মুসার বিরুদ্ধে ৩ মামলা হচ্ছে: শুল্ক গোয়েন্দা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মুসার বিরুদ্ধে ৩ মামলা হচ্ছে: শুল্ক গোয়েন্দা

বিলাসবহুল গাড়িতে শুল্ক ফাঁকি, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মাণ হওয়ায় কথিত ধনকুবের ড. মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

আজ রোববার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তরে ২ ঘণ্টা প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অপরদিকে; জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণমাধ্যমের কাছে লিখিত বক্তব্যে প্রিন্স মুসা শুল্ক ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ৯ মাস ধরে অসুস্থ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। আমার বাকশক্তি লোপ পেয়েছে।’

শুল্ক গোয়েন্দার প্রধান কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের ও তার বহর।

এর আগে ২টা ৫৫ মিনিটে শুল্ক গোয়েন্দার তলবে শুল্ক গোয়েন্দার সদরদপ্তরে হাজির হন মুসা। ৫ আইনজীবী, দুই নারীসহ ৩০ দেহরক্ষীর বিশাল বহর নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দায় আসেন তিনি।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক এইচ এম শরিফুল হাসানের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দুই ঘণ্টা মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে মুসা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন।

ড. মইনুল খান বলেন, ‘আমরা ২১ মার্চ গুলশানে প্রিন্স মুসা থেকে একটি রেঞ্জ রোভার উদ্ধার করি। সেই গাড়ির তদন্ত সূত্রে ২০ এপ্রিল মুসাকে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে সমন দিয়েছিলাম। তিনি অসুস্থতার কারণে সেদিন উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে সময় দিয়ে আজকে হাজির হতে নোটিশ দিয়েছি। তিনি নোটিশে আজকে হাজির হয়েছেন। তদন্ত কমিটি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গভীরভাবে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য শুনেছেন।’

তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে মুসা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য ও প্রমাণ তদন্ত কমিটির কাছে রয়েছে তাতে প্রতীয়মান হয়েছে শুল্ক আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী। কারণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় যে গাড়ি আনা হয়েছে এখানে যে শর্ত ছিল তা পরিপালন করা হয়নি। এবং এর থেকে যে আর্থিক সুবিধা মুসা গ্রহণ করেছেন সেটা আইনের চোখে সুস্পষ্ট অনিয়ম।’

মইনুল খান আরও বলেন, ‘মুসার আজকের বক্তব্য ও তার লিখিত কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। তবে তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে যে প্রমাণাদি পেয়েছে তাতে তিনটি আইন প্রযোজ্য মর্মে তারা জানিয়েছেন। এ গাড়িতে দুর্নীতি হয়েছে। কারণ ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোলা বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন নেয়া হয়েছে। যে বিল অব এন্ট্রি দেখানো হয়েছে মাত্র ১৭ লাখ টাকা ট্যাক্স পরিশোধ করে গাড়ি ছাড় করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাড়িটি ২০১০ সালে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এসেছে। এতে ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এখানে বিআরটিএ এক শ্রেণির কর্মচারী এ রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা এক ধরনের দুর্নীতি করেছেন। যেহেতু দুর্নীতি দমন আইনে অপরাধ সেজন্য বিষয়টি তদন্তের জন্য আমরা দুদককে অনুরোধ করবো।’

তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিং হয়েছে বলে তদন্ত দলের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ গাড়িটি ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এসেছেন। মুসা স্বীকার করেছেন মাত্র ৫০ লাখ টাকায় গাড়িটি কিনেছেন। যে ৫০ লাখ টাকায় গাড়ি কিনেছেন, সে টাকা দেশে নেই। ফরিদ কবির নামে একজন ব্রিটিশ বংশোভূত গাড়িটি এনেছেন। গাড়ি বিক্রি করে তিনি টাকা নিয়ে দেশ থেকে চলে গেছে। অর্থাৎ ৫০ লাখ টাকা দেশ থেকে পাচার বা মানি লন্ডারিং হয়েছে। এর সাথে কারা কারা জড়িত ও সহযোগী কারা তার তদন্ত করা হবে।’

শুল্ক আইনে মামলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়িতে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে। শুল্ক আদায়ের জন্য এবং গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার জন্য একটি মামলা হবে। এ তিন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অচিরেই তা করা হবে। শুল্ক গোয়েন্দা যে অভিযান পরিচালনা করছে, তাতে শুধু গাড়ি সেক্টর নয়, যেকোন সেক্টরে অপরাধ কমিয়ে ও শৃংখলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

মুসা শুল্ক আইনে প্রধান আসামী, মানি লন্ডারিং মামলায় সহযোগী আসামী ও দুনীর্তি আইনে তদন্ত স্বাপেক্ষে আসামী করা হবে বলেও জানিয়েছেন ড. মইনুল খান। আত্মপক্ষ সমর্থন করলেও তদন্ত কমিটির কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে এ মামলা করা হবে।

অর্থসূচক/রহমত/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ