নতুন ভ্যাট আইনে ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বাড়বে না: এনবিআর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নতুন ভ্যাট আইনে ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বাড়বে না: এনবিআর

নতুন ভ্যাট আইনের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বাড়বে না বলে মনে করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর বলছে, ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আজ সোমবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নতুন ভ্যাট আইন (মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২) বাস্তবায়ন বিষয়ক আলোচনা সভায় এনবিআরের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়।

এনবিআর সদস্য ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল হাসান বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে খরচ বাড়বে না। জীবনযাত্রার মানে এর কোনো ঋণাত্মক চাপ তৈরি হবে না।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান আইনে ১৫টি সেবা ও প্রায় ৭০টি পণ্য ব্যতীত সকল ক্ষেত্রে ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য। ১৫% ভ্যাট নতুন নয়। ১৫টি সেবায় সংকুচিত ভিত্তিমূল্য ও প্রায় ৭০টি পণ্যে ট্যারিফ ভ্যালুর কারণে বিক্রয় পর্যায়ে কম ভ্যাট দিতে হলেও ক্রয় পর্যায়ে পরিশোধিত ১৫% ভ্যাট ফেরত পাওয়া যায় না। ফলে ভ্যাট বেশি হয়। যারা বিক্রিতে ১৫% ভ্যাট দেন তারা আগে কেনার সময় পরিশোধিত ১৫% ভ্যাট ফেরত পান। ফলে তাদের শুধু সংযোজনের ওপর ভ্যাট দিতে হয়। সব কিছু “সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি)” বিক্রি হবে বলে নীট ভ্যাটের আপতন কমে যাবে (১৩.০৪%); যা বর্তমানে ১৫% বা তার বেশি (সংকুচিত ভিত্তিমূল্য বিশিষ্ট সেবা ও ট্যারিফ ভ্যালুর পণ্য উদাহরণ)।

NBR

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে নতুন ভ্যাট আইন (মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২) বাস্তবায়ন বিষয়ক আলোচনা সভা।

নতুন ভ্যাট আইনের কারণে ব্যবসায়ের প্রতিপালন খরচ (কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস) বাড়বে কি-না সম্প্রতি এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেন, ব্যবসায়ের প্রতিপালন খরচ অনেক কমবে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সব কাজ অনলাইনে ঘরে বসে করা যাবে। শুনানি ব্যতীত কোনো কাজের জন্যই ভ্যাট অফিসে যেতে হবে না। হয়রানি কমবে, সময় বাঁচবে, ব্যবসায়ের খরচ কমে যাবে। অনলাইনে সব কাজ হওয়ার কারণে সবকিছুই হবে ‘তাৎক্ষণিক’ ভিত্তিতে। আবেদন সঠিকভাবে দাখিল হলে সাথে সাথেই কাজ হয়ে যাবে। ভুল আবেদন দাখিলই করা যাবে না। এখন একজন করদাতাকে সপ্তাহে অন্তত ৩দিন ভ্যাট অফিসে যেতে হয়। নতুন আইনে যেতে হবে না বিধায় খরচ হ্রাস পাবে।

নতুন ভ্যাট আইনের কারণে ব্যবসায়ের তথাকথিত হয়রানি বাড়বে কি-না তার জবাবে তিনি বলেন, সব কাজ অনলাইনে হবে বিধায় হয়রানির কোনো সুযোগ থাকবে না।

করদাতারা সব কাজ অনলাইনে করার মতো অবস্থায় আছে কি? এর জবাবে তিনি বলেন, যারা ব্যবসা করেন তারা দ্রুত শিখতে পারেন। তা ছাড়া তাদের সহায়তার জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কল সেন্টার ১৬৫৫৫, ডেডিকেটেড ভ্যাট ই-লার্নিং সেন্টার, এলাকাভিত্তিক ১২টি ভ্যাট অনলাইন সেবা কেন্দ্র থাকবে; যেখান থেকে করদাতারা হাতে নাতে শিখতে ও কাজ করতে পারবেন। সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার করদাতা কাগুজে কপি দাখিল করলে এখানে তা ডিজিটাইজ করা হবে।

আবাসন খাতে নতুন ভ্যাটের প্রভাব পড়বে, এ খাত ধ্বংস হয়ে যাবে- সম্প্রতি এ খাতে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তার জবাবে রেজাউল হাসান বলেন, আবাসন খাতে ভ্যাট হ্রাস পাবে। কারণ বর্তমানে ভূমি বিক্রিতে ভ্যাট আছে। নতুন আইনে তা সম্পূর্ণ অব্যাহতিপ্রাপ্ত।

তিনি বলেন, নির্মাণ সংস্থায় (যেমন সরকারি নির্মাণ) বর্তমানে ৬% ভ্যাট। উপকরণে দেন ১৫%। মোট ভ্যাট বেশি হয়। নতুন আইনে নির্মাণে ১৫% দিলেও ২৫% গড় সংযোজনে ২.২৫% নীট ভ্যাট হবে যা ৬% হতে অনেক কম। এখাতে ভ্যাট কমবে।

গরীবের ওপর ভ্যাটের চাপ বাড়বে এ বিভ্রান্তির জবাবে তিনি বলেন, চাপ বাড়বে না। গরীবের ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এ ধারা নতুন আইনেও অব্যাহত থাকবে। বরং হিসাবভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে জনগণের পরিশোধিত মূসক সরকারি কোষাগারে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বিধায় সরকার গরীবের জন্য বেশি অর্থ বরাদ্দ করতে পারবে।

প্যাকেজ ভ্যাট প্রদানকারীকে বেশি ভ্যাট দিতে হবে কি-না এর জবাবে তিনি বলেন, না বেশি ভ্যাট দিতে হবে না। বর্তমানে যারা বছরে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন তাদের জন্য তথাকথিত প্যাকেজ ভ্যাট (আইনগত টার্ম নয়) নামক থোক ভ্যাট প্রযোজ্য। নতুন আইনে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলে তার জন্য কোনো কর প্রযোজ্য নয়। ফলে নতুন আইনে দাতার সুবিধা আরো বিস্তৃত করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দীন আহমেদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন যে ভ্যাট আইন চালু হচ্ছে তা বর্তমান আইনকে স্বচ্ছ, আধুনিকায়ন ও জবাবদিহি করছে। এ আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ দেখছি না।

তিনি বলেন, যারা সৎ উদ্যোক্তা, সৎ ব্যবসায়ী এবং যারা নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করেন তাদেরও আতঙ্কিত হবার কারণ নেই। নতুন ভ্যাট আইনের কারণে পণ্য মূল্যের খরচ বাড়বে না।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, অনেক সময় আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা সম্বলিত এ আইন নিয়ে অপব্যাখ্যা হয়। সব সময় এর জবাব দিতে গেলে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন রাজনৈতিক নির্দেশনা মোতাবেক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা নতুন এ আইন নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান ও সহায়তা করবেন বলে আশা করি।

অর্থসূচক/রহমত/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ