মিসবাহ-ইউনিসের রাজকীয় বিদায়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মিসবাহ-ইউনিসের রাজকীয় বিদায়

২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ইউনিস খানের। ওই ম্যাচে ২৯ রানে পরাজিত হয়েছিল স্বাগতিকরা। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেছিলেন অভিষেক হওয়া ইউনিস খান।

২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর নিজের সর্বশেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ওই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পায় পাকিস্তান। ওডিআই ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচে মাত্র ৯ রান করেছিলেন ইউনিস।

২০০০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে ইউনিস খানের টেস্ট অভিষেক হয়। ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে পরাজিত হয় পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ব্যাটিং ইনিংসে ১২ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৭ রান করেন ইউনিস খান।

Younis Khan

বিদায়ী ম্যাচ শুরুর আগে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান ইউনিস খান।

গতকাল রোববার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেললেন তিনি। ইউনিসের ওডিআই ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচের মতো টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে পাকিস্তান। তবে ব্যাট হাতে খুব একটা উজ্জ্বল ছিলেন না ওই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের সর্বশেষ টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটিং ইনিংসে ১৮ রান এবং দ্বিতীয় ব্যাটিং ইনিংসে ৩৫ রান করেন তিনি।

অর্থাৎ ওডিআই এবং টেস্ট ক্যারিয়ারে ইউনিসের শুরুটা ভালো না হলেও দুই ফরম্যাট থেকে বিদায় নেওয়ার সময় হাসতে হাসতে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ২৬৫ ওডিআইয়ের ২৫৫ ইনিংসে ব্যাট হাতে ৭টি শতক এবং ৪৮ অর্ধশতকসহ মোট ৭২৪৯ রান করেছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অন্যদিকে ১১৮ টেস্টের ২১১ ইনিংসে ব্যাট হাতে ৩৪টি শতক এবং ৩৩টি অর্ধশতকসহ ১০ হাজার ৯৯ রান করেছেন তিনি।

বর্ণাঢ্য ওডিআই এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের ফাঁকে ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ২৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ইউনিস খান। ২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের আনন্দে মেতেছিলেন তিনি; তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হয়নি।

Younis Khan & Misbah-ul-Haq

নিজেদের ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজ জয়ের পর শিরোপা হাতে ইউনিস খান এবং মিসবাহ-উল-হক।

২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন ইউনিস খান। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও জয়ের আনন্দে ভেসেছেন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ওই ম্যাচে ইউনিসের ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ৫ রান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ২৫ ম্যাচের ২৩ ইনিংসে ২টি অর্ধশতকসহ ৪৪২ রান রয়েছে ইউনিসের।

ইউনিস খানের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরুর এক বছরেরও বেশি সময় পর ক্যারিয়ার শুরু করেন মিসবাহ-উল-হক। ২০০১ সালের ৮ মার্চ টেস্ট অভিষেক হলেও গত ১৬ বছরে মাত্র ৭৫টি টেস্ট খেলেছেন তিনি; যা ইউনিস খানের খেলা টেস্টের দুই-তৃতীয়াংশেরও কম। এর মধ্যে ১৩২ ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫ হাজার ২২২ রান করেন তিনি। ঝুলিতে আছে ১০ শতক এবং ৩৯টি অর্ধশতক।

২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল ওডিআইতে অভিষেক হয় মিসবাহর; ২০১৫ সালের ২০ মার্চ ক্যারিয়ারের শেষ ওডিআই খেলেন তিনি। এর মধ্যে ১৬২ ওডিআইয়ের ১৪৯ ইনিংসে ৪২ অর্ধশতকসহ ৫ হাজার ১২২ রান করেছেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারে কোনো শতক না থাকলেও সর্বোচ্চ ৯৬ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস খেলেছেন তিনি।

Misbah-ul-Haq

বিদায়ী ম্যাচের এক পর্যায়ে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান মিসবাহ-উল-হক।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন মিসবাহ। ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন তিনি। এর মধ্যে ৩৯ ম্যাচে ৩৪ ইনিংসে ৩ অর্ধশতকসহ ৭৮৮ রান রয়েছে তার ঝুলিতে।

ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআইতে জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন মিসবাহ-উল-হক। জয়ের আনন্দে ভেসেছিলেন সে ম্যাচেও। তবে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন না তিনি। মাত্র ২৮ রান করেছিলেন নিজের অভিষেক হওয়া ওডিআইতে। ওডিআই ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মিসবাহর ব্যাট থেকে ২৮ রান আসলেও ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তান।

ওডিআই ক্যারিয়ারের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মিসবাহ। ২০০১ সালের ৮-১২ মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে ২৯৯ রানে জিতেছিল পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ব্যাটিং ইনিংসে ২৮ রান এবং দ্বিতীয় ব্যাটিং ইনিংসে ১০ রান করেছিলেন মিসবাহ। আর গতকাল রোববার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ হওয়া ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে নিজেদের প্রথম ব্যাটিং ইনিংসে ৫৯ রান এবং দ্বিতীয় ব্যাটিং ইনিংসে মাত্র ২ রান করেন তিনি।

Misbah-ul-Haq and Younis Khan

নিজেদের ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজ জয়ের পর ইউনিস খান এবং মিসবাহ-উল-হককে নিয়ে সতীর্থদের উল্লাস।

অনেকটা কাছাকাছি সময়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অভিষেক হওয়ার পর একই ম্যাচ খেলে মাঠের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইউনিস খান এবং মিসবাহ-উল-হক। ক্রিকেটে ইউনিসের ভার বেশি হলেও বয়সে বড় মিসবাহ। ৪৩ বছরে পা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা মিসবাহর সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী সতীর্থ ইউনিসের বন্ধুত্বের রসায়নটাও দারুণ।

ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে দুইজনই পালন করেছেন অধিনায়কের দায়িত্ব। একজন খেলেছেন অন্যজনের নেতৃত্বে। তবে কোনো সময়ের অধিনায়কত্ব নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেনি বলে দাবি করেন মিসবাহ এবং ইউনিস।

দুই ক্রিকেটারকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচ এবং সিরিজ জয় পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেকটা সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন পাকিস্তানের সব খেলোয়াড়। আর সফলও হয়েছেন তারা। বিশ্বের সব কিংবদন্তী খেলোয়াড় কিন্তু এই ধরনের বিদায় নিতে পারে না।

অথর্সূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ