আটকে গেল বিদেশে ৩ কোম্পানির বিনিয়োগ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আটকে গেল বিদেশে ৩ কোম্পানির বিনিয়োগ

আপাতত আটকে গেল বিদেশে বিনিয়োগে তৎপর ৩ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। কোম্পানিগুলো হলো নিটল-নিলয়, আকিজ জুট মিলস ও হা-মীম গ্রুপ। আজ রোববার সচিবালয়ে ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভা কমিটিতে তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, বিদেশে ৩ কোম্পানির বিনিয়োগে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কোম্পানিগুলোর কাছে আবারও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক তা আবারও পর্যালোচনা করবে। এরপর কেস টু কেস ভিত্তিতে সরকার তা দেখবে। তবে বিদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিদেশে বিনিয়োগে একটা পলিসি করা দরকার বলে উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই ৩ কোম্পানির বিনিয়োগের অর্থ এবং লভ্যাংশ দেশে ফেরত আসার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা না থাকায় তা আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা সুপারিশও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিস্তারিত প্রস্তাবনা না থাকায় ৩ কোম্পানির বিদেশে বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রিজার্ভ পরিস্থিতি, লভ্যাংশ কিভাবে ফেরত আসবে, সেখানে বাংলাদেশিদের কি পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে- এ ব্যাপারে কোম্পানিগুলো বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত প্রস্তাবনা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা পর্যালোচনা করবে। এরপর কেস টু কেস ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হবে।

আজকের বৈঠকে ৩ কোম্পানির বিদেশে বিনিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়া না হওয়াকে সামনে রেখে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সুপারিশমূলক প্রতিবেদন দেয়। এ নিয়ে গত ৭ মে অর্থসূচকে ৩ দেশি কোম্পানির বিদেশে বিনিয়োগ নিয়ে দেশে বিনিয়োগে ভাটা, বিদেশে ছুটছে এক ঝাঁক কোম্পানি  শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি দেশ থেকে উদ্বেগজনক হারে অর্থ পাচারের তথ্য উদ্ঘাটিত হওয়ার পটভূমিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ উপেক্ষা করে ব্যক্তি খাতের ৩টি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানে ব্যাংকিং বিভাগের অতি আগ্রহে টিআইবি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

ওই সময় বিশ্লেষকরা বলেন, যেখানে দেশে বিনিয়োগে ভাটা চলছে, সেখানে বাংলাদেশি টাকা বাইরে বিনিয়োগ কতটা ইতিবাচক হবে সেটা ভাববার বিষয়।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র মতে, নিটল-নিলয়, আকিজ, হা-মীম গ্রুপ তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে দেশের বাইরে বিনিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেছে। এর মধ্যে আকিজ জুট মিলস মালয়েশিয়ায় ২টি কোম্পানি অধিগ্রহণে ২ কোটি মার্কিন ডলার, হাইতিতে একটি তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে হা-মীম গ্রুপ ১ কোটি ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার ও আফ্রিকার গাম্বিয়ায় একটি ব্যাংক (গাম্বিয়া কমার্স অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক লিমিটেড) স্থাপনে নিটল-নিলয় গ্রুপ ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে এই ৩টি ব্যবসায়িক গ্রুপ বিদেশে মোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩০০ কোটি টাকার বেশি।

প্রস্তাবনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারিশে যা ছিল-

এতে বলা হয়, বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যথেষ্ট উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে যা ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। এ তারল্য অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ন্যূনতম স্থানীয় বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ ভাগ হওয়া প্রয়োজন। এ পর্যায়ে স্থানীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত না করে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করা যথাযথ হবে কি-না তা সতর্ক বিবেচনার দাবি রাখে।

“বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত কম। জ্বালানি তেল, মুলধনী যন্ত্রপাতি, ভোগ্যপণ্য আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় কমছে। ইতোমধ্যে রিজার্ভ থেকে ২০০ কোটি ডলার নিয়ে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনে সরকার সায় দিয়েছে। ২৫০ কোটি ডলারের রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরামর্শে আরও বলে, দেশব্যাপী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগের জন্য সুযোগ-সুবিধা প্রদাণকরতঃ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে আহ্বান করা হচ্ছে। বিদেশে মূলধন বিনিয়োগে আগ্রহীদের এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের উন্মুক্ত সুযোগ রায়েছে। এ বিনিয়োগের ফলে এদেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিদেশে বিনিয়োগ করার অনুমতি দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক- তা চিন্তার বিষয়।

বিনিয়োগের জন্য বিদেশে পাঠানো অর্থ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা; বিদেশে আয় করা মুনাফা দেশে আনা; টাকা নিয়ে গেলে তা ফেরত আসবে কি না- সে বিষয়ও বিবেচনায় নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশি ৭টি প্রতিষ্ঠানের দেশের বাইরে বিনিয়োগ রয়েছে। নিটল-নিলয়, আকিজ জুট মিলস ও হা-মীম গ্রুপের লাইনে রয়েছে  প্রাণ-আরএফএল, সামিট, মেঘনা গ্রুপসহ শীর্ষ আরও একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ।

অর্থসূচক/আজম/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ