হঠাৎ বেড়েছে রসুনের দাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

হঠাৎ বেড়েছে রসুনের দাম

রমজান আসতে এখনো প্রায় অর্ধেক মাস বাকি। তার আগেই বাজার চড়া হতে শুরু করেছে। গত কদিন রসুনের পাইকারি বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলে হঠাৎ পণ্যটির দর বেড়েছে। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে বাজারে এক কেজি রসুন ২০ টাকারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও পাইকারি বাজারে চায়না রসুনের দাম ছিল কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২০৫ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই কেজি প্রতি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে। ভারতীয় রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে দেশি রসুন আগের মতোই ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৭ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন রসুন আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে এসেছে ২ হাজার ৬২৬ টন, আগস্টে মাসে ৪ হাজার ৪৩৭ টন, সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৯০৪ টন, অক্টোবরে ৩ হাজার ৫৮১ টন, নভেম্বরে ২ হাজার ২৫৪ টন, ডিসেম্বরে ২ হাজার ৩৯১ টন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩ হাজার ১৯০ টন, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ২৯২ টন, মার্চে ২ হাজার ৪৩ টন ও এপ্রিল মাসে রসুন আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ টন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে রসুনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সোয়া ৫ লাখ টন। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪০ হাজার টন। রমজানে এ চাহিদা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টন হয়। এদিকে বাংলাদেশে সবমিলিয়ে রসুন উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন। বাকি প্রায় ৭৫ হাজার টন বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হয়।

বাজারে চায়না রসুনের দাম বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে খাতুনগঞ্জের সৌমিক ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন অর্থসূচককে বলেন, বাজারে চায়না রসুনের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। তাছাড়া ভারতীয় রসুনের দাম সামান্য বেড়েছে। চায়না রসুনের আমদানি কম থাকায় খাতুনগঞ্জে এই রসুনের সরবরাহ কমে গেছে। তাছাড়া রমজানকে সামনে রেখে বেড়েছে রসুনের চাহিদা।

দেশী রসুনের দর স্থিতিশীল দেখা গেছে। ফাইল ছবি।

তিনি জানান, আমরা যখন রসুন বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য ব্যাংকে এলসি খুলেছিলাম তখন মার্কিন ডলারের দাম কম ছিল। কিন্তু ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে। এতে রসুনের দাম বেড়েছে। এছাড়া রমজানে মানুষের চাহিদা বাড়ার কারণে রসুনের দাম বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমেদ বলেন, সরবরাহ কম থাকায় কয়েক দিনের ব্যবধানে চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে। বাজারে দেশিসহ আরও কয়েকটি জাতের রসুন থাকলেও চীনা রসুনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আদাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

খাতুনগঞ্জের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে রসুনের দাম বাড়ানোর পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছেন। কিছু আমদানিকারক এই রসুন আমদানি করছেন। তবে চায়না রসুনের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত থেকে আনা রসুনের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন আমদানিকারকেরা।

আর রসুনসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটারিং এর দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ