পরিত্যক্ত বোতলের টয়লেট বানিয়ে যখন নায়ক!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পরিত্যক্ত বোতলের টয়লেট বানিয়ে যখন নায়ক!

সুপিকপান্ডিয়ান, সন্তোষ, ধিয়ানিথি, রঘুল আর প্রভাহরণ। বয়সে ১৩’র ঘরে থাকা ৫ জন কিশোর তামিলনাড়ুর মানাপারাই ব্লকের কুরুমবাপাট্টি ইউনিয়ন মিডল স্কুলের শিক্ষার্থী। স্কুলের সহপাঠিদের লেগে থাকা অসুখ বিসুখ বেশ চিন্তায় ফেলে দিল তাদের। কারণ খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে এলো স্কুলের শৌচাগার। ওখান থেকেই অসুখ গুলো দলা পাকিয়ে একেকজনের শরীরে উঠে আসছে। শুধু তাই নয়, বাথরুমের পয়োঃপ্রণালীর অবস্থাও ভাল নয় ময়লা জমে জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকেই ছড়াচ্ছিল জীবাণু। বাজার থেকে রেডিমেড ইউরিনাল কেনার সামর্থ্যও নেই স্কুলের। ওই ৫ বন্ধু নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে কম খরচে ইউরিনাল বানিয়ে ওই এলাকার নায়ক বনে গেছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

পরিত্যক্ত জার দিয়েই বানিয়ে ফেললো স্বাস্থ্যসম্মত ইউরিনাল।

ভাবতে ভাবতেই একদিন মাথায় বুদ্ধিটা আসে। ২০ লিটারের পানির জারগুলো দিয়ে নিজেরাই বানিয়ে ফেলবে ইউরিনাল। এক শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু করল তারা। লম্বালম্বিভাবে কেটে, তারপর সেটা ঘষে মেজে রং করে তৈরি হল ইউরিনাল। অল্প খরচে, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে এই ইউরিনাল তৈরি হলো বটে, তবে সমস্যা হল সেই ইউরিনাল ‘সেট’ করা নিয়ে। কারণ টয়লেটে সেগুলি উপযুক্ত পয়োঃপ্রণালীর সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থের দরকার। পাঁচ বন্ধুর উদ্যোগ দেখে এগিয়ে আসলেন অন্য শিক্ষকেরা। স্থানীয় পাইপ ফিটিং মিস্ত্রিরাও সাহায্য করলেন। ফলে ইউরিনালে ফ্লাশের জন্য ইরিগেশন পাইপেরও ব্যবস্থা হল। বাথরুমের দেওয়াল নিজেরাই রং করে নেওয়ার পর তৈরি হল চকচকে বাথরুম। নাম দেওয়া হল, ‘সেফ মোড পিসিং সিস্টেম’।

এ নিয়ে ‘ডিজাইন ফর চেঞ্জ’ নামের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণও করেছিল ওরা।

এখন আশেপাশের স্কুল থেকেও মাঝেমধ্যেই ডাক পড়ে ৫ বন্ধুর। আবদার, তাদের স্কুলেও বানিয়ে দিতে হবে বোতলের ইউরিনাল। পাশাপাশি চলছে সচেতনতার প্রচারও।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ