'আমেজহীন' এফবিসিসিআই নির্বাচনে উপঢৌকনের ছড়াছড়ি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘আমেজহীন’ এফবিসিসিআই নির্বাচনে উপঢৌকনের ছড়াছড়ি

সভাপতি প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নির্বাচনের আমেজ হারিয়েছে অনেক আগেই। তার ওপর চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৮ জন প্রার্থীকে মনোনীত করায় জৌলুস হারিয়েছে এই নির্বাচন। তবে আমেজহীন এই নির্বাচনকে ঘিরে  উপঢৌকনের ছড়াছড়ি চলছে বেশ জাকালোভাবেই।

এফবিসিসিআইয়ের লোগো

এফবিসিসিআই নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোটারই মনে করছেন, অন্যান্যবারের মতো এবারও সরকার সমর্থিত প্যানেলই বিজয়ী হবে।

তবে বিজয়ী যে প্যানেলই হোক অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের প্রত্যেক ভোটারের কাছে নানা ধরণের পুরস্কার আর উপঢৌকন নিয়ে হাজির হচ্ছেন পরিচালক প্রার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাউন্ড সিস্টেম, ডিনার সেট, জায়নামাজ, তজবি, প্লেটসহ নানা উপঢৌকন দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। এ জন্য রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই চলছে নানা ধরণের সভা-সেমিনার  আর মতবিনিময়।

বাংলাদেশ স্টার্চ অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রাকিবুল ইসলাম। এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটার তিনি। এফবিসিসিআই নির্বাচন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এই তরুণ ভোটার। তিনি অর্থসূচককে বলেন, এবারই প্রথম কোনো নির্বাচনে আমি ভোট দেবো। নির্বাচন উপলক্ষে বেশকিছু উপহার পেয়েছি। প্রার্থীদের কাছ থেকে ডিনার সেট, কয়েক প্যাকেট মিষ্টি এবং শুভেচ্ছাকার্ড পেয়েছি।

বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. বশির আহমেদ বাবুল বলেন, এফবিসিসিআই নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়ে থাকেন। অন্যান্য বছর এই নির্বাচনকে ঘিরে  যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবার সেখানে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৮ জন প্রার্থী মনোনিত হয়ে যাওয়ার কারণে এবার নির্বাচন হবে শুধু অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের মধ্যে। তাই আমেজ অনেকটা কমেছে।

তিনি বলেন, এবার প্রচুর পরিমাণে উপঢৌকন দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বাংলাদেশ জেমস স্টোন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ওয়াদুদ খান বলেন, আগের চেয়ে এখন এফবিসিসিআই নির্বাচন অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। এখন আর সভাপতি নির্বাচন হয় না। সভাপতি পদে নির্বাচন হলে নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হতো।

তিনি বলেন, এখন তো নির্বাচনের আগেই ফলাফল জানা যায়। তাই নির্বাচনে আর আমেজ থাকে না।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগের চেয়ে এবার নির্বাচনের আমেজ অনেক কমেছে। কেননা চেম্বার গ্রুপ থেকে ১৮ জন সিলেকশন হয়েছেন। সভাপতি পদে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। নির্বাচন হবে শুধু অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে। যেখানে আগে থেকেই বলা যায় যে, সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদ থেকেই বেশিরভাগ প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।

তিনি বলেন, এবার প্রার্থীরা অনেক পুরস্কার দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম, ডিনার সেট, জায়নামাজ, তজবি, প্লেটসহ নানা রকম পুরস্কার।

তবে এবারের নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। বাংলাদেশ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জামসেদুল হক বলেন, এবার নির্বাচন পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন আসছে।  আগের বছরগুলোতে মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ভোট দেওয়া আমাদের জন্য ঝামেলাপূর্ণ ছিল। তবে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। যেখানে আমরা স্বাচ্ছন্দে ভোট দিতে পারবো।

বাংলাদেশ চশমা শিল্প বনিক সমিতির সভাপতি সানাউল্লাহ খান বলেন, নির্বাচনের  প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক ভালো। এছাড়া এবার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন স্বচ্ছ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ, এফবিসিসিআই হলো পণ্যভিত্তিক ৩৮০টি ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ৮১টি চেম্বারের যৌথ সংগঠন। এসব ব্যবসায়ী সংগঠনের মনোনীত সদস্যরা ভোট দিয়ে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক নির্বাচন করেন।

অবশ্য ১২টি করে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত পরিচালক হন। পরিচালকেরা ভোট দিয়ে সভাপতি ও দুই সহসভাপতি নির্বাচন করেন। চেম্বারে ভোটার সংখ্যা ৪৫৪ জন এবং অ্যাসোসিয়েশনে ভোটার ১ হাজার ৮৮৭ জন।

১৪ মে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেম্বারের ১৮টি পদে বৈধ পরিচালক প্রার্থী ছিলেন ৩৪ জন। তাদের মধ্যে ১৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাই চেম্বার গ্রুপে ভোট না হলেও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৮টি পরিচালক পদে সম্মিলিত গণতান্ত্রিক পরিষদ ও ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম থেকে পরিচালক প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে।

অর্থসূচক/মেহেদী/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ