ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষে চেম্বারে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষে চেম্বারে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই আবেদন জমা দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

তিনি বলেন, ভেজাল, নকলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। বাল্যবিবাহ রোধ, নকলমুক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা ইতিবাচক। ফলে জনস্বার্থ বিবেচনায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টের রায় স্থগিতের জন্য চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আজই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

CTG Mobile Court

চট্টগ্রামের একটি দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, প্রতি বছর রোজা ও ঈদের আগে সারাদেশে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এর নেতিবাচক ফল ভোগ করবে জনগণ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে গত বৃহস্পতিবার ওই রায় দেয় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ। তিনটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টে একসঙ্গে ওই রায় আসে।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম.এস. আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

ওই রায়ের পর এম.এস. আজিম বলেছিলেন, ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারাকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট বলেছে, এই আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থি। ওই আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করে তার ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বলেছে হাইকোর্ট।

মোতাহার হোসেন সাজু বলেছিলেন, আইনটি পুরোটা বাতিল করেনি হাইকোর্ট। যতোগুলো ধারা, উপধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল- সেগুলো অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে কি না- সেটা সরকার ভেবে দেখবে। বিদ্যমান আইনের সংশোধন বা নতুন করে আইন হবে কি না- সে সিদ্ধান্তও সরকারের।

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯ ও ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা ও ১৩ ধারায় আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। আর ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারের ক্ষমতার বিধান রয়েছে।

রায়ের সার-সংক্ষেপে হাইকোর্ট বলেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের এসব ধারা মাসদার হোসেন মামলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক দুইটি স্তম্ভ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। তাই এ ধারাগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হল।

২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে এটিকে আইনে পরিণত করে। এরপর থেকে এটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ নামে পরিচিত।

অর্থসূচক/

এই বিভাগের আরো সংবাদ