৪তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহন ও বিতরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ