অনিয়ন্ত্রিত বাজার; বেড়েছে চাল-চিনি-সবজির দাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অনিয়ন্ত্রিত বাজার; বেড়েছে চাল-চিনি-সবজির দাম

চলতি মাসের শেষের দিকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। এখনও তিন সপ্তাহ বাকি। তবে রমজানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই বাড়তে শুরু করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ছোলা, চিনি ও চলের দামসহ কাঁচা পণ্যের দাম বেশ বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বরাবরই বিভিন্ন কারণ দেখালেও সেগুলো মানতে নারাজ ক্রেতারা। তারা বলছেন, বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা অযুহাতে দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দাম বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তারা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, চিনি, ডাল ও সবিজর দাম কেজিতে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন।

Rice

চাল

বাজার বিশ্লেষণ ও ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৪-৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন চাল এবং সারাদেশে বৃষ্টিপাতের অযুহাতে চালের দাম গত দুই সপ্তাহ আগে এক দফা বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহে আরেক দফা বাড়ানো হলো।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল কেজি প্রতি ৩ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে, পারিজা চাল ৪৪-৪৫ টাকা, মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৬-৫৭ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৩-৫৪ টাকা, বিআর২৮ ৪৮-৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা ও উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫৬ টাকা।

এছাড়া পাইজাম চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৮-৫০ টাকা, বাসমতি ৫৬ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬-৭৮ টাকা, হাস্কি নাজির চাল ৪১ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তহ ধরেই মুদি পণ্যের দাম ঊর্দ্ধমুখী। তবে আজকের বাজারে ছোলা ও ডালের দাম নতুন করে এক ধাপ বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া ছোলা আজকের বাজারে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুগ ডালের দাম গত সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বাড়ার পর আজকের বাজারে আরও ৫ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা দরে; ভারতীয় মুগ ডাল ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫ টাকা ও ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চিনির দাম কেজিতে প্রায় ৫-৮ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া চিনি আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭২-৭৩ টাকা দরে। গত কয়েক সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন। দেশি রসুন আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এছাড়া ভারতীয় রসুন কেজিতে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

Bazar

রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে ছবিটি তুলেছেন মহুবার রহমান

গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের ভোজ্য তেল। আজকের বাজারে ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ থেকে ১০৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লবণ কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৩৮ টাকায়; দারুচিনি ১০ বেড়ে ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হাতিরপুল বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান হৃদয় অর্থসূচককে বলেন, পাইকারি বাজার থেকে সব ধরনের পণ্য বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যারে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।

পাইকারি থেকে শুরু করে যেকোনো স্তরে দাম বাড়লে তার ভার পরে সাধারণ ক্রেতাদের উপর। তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে দাম বাড়ায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে আসা বেসরকারি কর্মকর্তা রহিম শিকদার বলেন, সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকলে বাজারের দৈন্যদশা চলবে।  যে যার মতো লুট করে নিচ্ছে। আমাদের তাই-ই মেনে নিতে হচ্ছে।

এদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের সবজির দাম ৫-১০ টাকা হারে বেড়েছে। টমেটো কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, সাদা বেগুন ৬০-৭০ টাকা, কালো বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, শশা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৩০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

২০ টাকা বেড়ে প্রতিটি ফুলকপি ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি আলু ২০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০-১৮০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৬০০ টাকা।

এছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ১৮০, দেশি মুরগি ৪০০, পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ