'দেশের এক অঞ্চলে দাম নির্ধারণ করে সুফল পাওয়া যাবে না'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘দেশের এক অঞ্চলে দাম নির্ধারণ করে সুফল পাওয়া যাবে না’

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম নির্ধারণের সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল বশর। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ছোলা ও চিনির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্য কোথাও তা করা হয়নি। চট্টগ্রামে কম দামে বিক্রি হলে তা দেশের অন্য প্রান্তে চলে যাবে। ফলে দেশের একটি অঞ্চলে ছোলা-চিনির দাম নির্ধারণ করলে সুফল পাওয়া যাবে না।

খাতুনগঞ্জে অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আবুল বশর। রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সভা আহ্বান করা হয়।

Khatunganj Trade Union

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক।

রমজান উপলক্ষে গত ৪ মে চট্টগ্রামে চিনি ও ছোলার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন। সাধারণ মানের ছোলা প্রতি কেজি পাইকারিতে ৭৫ টাকা; খুচরায় ৮০ টাকা; ভালো মানের অস্ট্রেলিয়ান ছোলা পাইকারিতে ৮০; খুচরায় ৮৫ টাকা; পাইকারি চিনি প্রতি কেজি ৫৮ টাকা এবং খুচরায় ৬৩ টাকায় বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ৫ মে থেকে এই দাম কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ছোলা ও চিনির দামে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় আবুল বশর বলেন, দেশের ভোগ্যপণ্যের মোট চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ খাতুনগঞ্জ থেকে নিয়ন্ত্রিত। এছাড়া ঢাকা থেকে ৬০ শতাংশ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ হয়। শুধু চট্টগ্রামে দাম নির্ধারণ করলে সুফল পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ছোলা ও চিনির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের অন্য কোথাও দেওয়া হয়নি। ফলে চট্টগ্রামে কম দামে বিক্রি হলে তা যদি দেশের অন্য স্থানে চলে যায়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম নির্ধারণের সুযোগ নেই। তবু যদি দাম নির্ধারণ করতে হয়- তবে সারাদেশে মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দাম আমরা মেনে নিয়েছি। যতক্ষণ মজুদ থাকবে- ততক্ষণ ওই দামেই বিক্রি করবো। মজুদ শেষ হলে প্রশাসনকে জানাবো।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম উঠা-নামার কারণে পণ্যের দাম বাড়তে বা কমতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোগ্যপণ্য আমদানির পূর্ণাঙ্গ হিসাব আমরা দিয়েছি। তবে খাতুনগঞ্জ থেকে সারাদেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় বলে দাবি করা হয়। ঢাকা এবং অন্যান্য বিভাগে যদি ৭০ শতাংশ আমদানি হয়- তবে খাতুনগঞ্জ কীভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে?

এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি হয়েছে জানিয়ে আবুল বশর বলেন, গত রমজানে ৯০ টাকায় ছোলা বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে ৭৫-৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির দামও গতবারের তুলনায় কম আছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগির আহমদ বলেন, চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিলেও ঢাকায় এবং দেশের অন্যান্য স্থানে তা করা হয়নি। এখন চট্টগ্রামের চিনি যদি দেশের অন্যান্য স্থানে নেওয়া হয়- তবে চট্টগ্রামেরই বদনাম হবে। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারী দরকার।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর রমজানের আগে ঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ দেয় না ঢাকার মিল মালিকরা। দিনের পর দিন মিল গেটে চিনির জন্য ট্রাক বসে থাকে। এতে প্রতিদিন খরচ বাড়ে; পণ্যের পাইকারি মূল্যে এর প্রভাব পড়ে। সরকারি সুযোগ-‍সুবিধা ভোগ করেও কেন ঠিক সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেয় না- তা খতিয়ে দেখা উচিৎ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মীর আবদুস সালাম, আলমগীর পারভেজ, মহিউদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক আহমদ রশিদ আমু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন, চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলাইমান বাদশা, ডাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি সঞ্জয় দেব খোকন প্রমুখ।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ