পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তিনগুন

পেঁয়াজ

Onion_2হরতাল আর অবরোধের অজুহাতে গেল ১৩ দিনে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তিনগুনেরও বেশী । পাইকারি বাজারের ৪০ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকায়। আর খুচরা বাজারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকার মতো । যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পেঁয়াজ মজুদ করে দাম বাড়ানো হয়েছে এমন তথ্য পেয়ে খাতুনগ্ঞ্জ বাজার তদারকি  করতে গেলে  ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন।

ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা এবং চায়না পেঁয়াজ ৩৯ টাকা কেজি দরে আমদানি করা হলেও শুধুমাত্র পরিবহন খরচের নামে তিনগুন বেশী দাম নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এদিকে ৩৯ টাকা দরে চায়না পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়, এর ফলে তার পরিবহন খরচ কম হওয়ায় এই এই পেঁয়াজের দাম কম হওয়ার কথা। কথা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

তবে ব্যবসায়ীরা চাহিদার সাথে যোগানের স্বল্পতাকে দায়ী করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত  জেলা ম্যাজিষ্টেট মো. সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে  পেঁয়াজের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি  তদারকি করতে দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে  প্রবেশ করে ভ্রাম্যমান আদালত । ব্যবসায়ীদের কাছে ক্রয়ের সাথে বিক্রির পার্থক্য জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারে নি । এসময় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের উর্ধ্বমুখী কারণ হিসাবে পরিবহন খরচ ও আমদানি দাম বৃদ্ধির কারনণকে দায়ী করলেও বিক্রি,আমদানি ও চালান রশিদ দেখাতে পারেনি তারা। চালাল, আমদানি মূল্য ও বিক্রি মূল্য দেখাতে না পারায়  ভ্রম্যমান আদালত এক ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জারিমানা করায় সকল ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নেমে ম্যাজিস্টেটকে সামনে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। এসময় ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়ে ফিরে আসে ভ্রাম্যমান আদালত।

অতিরিক্ত  জেলা ম্যাজিষ্টেট মো. সাইদুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, পেঁয়াজ মজুদ আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বাজার তদারকি করতে আসি। পেঁয়াজের আমদানি ও বিক্রির মধ্যে পার্থক্য জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা কোনো কাগজ পত্র দেখাতে পারে নি। ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গত মাসের ২৬ তারিখে অবরোধের আগে যে ভারতীয় পেঁয়াজ ছিল  ৪৫ থেকে ৫০ টাকা তা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা । পাকিস্তানি পেঁয়াজ গেল ১৩ দিন আগে যেখানে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১১০ টাকারও বেশী। এদিকে নতুন চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়।  তবে খুচরা বাজারে তা কেজি প্রতি বিক্রি হয় আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভে।

খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৩ দিনের  মধ্যে  ১১ দিনই হরতাল কিংবা অবরোধ থাকায়  মহাসড়কে যানবাহন  ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের  ঘটনা ঘটে। ফলে ট্রাকভাড়া ৪০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ হয়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে । যেখানে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টন পেঁয়াজের চাহিদা থাকে  সেখানে গেল ১৩ দিনে গড়ে ১০০ টন পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে খাতুনগঞ্জ বাজারে। গেল চার মাস ধরে পেয়াঁজের দাম বাড়ায়  ট্রেড কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’র (টিসিবি) মাধ্যমে আমদানি, ভারতের বিকল্প বাজার হিসাবে মিয়ানমার, পাকিস্তান ও চীনের বাজার থেকে আমদানি করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল পেয়াঁজের দামে। কিন্তু লাগাতার হরতাল ও অবরোধের কারনে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।  দু সপ্তাহ ব্যবধানে তা আবারও বেড়ে যায় ।

খাতুনগঞ্জ বাজারের মেসার্স মোহাম্মদীয়া ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী ও ব্যবসায়ী নেতা মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগর অর্থসূচককে বলেন, বিগত ৩৮ বছর ধরে পেয়াঁজের এমন উর্ধ্বমূখী দাম কখনো হয়নি ।  হরতাল  ও অবরোধের কারনে ট্রাকভাড়া তিনগুনেরও বেশী বেড়ে গেছে। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে অবরোদ হরতাল না থাকলে দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে চলে আসবে।

কাজীর দেউড়ি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জ বাজারে পেয়াঁজ পর্যাপ্ত না থাকায় আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে । এখন আমরা ভারতীয় পেয়াজ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।