সৃজনশীল সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে পিকেএসএফ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

সৃজনশীল সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে পিকেএসএফ

পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্রবিমোচন এবং মানুষের সম্পদ ও সক্ষমতা বাড়াতে সৃজনশীল নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। বাড়ানো হচ্ছে সেবার পরিধি।

প্রচলিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কুঁচে চাষ, কাকড়া চাষ, টার্কি পাখির খামারের মতো অপ্রচলিত উৎপাদন খাতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠিকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চেষ্টা চলছে নতুন নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির। এর অংশ হিসেবে সংস্থাটি দুম্বা পালন, ভেটকি চাষ ও রূপচাঁদা মাছ চাষের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে। পরীক্ষা পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া গেলে এগুলোর চাষের প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আর অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনজিও) মাধ্যমে আগ্রহীদের জন্য নিশ্চিত করা হবে অর্থায়ন সুবিধা।

আজ রোববার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংস্থার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ জসীম উদ্দিন, গোলাম তৌহিদ, মহাব্যবস্থাপক মোঃ মশিয়ার রহমান, এ. কিউ. এম. গোলাম মাওলা, আকন্দ মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মোঃ জিয়াউদ্দিন ইকবাল তাদের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সভায় ইআরএফের অর্থ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

PKSF-ERF-2মতবিনিময় সভায় ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শুরু থেকেই পিকেএসএফ দারিদ্রবিমোচন ও স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নে কাজ করছে। সময়ের পরিক্রমায় পিকেএসএফের দৃষ্টিভঙ্গী ও অ্যাপ্রোচে পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠিকে স্বাবলম্বী করতে পিকেএসএফ সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদেরকে অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি বলেন, এক সময় ঋণের আদায় হারের ভিত্তিতে সাফল্য-ব্যর্থতা বিবেচনা করা হতো। এখন মূল্যায়নে প্রাধান্য পায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্রবিমোচন ও জীবনমানের উন্নয়ন। বর্তমানে ঋণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের বিষয়েও সহযোগিতা করে থাকেন তারা।

পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন, তারা শুধু স্বাবলম্বী হবার বিষয়ে নয়, গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি সুবিধার বিষয়েও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, পিকেএসএফ বিচ্ছিন্নভাবে শুধু ব্যক্তি নয়, বরং একটি অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান, দারিদ্রবিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। আর প্রতিটি উদ্যোগে বিবেচনায় থাকে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়।

ড. জসীম উদ্দিন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে অনেক মানুষ কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এক সময় সুন্দরবনের নদ-নদী ও খাল থেকে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করে সেগুলো তারা তাদের খামারে লালনপালন করতেন। জীববৈচিত্রের দিক থেকে এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ সমস্যার সমাধানে পিকেএসএফের উদ্যোগে দেশে প্রথম কাঁকড়ার হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। এখন আর সুন্দরবন থেকে কাঁকড়ার পোনা ধরার দরকার নেই। ফলে মানুষের জীবিকা ও পরিবেশ-উভয়ই এখন নিরাপদ।

সংস্থাটির অপর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম তৌহিদ বলেন, পিকেএসএফের সহযোগিতায় গবাদিপশু লালনপালনে ব্যাপক গতি এসেছে। বিলুপ্ত হতে বসা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রবল প্রতাপে ফিরে এসেছে। দেশের কয়েকটি জেলায় এখন ঘরে ঘরে এই ছাগল পোষা হয়।

তিনি বলেন, গত দু’তিন বছরে দেশে গবাদিপশুর লালনপালন অনেক বেড়ে গেছে। তাই প্রতিবেশী দেশ থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাবার পরও এখানে কোরবানির পশুর তেমন কোনো সঙ্কট হচ্ছে না। আগামিতে মাংসের সংকট আরও কমে যাবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ