নিশ্চিন্ত বিনিয়োগের সুবিধা দেবে ‘লংকাবাংলা নিশ্চিন্ত’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নিশ্চিন্ত বিনিয়োগের সুবিধা দেবে ‘লংকাবাংলা নিশ্চিন্ত’

আমার সঞ্চয় হোক নিশ্চিন্ত- এই শ্লোগানকে ধারণ করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের বিশেষ বিনিয়োগ প্রকল্প ‘লংকাবাংলা নিশ্চিন্ত’। পুঁজিবাজারে যাদের বিনিয়োগের আগ্রহ আছে, কিন্তু মূলধন ও পুঁজিবাজার বিষয়ে জ্ঞান কম তাদের জন্য এই প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছে লংকাবাংলা। এই প্রোডাক্ট গ্রাহকদের কষ্টের সঞ্চয়কে ভালো বিনিয়োগে পরিণত করবে, তৈরি করবে সর্বোচ্চ মুনাফার (Return) সম্ভাবনা। এই প্রকল্পের আওতায় ছোট ছোট মাসিক কিস্তিতে বিনিয়োগ করা যাবে।

Nishchinto

নিশ্চিন্তের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে লংকাবাংলার কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে এই পণ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লংকাবাংলার পুঁজিবাজার কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ার ও লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার কায়েস হাসানসহ প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিশ্চিন্ত পণ্যটির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা একটু নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগ করতে চান, একইসঙ্গে ভালো রিটার্ন আশা করেন তাদের জন্য নিশ্চিন্ত একটি আদর্শ পণ্য। যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী, কিন্তু ঝুঁকি নিতে ভয় পান, তাদের জন্যেও এই পণ্যটি একটি চমৎকার বিকল্প। কারণ লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের রয়েছে একটি দক্ষ রিসার্চ টিম, যারা অর্থনীতি, বিভিন্ন শিল্প খাত ও কোম্পানি সম্পর্কে ভালো খোঁজখবর রাখেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার হচ্ছে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের মতো। যেখানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হোক না কেন, তা জাতীয় গ্রিডে দিয়ে দেওয়া হয়, সেখান থেকে যেখানে যেখানে দরকার সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে যায়। একইভাবে পুঁজিবাজার লাখ লাখ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে একটি গ্রিড বা পাইপলাইনে নিয়ে আসে, সেখানে থেকে এটি বিনিয়োগে পরিণত হয়। যার যার দরকার তারা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে শিল্প-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ করেন। সেখানে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়, উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে, রপ্তানি বাড়ে। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। মানুষের আয় বাড়ে। তারা আরও বেশী করে সঞ্চয় করেন। লংকাবাংলা নিশ্চিন্ত এইভাবে পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্য রাখছেন লংকাবাংলার পুঁজিবাজার কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের সঞ্চয়ের স্কিমগুলোর বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই স্কিমে কোনো ডাইভারসিফিকেশন নেই। কিন্তু লংকাবাংলা নিশ্চিন্তের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ বহুমূখী করণ সম্ভব। পুঁজিবাজারে লংকাবাংলার সেবার মান প্রসারিত করতে আরও একধাপ এগিয়েয়ে নিবে এই পণ্যটি।

এই পণ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রাহক সর্বোচ্চ মুনাফা পেতে পারেন এমন আশাবাদ জানিয়ে নাসির বলেন, সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্য নিয়ে একটি কাঠামোগত পদ্ধতির আওতায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। এই মাসিক বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হারে কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন একজন গ্রাহক।

নাসির চৌধুরী বলেন, লংকাবাংলার হাত ধরেই দেশে ক্রেডিট কার্ড চালু হয়। দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার ব্রোকারেজ সেবা শুরু হয় লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের মাধ্যমে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের এক নাম্বার ব্রোকারেজ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এছাড়া অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টসহ পুঁজিবাজারের সবগুলো জায়গাতেই আমাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। নিশ্চিন্ত প্রোডাক্টটি এতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ার বলেন, এই প্রকল্প ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বাজারে আসতে সহযোগিতা করবে। এই গ্রাহকরাই একদিন হয়ে উঠতে পারেন বাজারের বড় বিনিয়োগকারী।

তিনি বলেন, নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে এ প্রকল্প দিয়ে পুঁজিবাজার থেকে উচ্চ মুনাফা আদায় করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে বিরাজমান দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও অন্য যে কোনো বিনিয়োগের তুলনায় এটি অধিক লাভজনক হবে। কারণ এটি পরিচালনা করার জন্য রয়েছে একটি দক্ষ টিম। ফলে এই পণ্যের মাধ্যমে আপনি পুঁজিবাজারে নিশ্চিন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন।

লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার কায়েস হাসান বলেন, পুঁজিবাজার গতিশীল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে লংকাবাংলা পরিবার। এরই অংশ হিসাবে আমাদের এই পণ্য। এর মাধ্যমে কিছু নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে নিয়ে আসতে চাই।

তিনি বলেন,পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কিছু ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। কিন্তু বিনিয়োগ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। আর আমাদের কর্মীরা রয়েছেন আপনাদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য।

ধন্যবাদ বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হাসান জাবেদ চৌধুরী বলেন, আজ নিশ্চিন্তের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এটি শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। এই সময়ে আমরা গ্রাহকদের ১৯ শতাংশ মুনাফা দিয়েছি। এই ধারা অব্যহত রাখতে চাই আমরা।

তিনি বলেন, আমাদের টিমের দায়বদ্ধতা এবং  বিনিয়োগারীদের আস্থা বাড়াতে আমরা মুনাফা ভাগাভাগির ব্যবস্থা রেখেছি। বছরশেষে ১২ শতাংশের বেশি মুনাফা হলে বাড়তি মুনাফা গ্রাহক ও লংকাবাংলার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে। ধরা যাক, একটি হিসাবে ২০ শতাংশ মুনাফা হয়েছে, সেক্ষেত্রে ১২ শতাংশ বাদ দিয়ে বাকি ৮ শতাংশ সমানভাবে ভাগ করা হবে। সব মিলিয়ে গ্রাহক পাবেন ১৬ শতাংশ (১২+৪) মুনাফা, লংকাবাংলা পাবে ৪ শতাংশ মুনাফা। ফলে আমাদের টিম প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই সর্বোচ্চ মুনাফার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে আগামী দিনে আমরা আরও ভালো কাজ করতে পারবে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি শরীয়াহ প্রোডাক্ট চালু করার কথাও জানান তিনি।

সব শেষে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের রিসার্চ টিমের কর্মকর্তা আহনাফ সাবের প্রোডাক্টটি সম্পর্কে একটি পাওয়ার প্রেজেন্টেশন দেন।

লংকাবাংলা নিশ্চিন্তের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক বণিকবার্তা।

 

লংকাবাংলা নিশ্চিন্তের বৈশিষ্ট্যঃ

# প্রতি মাসে ৩ হাজার, ৫ হাজার অথবা এর গুণিতক অর্থ জমা করে বিনিয়োগ করা যায়।

# ৩, ৫ ও ১০ বছর মেয়াদী বিনিয়োগ হিসাব খোলা যায়।

# মেয়াদ পূর্তির আগেও বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ আছে।

# ন্যুনতম ১২ শতাংশ মুনাফার সম্ভাবনা

# মুনাফা ১২ শতাংশের বেশী হলে বাড়তি মুনাফা সমহারে গ্রাহক ও লংকাবাংলার মধ্যে ভাগ করা হয়।

# বিইএফটিএনের মাধ্যমে প্রতি মাসের কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ আছে, ফলে গ্রাহককে লংকাবাংলায় না এলেও চলবে।

অর্থসূচক/গিয়াস

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ