নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনের কয়েকটি বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়। ৩টি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

CTG Mobile Court

চট্টগ্রামের একটি দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

দুইটি পৃথক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ বছর আগে এবং আরেকটির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ বছর আগে এ বিষয়ে রুল হয়েছিল। রুলের ওপর গত মার্চে শুনানি শেষে আবেদনগুলো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু ৬ দিনের মাথায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন কামারুজ্জামান। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলে রিট আবেদনকারীর (কামরুজ্জামান) সাজা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়।

আইনজীবী সূত্র জানিয়েছে, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর টয়নবি সার্কুলার রোডের একটি বাড়ির মালিক মো. মজিবুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আইনের বিধান ও অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট করেন মজিবুর। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিন রুলসহ সাজার আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্ট।

এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন আরেকটি রিট করেন। এতে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি সঙ্গে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৮ মে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী হাসান এম.এস. আজিম বলেন, রুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ধারা ৫, ৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০,১১, ১৩ ও ১৫ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। ৩ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া রুল একসঙ্গে শুনানি হয়।

আইনজীবী আজিম বলেন, রিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিচার করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ