ঝিনাইদহ জঙ্গি আস্তানা থেকে বোমা-ডিনামাইট উদ্ধার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঝিনাইদহ জঙ্গি আস্তানা থেকে বোমা-ডিনামাইট উদ্ধার

ঝিনাইদহ সদরের চুয়াডাঙ্গা গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আজ মঙ্গলবার সকালে ঘেরাও করা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সুইসাইড ভেস্ট, বোমা, ডিনামাইট স্টিক ও বোমা তৈরির সার্কিট বোর্ড উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই বাড়ির আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, জঙ্গিদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে আজ সকাল ৭টার দিকে বাড়ি দুইটি ঘেরাও করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বাড়ির আশপাশে তল্লাশির সময় বাঁশঝাড় থেকে সুইসাইড ভেস্ট, বোমা, ১৪টি ডিনামাইট স্টিক ও বোমা তৈরির সার্কিট বোর্ড পাওয়া গেছে।

Zhinaidah

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা একটি বাড়ি।

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহে কয়েকটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ায় ওই অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়েছে র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ। র‌্যাবের টহল দল গতকাল সোমবার রাতে ওই গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৪৫) এবং মতিউর রহমানের ছেলে প্রান্তকে (২০) আটক করে।

তিনি জানান, আতাউর ও মতিউর আপন ভাই। আতাউরের আরেক ছেলে তুহিন গত ৭ মে মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামে এক জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হয়। সেলিম ও প্রান্তকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, তাদের বাড়িতে বিস্ফোরক থাকতে পারে। সেখানে জঙ্গিদেরও সন্ধান মিলতে পারে। এর ভিত্তিতেই সকালে অভিযান শুরু হয়।

খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, দুই বাড়ি ঘিরে তল্লাশির মধ্যে প্রান্তদের বাড়ির বাঁশবাগান থেকে মাটিচাপা দেওয়া দুইটি সুইসাইড ভেস্ট উদ্ধার করা হয়। পাশেই আরেকটি জায়গায় চারটি বোমা এবং আরেক জায়গায় একটি বোমা পাওয়া গেছে।

মেজর মনির জানান, তল্লাশির এক পর্যায়ে দুপুরে একটি বাড়ির পাশ থেকে ১৪টি ডিনামাইট স্টিক ও বোমা তৈরির ২০টি সার্কিট বোর্ড উদ্ধার করা হয়।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই বাড়ির আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ঝিনাইদহে গত এক মাসের মধ্যে পাঁচটি জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পেল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ২০ এপ্রিল সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামে আব্দুল্লাহ নামে ধর্মান্তরিত এক ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। দুই দিনের অভিযান শেষে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে ২০টি কেমিক্যাল কন্টেইনার, ৬টি বোমা, ৩টি সুইসাইড ভেস্ট, ৯টি সুইসাইড বেল্টসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।

গত ৫ মে মহেশপুর উপজেলায় এক বাড়িতে পুলিশের অভিযানে নব্য জেএমবির দুই জঙ্গি নিহত হয়। আর সদর উপজেলার লেবুতলায় আরেক বাড়িতে পাওয়া যায় ৮টি বোমা ও একটি ৯ এমএম পিস্তল।

এর মধ্যেই ২৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আরেক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। ওই অভিযানে চারজন নিহত হয়; ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র ও সুইসাইড ভেস্ট পাওয়া যায়।

আর সর্বশেষ ১১ মে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক জঙ্গি আস্তানা ঘিরে পুলিশের অভিযানে এক পরিবারের ৫জন নিহত হয়। জঙ্গিদের হামলায় নিহত হয় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী। ওই বাড়ি থেকে ১১টি বোমা ও একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ